ফুটপাত ছেড়েছে হকার, সড়ক ছাড়েনি গাড়ি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ১৯ জুন ২০১৯ বুধবার

ফুটপাত ছেড়েছে হকার, সড়ক ছাড়েনি গাড়ি

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নোটিশ বিহীন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট উচ্ছেদ অভিযানে এখন একেবারেই ফাঁকা শহরের ফুটপাত। অভিযানের পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো এসপির কারণ ফুটপাতে হকারদের বসতে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে একেবারে উল্টো অবস্থা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে। দরিদ্র হকাররা ফুটপাত ছেড়ে দিলেও সড়ক ছাড়ছে না প্রাইভেটকার মালিকেরা। অ্যাকশনেও অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধ হচ্ছে না। এসপির এ্যকশনেও এসব প্রাইভেটকার মালিকদের ড্যামকেয়ার ভাব।

গাজীপুর থেকে বদলি হয়ে নারায়ণগঞ্জে আসার পর এসপি হারুণ অর রশিদের প্রথম বক্তব্যই ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর অবাধ চলাচলের জন্য ফুটপাত দখল মুক্ত করা এবং সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। বক্তব্য অনুযায়ি নারায়ণগঞ্জে আসার মাত্র ছয় মাসেই বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।

গত ১৫ জুন কোনো নোটিশ ছাড়াই সর্বশেষ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অভিযান শেষে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ঈদের পরে আমাদের কাজটি হচ্ছে চাষাড়া থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের ডানে বামে যেন হকার বসতে না পারে। সে লক্ষ্যে আমরা চাষাঢ়া থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত পায়ে হেটে ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছি। আমরা চাই সাধারণ মানুষ যেন পায়ে হেটে চলাচল করতে পারে। নিজেরা হেটে দেখলাম কতটুকু সময় লাগে। হাটলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। আমরা শহরবাসীকে হেটে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে চাই। চাষাঢ়া থেকে ১নং গেইট পর্যন্ত হেটে মাত্র ৫ মিনিট লাগে। আমরা সেই লক্ষেই কাজ করছি।

এসপির একদিনের অ্যাকশনেই ফাঁকা হয়ে গেছে ফুটপাত। কোনো ঝামেলা ছাড়াই এখন ফুটপাতে চলাচল করতে পারছেন সাধারণ মানুষ। তবে সড়কে অবৈধ ভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং বন্ধ হচ্ছে না।

সড়কের উপর অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কিংকারীদের কাছেও রয়েছে যুক্তি। তাদের দাবি শহরের মার্কেটগুলোতে কোনো পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় তাদের বাধ্য হয়েই সড়কের উপর গাড়ি পার্ক করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে মোটর সাইকেল চালক সিফাত খন্দকার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু হাসপাতালের সামনে কোনো পার্কিং এর জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ফুটপাতের উপরেই পার্ক করতে হয়েছে। আমাদের জন্য যদি জায়গার ব্যবস্থা না করে দেওয়া হয় তাহলে উচ্ছেদ কের লাভ কি। আমাদের উচ্ছেদ করবে আমাদের পরে যারা আসবে তারা এসে এখানেই পার্ক করবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাত রুমন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নির্দেশনা দেওয়া আছে, সড়কের পাশে নোটিশ দেওয়া আছে যে পার্কিং করা যাবে না। তার পরেও মানুষ গাড়ি পার্ক করছে। মানুষের সচেতন হতে হবে। এছাড়া আমাদের ট্রাফিক পুলিশদের বলা আছে তাঁরা নিয়মিত মামলা দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মার্কেটগুলোতেদ পার্কিং ব্যবস্থা নাই এই ব্যপারে আমাদের বলার কিছু নাই। রোডের উপর গাড়ি থাকলে সাইনবোর্ড দেওয়া আছে ‘নো পার্কিং’ তাহলে ট্রাফিক আইনে মামরা করা হবে। এই অভিযান চলমান থাকবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও