বিশুদ্ধ পানির সমস্যা সমাধান ছাড়াই সরলো ওয়াসার ট্যাংক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ১০ জুন ২০১৯ সোমবার

বিশুদ্ধ পানির সমস্যা সমাধান ছাড়াই সরলো ওয়াসার ট্যাংক

পবিত্র মাহে রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফুটপাতে আর দেখা যাচ্ছে না ঢাকা ওয়াসা কৃর্তক অস্থায়ী ভাবে দেওয়া বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক। আর তাই প্রশ্ন উঠেছে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা কি সমাধান হয়ে গেছে?। আর বিশুদ্ধ পানি সহ গভীর নলকূপের উপর ধার্য করের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগে হয়রানি বন্ধে ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ ও ‘ওয়াসা হঠাও সংগ্রাম কমিটি’ এর আন্দোলনের ঘোষণা কি শিথিল করা হয়েছে? এমন প্রশ্ন নগর জুড়েই।

১০ জুন সোমবার সকাল থেকেই ছিল তীব্র রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। সকাল থেকে রোদের তাপে গলা শুকিয়েছে বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের। তৃষ্ণা মিটাতে ডাবের পানি, লেবুর শরবত সহ ঠান্ডা পানীয় খোঁজে নিয়েছে সবাই। তবে নিম্ন শ্রেনির মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

রিকশা চালক আজগর আলী বলেন, ‘রিকশা চালালে প্রচুর পরিমাণ ঘাম ঝড়ে। তাই রিকশার সিটের নিচে স্যালাইন গুলিয়ে রাখি। একটু পর পর স্যালাইন খাই। না হলে অসুস্থ হয়ে পড়ি।’

তিনি বলেন, রমজান মাসে পানির তেমন কোন সমস্যা ছিল না। চাষাঢ়া মোড়, সাংবাদিক ইউনিয়নের সামনে, ডিআইটি সহ বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে ফুটপাতের বিভিন্ন জায়গায় ছিল বিশুদ্ধ পানি। ইফতারের সময় ছাড়াও পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে। এখন নেই তাই বিভিন্ন মসজিদ খোঁজে নিতে হয় আর সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। তাছাড়া সব মসিজদে বিশুদ্ধ পানি তাকে না সাপ্লাইয়ের পানি। ওই কোন কোন সময় গন্ধ না থাকলেও ময়লা আসে তাই পান করা যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর চাষাঢ়া, ডনচেম্বার, আমলাপাড়া, খানপুর, গলাচিপা, উকিলপাড়া, নন্দিপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। ওয়াসার পানি পাওয়া গেলেও সেই পানি পান করার উপযোগি না। আবার কোথাও কোথাও ওয়াসার পানিতে দূর্গন্ধ ও কালো। সেজন্য কোন কাজেই সে পানি ব্যবহার করা যায় না। আর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসিয়েছেন। আর সেই পানি দিয়ে নিজের পাশাপাশি আশে পাশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। তবে এ গভীর নলকূপের জন্যও ওয়াসার পক্ষ থেকে কর দাবি করা হচ্ছে। আর এ করের জন্য বিভিন্ন বাসা বাড়ির মালিকের কাছে গিয়ে প্রায়ই ওয়াসার কর্মকর্তারা নোটিশ কিংবা মৌখিক ভাবে বলে আসছেন। আর কারো কারো সঙ্গে খারাপ আচরণও করছেন। আর এসবের জন্য রমজানের শুরুতে আন্দোলনের ডাক দেয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ ও ‘ওয়াসা হঠাও সংগ্রাম কমিটি’।

আন্দোলনের নেতারা হুশিয়ারী দেন, রমজান মাস জুড়ে যদি বিশুদ্ধ পানি না পাওয়া যায় তাহলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলন করা হবে। আর ওয়াসার সাপ্লাইকৃত দোষিত পানি কর্মকর্তাদের খাওয়ানোরও হুমকি দেয়া হয়।

ওই আন্দোলনের পরই রমজান মাস জুড়ে রোজাদার মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটাতে বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে ফুটপাতে অস্থায়ী ট্যাংক দিয়ে পানির ব্যবস্থা করা হয়। যা টানা রমজান মাস জুড়েই ছিল। যেখান থেকে সকাল বিকেল মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করেছে। অজু সহ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করে রোজায় পান করেছে। তবে সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে সেইসব অস্থায়ী বিশুদ্ধ পানির ট্যাংকগুলো নেই। আর তাই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন করা হয়,‘বিশুদ্ধ পানির সমস্যা কি শেষ?

চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানের বিক্রেতা রাসেল বলেন, ঈদের আগের দিন রাতেই ওয়াসার কর্মকর্তারা এসে গাড়িতে করে ট্যাংকগুলো উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এর পর থেকে আর দেখা যায়নি। তবে এ বিষয়ে তারা কাউকে কিছু বলেনি।

তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা শেষ হয়নি। অনেক মানুষ পানির খোঁজ করে। বিশেষ করে রিকশাওয়ালা, সিএনজি চালক, দিনমজুর যারা আছে তারাই বেশি খোজ করে। অনেকে মার্কেটের ভেতর থেকে পানি আনতে পারে আবার অনেকে পারে না। কারণ দাঁড়োয়ান দেয় না, পানি থাকে না, কিংবা পানিতে গন্ধ বের হয়।

চাষাঢ়া বাগে জন্নাত মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়েন ফারুক। তিনি বলেন, মসজিদ থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাদের পানি প্রয়োজন হয় নেয়। তাছাড়া স্কুল মাঠেও পানির ব্যবস্থা আছে। ওইটা সময় মতো পানি পায়। আর এতেই বুঝা যায় বিশুদ্ধ পানির সমস্যা শেষ হয়নি।

‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি নুরুউদ্দিন বলেন, পানি সমস্যা এখনও আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও