ধর্ষণের পৈশাচিকতায় বাড়ছে নৈতিক অবক্ষয়

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ৯ জুন ২০১৯ রবিবার

ছবি প্রতিকী
ছবি প্রতিকী

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে গণধর্ষণের ঘটনা। পৈশাচিকতা ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মত ঘটনার তথ্য প্রকাশ্যে উঠে আসছে। পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলেও এসব ঘটনার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছেনা।

১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।

সদর উপজেলার ফতুল্লায় ঈদের ছুটিতে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে এসে গার্মেন্টকর্মী তরুণীকে গণধর্ষণের পর আটকে রেখে মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় ওই বান্ধবী ও আরো একজন যুবককে আটক এবং বন্ধু সহ ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে। রোববার দুপুরে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও গার্মেন্টকর্মীর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার গার্মেন্টকর্মী তরুণী (১৮) ঈদের ছুটিতে শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ আরাফাত নগরে মৌসুমী নামের বান্ধবীর বাড়িতে বন্ধু শামীমকে সঙ্গে করে বেড়াতে আসে। সেদিন সন্ধার পর তিনজন মিলে ফতুল্লার বক্তাবলীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ঘুরতে যায়। ওই সময়ে ৬ থেকে ৭জন তাদেরকে আটক করে বক্তাবলীতে একটি ইটভাটায় নিয়ে শামীমকে আটকে রেখে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তবে সঙ্গে থাকা বান্ধবী মৌসুমী ছিল অক্ষত। পরে ধর্ষকেরা তরুণীকে মৌসুমীর বাড়িতে আটক করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৪০হাজার টাকা দাবি করে। এতে গার্মেন্টকর্মীর মা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডির সূত্রধরে রোববার দুপুরে মৌসুমীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে সহ আরো এক যুবককে আটক করে। উদ্ধার করা হয় তরুণী ও তার বন্ধু শামীমকে।

১ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বন্ধুদের আটকে রেখে দুইজন হোসিয়ারী শ্রমিককে গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টায় বন্দর উপজেলার আইছতলা এলাকাতে ওই গণধর্ষণের ঘটনার পর রোববার দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বরাত দিয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার (১ জুন) বিকেলে দুই বান্ধবী তাদের দুই বন্ধু রিয়াদ (২০) ও জয়নালের (২০) সঙ্গে উপজেলার সাবদী এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখান থেকে  রাত ৯টায় বাসায় ফেরার পথে ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাত যুবক এসে রিয়াদ ও জয়নালকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ওই যুবকেরা দুই বান্ধবীকে জোর করে একটি ফসলের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে আরো ৭ থেকে ৮জন যুবক মিলে পালাক্রমে দুই বন্ধবীকে ধর্ষণ করে। ওইসময় দুই বান্ধবীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জানালে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে রায়হান, শাহিন ও নিজাম নামে তিন যুবককে আটক করে। তবে ওইসময় অন্য যুবকেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রাতেই দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক কিশোরী বাদি হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে। আর ওই মামলায় আটক ৬ যুবককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়াও পলাতক অন্য আসমিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা নৈতিক অবক্ষয়কে বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ ধর্ষণের মত নিন্দনীয় ঘটনায় ধর্ষিতা শুধু নিজেই বিপর্যস্ত হয়না বরং তার সাথে সাথে তার পুরো পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা বিপর্যস্ত হন। আর তাতে করে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও