জ্বিন তাড়ানোর কথা বলে যুবতীকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:১০ পিএম, ২০ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

জ্বিন তাড়ানোর কথা বলে যুবতীকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জ্বিন তাড়ানোর কথা বলে এক যুবতীকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভন্ড কবিরাজ দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার কবিরাজ দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে কবিরাজের নির্যাতনে যুবতীর মৃত্যু হয়। নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) ঢাকার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে।

গ্রেফতারকৃত ভণ্ড কবিরাজ ফারুক মিজমিজি চৌধুরীপাড়া বিল্লালের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও আব্দুল মতিনের ছেলে।

মামলার এজহারের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতরের ২-৩ দিন পর হতে শাহনাজ আক্তার শিখা তার মাকে প্রায়ই কোন কিছু মনে থাকেনা বলে জানায়। পরবর্তীতে তার অবস্থা অবনতি দেখে চিকিৎসার জন্য ১৫ জুন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। ওষুধ খাওয়ানোর একদিন পর মানসিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সামনে যাকে পাকে তাকেই মারধর করে শাহানাজ। পরে প্রতিবেশীদের পরামর্শে ১৬ জুন লোক মারফত কবিরাজ ফারুক হোসেনকে বাসায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। শাহনাজকে দেখে জ্বিনের আছর করেছে বলে এক সপ্তাহের কবিরাজী চিকিৎসায় সে ভালো হবে শাহনাজের পরিবারকে জানিয়ে দশ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করে। একদিন চিকিৎসা চালিয়ে উন্নতি না হওয়ায় নিজ বাসায় নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেয় কবিরাজ ফারুক। তার কথামত ১৮ জুন সন্ধ্যায় কবিরাজের বাসায় পাঠাতে রাজি হয় শাহনাজের পরিবার। নিজের বাসায় নিয়ে কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন কবিরাজি চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন চালায় শাহনাজের উপর। প্রথমে শাহনাজকে ঝাডু দ্বারা পেটানো হয়। পরে হাত ও পায়ের আঙ্গুল মোচড়ানো হয়। এতে শাহনাজ চিৎকার করলে তার গলায় এবং বুকে পা দিয়ে চেপে ধরে জ্বিনকে চলে যেতে বলে ভন্ড কবিরাজ দম্পতি। নির্যাতনে শাহনাজ দুর্বল হয়ে পড়লে তার বিশ্রামের প্রয়োজন বলে পরিবারকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় কবিরাজ। বুধবার রাতে শাহনাজের অবস্থা খারাপ জানিয়ে পরিবারকে ফোন করা হলে তারা কবিরাজের বাসায় গিয়ে শাহনাজের মৃতদেহ ফ্লোরে চাদর মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়।

নিহতের মা সুরাইয়া বেগম অভিযোগ করেন, মানুষিক ভাবে অসুস্থ ছিল শিখা। তাকে ডাক্তার দেখানো পর সমস্যা সমাধান না হওয়ায়। আশেপাশের লোকজনের কথা মত এক আত্মীয় মাধ্যমে ভন্ড কবিরাজ সাথে সাক্ষাত করলে তাকে জ্বিনে ধরেছে বলে দশ হাজার টাকা নেয় ভালো করে দেয়ার আশ্বাসে। পরে চিকিৎসার নামে তিনদিন তাকে হাত পা বেধে শারীরিক নির্যাতন করার এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এই হত্যায় ভন্ড করিবাজ দম্পতির বিচার দাবি করেন তিনি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও