ফুটপাত দখলে নির্মাণ সামগ্রী, প্রভাবশালীদের ভয়ে চুপ জনপ্রতিনিধিরাও

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৯ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার

ফুটপাত দখলে নির্মাণ সামগ্রী, প্রভাবশালীদের ভয়ে চুপ জনপ্রতিনিধিরাও

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় যততত্র ফেলে রাখা হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী। আর এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ পথচারী সহ পরিবহনের যাত্রীরা। কিন্তু এসবে নেই কর্তৃপক্ষের কোন কঠোর পদক্ষেপ। অবিলম্বে এসব ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পথচারীরা।

২৬ জুন বুধবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর ডাক বাংলোর মোড় থেকে গর্ভমেন্ট গালর্স স্কুল পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এর মধ্যে গর্ভমেন্ট গালর্স স্কুল, আদর্শ স্কুল, এরিবস সহ দুটি আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী চলাফেরা করেন।

কিন্তু এ সড়কের অক্টো অফিস চাবাও খাবার হোটেলের সামনে বালু ও ইট ফেলে ফুটপাত দখল করে রেখেছে। ফলে রাস্তায় যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ পথচারীরা। প্রভাবশালীদের বাড়ি নির্মাণ সামগ্রী হওয়ায় প্রতিবাদ করতেও সহাস করেন না স্থানীয়রা। এজন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাসিন্দা ও পথচারীরা।

এ দৃশ্য শুধু জামতলা এলাকায় নয়। একই রয়েছে আল্লামা ইকবাল রোড, গলাচিপা, কলেজ রোড, আমলাপাড়া, চাষাঢ়া, খানপুর, ডনচেম্বার, কালীরবাজার, নিতাইগঞ্জ সহ শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে রয়েছে একই অবস্থা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন, কয়েক মাস ধরে এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে নির্মাণের শুরুর আগে থেকেই নির্মাণ সামগ্রী এনের কখনো রাস্তার মধ্যে আবার কখনো ফুটপাতের উপরে ফেলে রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইট, বালু, রড সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। এগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা কয়েক সপ্তাহ ধরে পড়ে থাকলেও কোন খোঁজ থাকে না। মানুষও কষ্ট করেই যাতায়ত করে। কার এতো সাহস আছে এসব প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলবে। তবে মাঝে মধ্যে পথচারীরা গালমন্দ করে কিন্তু তাদের সঙ্গে উল্টো খারাপ ব্যবহার করে ভবনেরর ঠিকাদার ও শ্রমিকেরা।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানোন হয়েছে। তিনি বলেছেন দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন। তবে এখনও পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত সব থেকে বেশি কষ্ট করছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

তৌসিফ আহমেদ বলেন, ভবন করার জন্য পথ ও ফুটপাত দুটা দখল করে ক্ষ্যান্ত হয় না। এরা ড্রেনে মধ্যে ময়লা আবর্জনা, ইট বালু সিমেন্ট ফেলে ড্রেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে করে যখনই বৃষ্টি হয় তখনই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আর বৃষ্টি না থাকলেও পানি সরতেও সময় লেগে যায়। এজন্য সিটি করপোরেশন সহ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবেই এসব দখল বন্ধ হবে।

এর আগে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী সোহেল জানায়, বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির জন্য নির্মাণাধীন ভবনের ঠিকাদার ও শ্রমিক সহ মালিকেরা দায়ী। কারণ তারা তাদের ভবন নির্মাণের জন্য রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রাখেন। সেগুলো ড্রেনে গিয়ে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আর বৃষ্টি না হলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আর বৃষ্টি হলে হাটু সমান পানি জমে যায়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও