এসপি হারুনের তদারকিতে অন্যরকম ঈদ নারায়ণগঞ্জবাসীর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৬ পিএম, ১১ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

এসপি হারুনের তদারকিতে অন্যরকম ঈদ নারায়ণগঞ্জবাসীর

পবিত্র ঈদ উল ফিতরের ছুটি শেষে আবারো চিরচেনা রূপে ফিরে এসেছে নগরী। কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে বন্দর নগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে চলছে জীবন যাত্রা। আর এ ঈদ আনন্দ উদযাপনে যাত্রা পথ থেকে শুরু করে নগরী ফেরা পর্যন্ত যাদের অবদান ছিল সেটা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের নিরসল পরিশ্রম ও নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জে বড় কোন দুর্ঘটনা কিংবা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ ভাবে ঈদ উদযাপন করেছে নগরবাসী। কিন্তু সেই নগরবাসীকেই উল্টো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।

১১ জুন মঙ্গলবার বিকেলে এসপি হারুন অর রশিদের পক্ষে এক ক্ষুদে ধন্যবাদ বার্তায় জানানো হয়, পবিত্র রোজার মাস এবং ঈদ উল ফিতরের ঈদ জামাত সহ সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সড়ক ও মহাসড়কে যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করেছে এবং জনগনের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে তা বিভিন্ন সংবাদ আকারে পরিবেশন করে নারায়ণগঞ্জবাসী সহ দেশের সকল মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন। এজন্য সকলকে ধন্যবাদ।

জানা গেছে, রমজান মাস জুড়েই নগরীর যানজট নিরসন, নিরাপত্তা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেছে  জেলা পুলিশ। ফলে রমজান মাস জুড়ে নগরীতে তীব্র যানজট দেখা যায়নি। তবে এ রমজান মাস জুড়ে সব থেকে উল্লেখযোগ্য অভিযান ছিল নগরে বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক ছিনতাইকারী, পকেট মার ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। ফলে কোথাও শোনা যায়নি ঈদের মার্কেটিং করতে এসে টাকা সহ মূল্যবান জিনিপত্র ছিনতাই হওয়ার ঘটনা কিংবা পকেট কেটে নেয়া কিংবা অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে পরে থাকতে। শুধু তাই নয় নগরীবাসীর সুবিধার্থে এবারই প্রথম মোটরসাইকেল ভ্রাম্যমাণ পুলিশ টিম প্রতিটি থানায় চালু করা হয়। যারা সমস্যা শোনার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে সমাধান করেছে। তাছাড়া নগরবাসীর সুবিধার্থে ঘরমুখো মানুষের যান চলাচল অবাধ রাখতে মহাসড়কের অভিযান চালিয়ে পরিবহন চাঁদাবাজা থেকে শুরু করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করেছে। ফলে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও পরিবহন থেকে চাঁদা নেওয়ার দুর্ভোগেও পড়তে হয়।

এবারই প্রথম দেখা যায় জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মধ্যে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করতে। এছাড়াও মানুষের নিরাপত্তা ও ঈদ যাত্রা সফল করতে পুলিশের ছুটিও বাতিল করা হয়। ফলে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান সহ আত্মীয় স্বজন ছেড়ে রাস্তায় ঈদ করে পুলিশের কর্মকর্তারা।

শুধু যে ঈদ যাত্রা কিংবা ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা নয় ঈদের দিনও কঠোর নিরাপত্তা দিয়েছে পুলিশ। বিগত বছরের তুলনায় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সব থেকে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আর ঈদ জামাতকে ঘীরে নগরবাসী মধ্যে বিভিন্ন শঙ্কা দেখা দেয়। তব সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার ফলে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ও তল্লাশী করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ঈদ জামাত শেষ হয়। তবে নগরবাসী যখন ঈদের নামাজ আদায় করেন তখনও কঠোর ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন পুলিশ সদস্যরা।

প্রসঙ্গত বিগত দিনের তুলনায় পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজা, ভূমিদুস্য, যানজট সহ বিভিন্ন ইস্যুতে। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামীলীগ নেতা সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের গ্রেফতার করেছেন বিভিন্ন অপরাধে। এ ধারা অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন এসপি হারুন অর রশিদ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও