বেপরোয়া মটরসাইকেল ‘মামলা না দিলে এরা সোজা হবে না’

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৩ পিএম, ১৭ জুন ২০১৯ সোমবার

বেপরোয়া মটরসাইকেল ‘মামলা না দিলে এরা সোজা হবে না’

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং ফুটপাত দখল মুক্ত করার জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহীদ মিনারের আশেপাশে ফুটপাতে বসানো অবৈধ পার্কিং ও হকার সরানো হয়। তবে ফুটপাত থেকে হকারমুক্ত করা গেলেও মটরসাইকেলের অবৈধ পার্কিং থেকে মুক্তি মিলছে না। বাইক চালকদের বেপরোয়া স্বভাবের কারণে যত্রতত্র পার্কিং করে শহরবাসীর চলাচলের পথ ও শহীদ মিনারকে অবজ্ঞা করে চলছে প্রতিনিয়ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ প্রশাসনের অ্যাকশনের পর শহরের ফুটপাত একেবারেই ফাঁকা। পথচারীরা অবাধে পার হচ্ছেন রাস্তায়। নেই অযাচিত ভিড় কিংবা যানজট। তবে মাঝে মাঝেই দেখা যায় ফুটপাতের অর্ধেক জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে কোন এক ব্যক্তির পার্কিং করে রাখা মোটরবাইক। বিশেষ করে শহরের মার্ক টাওয়ার এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এদের আধিক্য দেখা মেলে।

একই অবস্থা শহরের চাষাঢা শহীদ মিনারেও। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় যেখানে মিনারের আশেপাশে চা সিগারেটের দোকান উঠিয়ে দেয়া হয়েছে সেখানে গোটা দশেক মোটরবাইক খোদ মিনারের অভ্যন্তরেই রেখে দেয়া হয়েছে। বাদ যায়নি ১৬ জুন চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত বেদীটিও। মাত্র একদিন পূর্বেই যেই বেদী নিয়ে এত আলোচনা নারায়ণগঞ্জ জুড়ে, সেখানে মোটরবাইক রেখে প্রকাশ্য অবমাননা করা হচ্ছে। এ ব্যাপার নিয়ে না কেউ কিছু বলছেন না তাদের নিষেধ করার জন্য তাগিদ দেয়ার মত কেউ রয়েছেন।

শহরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মোবাশ্বির নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, শহীদ মিনারকে এসকল অবিবেচক বাইক চালকেরা পার্কিং স্পেস বানিয়ে ফেলেছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার নিউজ প্রকাশিত হলেও ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা নাসিক কিংবা পুলিশ প্রশাসন। শহীদ মিনারে পুলিশ বসে থেকে কেবল হাওয়া খায়, কোন কাজের কাজ হয় না এদের দিয়ে। একই অবস্থা শহরের ফুটপাত জুড়ে। নো পার্কিং সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও এরা তা উপেক্ষা করে বাইক পার্কিং করে রেখেছে চালকেরা।

শহরের চাষাঢ়ায় মার্ক টাওয়ারের ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, এসকল মোটরবাইকের অবৈধ পার্কিং এর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া প্রয়োজন। ২য় বার না শুধরালে জব্দ করা উচিৎ প্রশাসনের। এদের যন্ত্রনায় রাস্তায় হাটা যায় না। অনুরোধ করলে উল্টো কথা শোনানোর স্পর্ধা দেখায়। অনতিবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা প্রয়োজন।

উল্লে¬খ্য, গত বছর শহীদ মিনারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ পার্কিং করা চালকদের জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। সেসময়ে কিছুদিন পার্কিং বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবারও তা চালু হয়। শহরের বাসিন্দাদের দাবী অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত অবৈধ পার্কিং এর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করলে কমে আসবে এদের দৌরাত্ব।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও