জনসাধারণে প্রশংসিত এসপি হারুন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২৯ পিএম, ৬ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

জনসাধারণে প্রশংসিত এসপি হারুন

জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধানে কঠোর অ্যাকশনে যান তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে তিনি ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। তার অ্যাকশন থেকে রেহাই পায়নি কেউই। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বড় বড় রাঘব বোয়ালরাও হারুন অর রশিদের অ্যাকশনে আটকা পড়ে যান। দিন দিন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও অ্যাকশনের মাত্র না কমিয়ে বরং বাড়িয়েই চলেছেন। সেই সাথে বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকান্ডও চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে হারুন অর রশিদের এই ভূমিকায় জনসাধারণে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জবাসী তাকে হিরোর আসনে বসিয়ে দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথমদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে হারুন অর রশিদ যোগদান করেন। সে সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলায় তাকে নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে গত ১০ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ চাঁদাবাজি, ভূমিদুস্য, মাদক ব্যবসা ও ফুটপাথ দখলমুক্তকরণ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। আর সেই ঘোষণার লক্ষ্যে তিনি দিন দিন সম্মুখপানে এগিয়ে চলছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের ওই ঘোষণার পরই গত ২০ জানুয়ারীয় ফতুল্লা থানার ১০ নম্বর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারন সম্পাদক মীর হোসেন মীরুকে গ্রেফতার করা হয়। যার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। যদিও বর্তমানে মীর হোসেন মীরু জামিনে রয়েছে। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারী মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না এবং বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে কামরুল হাসান মুন্না শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পরবর্তীতে একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে গত ২৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থিত নেতা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি করেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মো: মঞ্জুর কাদের। এরপরই গত ১ এপ্রিল রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় মেরি এন্ডারসনে মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ঘটনায় ক্রীড়া সংগঠক তানভীর আহমেদ টিটুকে জড়ানো হয়। যিনি শামীম ওসমানের শ্যালক।

আর এসকল ঘটনায় ক্রমশই উত্তাপ ছড়ায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের দিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিতে থাকেন। সেই সাথে শামীম ওসমান আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন। তবে এসকল ঘটনা ছাপিয়ে যায় গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ওই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান ও পুলিশ সুপার হারুণ অর রশিদ এক টেবিলে বসে খাওয়া ধাওয়া করেন। ফলে শামীম ওসমানের সাথে হারুন অর রশিদের উত্তপ্ত সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়ে আসে।

তারপরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ থেমে যাননি। গত ১৮ এপ্রিল নগরীর পাইকপাড়া থেকে একটি চাঁদাবাজি মামলায় ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। যিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। আব্দুল করিম বাবুকে গ্রেফতারের পরপরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়। আর এসকল মামলায় তাকে অনেকদিন কারাবরণ করতে হয়।

তবে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের এই অ্যাকশন থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছিলেন বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত জাতীয় পার্টি নেতা আল জয়নাল। যার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানার একজন এএসআইকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে জয়নালের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ভূমিদূস্যতার অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত গত ২৪ এপ্রিল শহরের এস এম মালেহ রোডে বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি হারুন অর রশিদ এসব রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতারের পাশাপাশি যানজট প্রতিরোধেও কাজ করে যান। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকার আশেপাশে অবৈধ দোকানপাট ও অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্ট্যান্ড সড়িয়ে দেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডে অবৈধভাবে ইউটার্ণগুলো বন্দ করে দেন। গত ২২ মে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) বাস চালু করা হয়। আর এটা নিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পরিবহণ মালিকরা আপত্তি জানান। তাদের লোকেরা বিআরটিসি বাস কাউন্টার ভাঙচুর করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ সুপার হারুণ অর রশিদও কঠোর হুশিয়ারীতে সকলেই সতর্ক হয়ে যান। সেই সাথে বাস কাউন্টারগুলোও বসিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে ঈদুর ফিতর উপলক্ষ্যে সারা নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়েই পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়। ঈদকে ঘিরে সরব হওয়া অনেক ছিনতাকারী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ফলশ্রুতিতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদুল ফিতরে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক কমে যায়। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে পুলিশের ছুটিও বাতিল করা হয়।

সর্বশেষ গত ১ জুন এবারই প্রথম নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের উদ্যোগে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অসহায় গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়। ঈদ বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ যারা গরিব কষ্ট করে দিনযাপন করে তাদের জন্য কষ্টের লাঘব হবে। আমরা এই কারণে গরীব মানুষের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করছি। আমরা মনে করি আমাদের পুলিশ সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আবার পাশাপাপশি যারা গরিব তাদের পক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করবে। প্রতি বছরই আমরা গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াই। শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণ করি। ঈদ উপলক্ষে যাদের কাপড় নেই তাদের মাঝে কাপড় বিতরণ করছি। হয়তো আমরা সবাই দিতে পারবো না। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

এসপি হারুনের এসকল ভূমিকায় নারায়ণগঞ্জবাসী দিন দিন উচ্চ আসনে বসাতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, হারুন অর রশিদের মতো এসপিই আমদের দরকার। দেশের প্রত্যেক জেলায় হারুনের মতো এসপি হলে অপরাধীদের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। অপরাধীদের যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক না কেন তিনি কাউকেই ছাড় দিচ্ছেন না। আর এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও