ডিএনডি প্রকল্প : কাজ শেষ হয়েছে ৩৩ ভাগ বাড়বে ব্যয়

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৬ পিএম, ২ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা তথা ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতা দূরীকারণ প্রকল্পের কাজ ১০০ ভাগের মধ্যে ৩৩ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ও ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) সংশ্লিষ্টরা। তবে এ কাজের ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অসচেতনতা, অধিগ্রহণে বাধা, প্রকল্পের ম্যাপ অনুযায়ী কাজ না করতে পারা সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোর কাজে সহযোগীতার ধীরগতিকেও দায়ি করেন তারা। তবে সকলে এক সঙ্গে সহযোগিতা করলে প্রকল্পের জুন ২০২০ এর আগেই শেষ করা সম্ভব বলে জানান তারা।

মঙ্গলবার ২ জুলাই নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলাপকালে কর্মকর্তারা এসব জানান।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ডিএনডি প্রকল্পের কাজ যেকোন প্রকল্পের থেকে খুব চ্যালেঞ্জিং। মূলত এখানে ডাম্পিং নেই, খালগুলোর নিচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুতের, ওয়াসার সহ বিভিন্ন লাইন রয়েছে। যার জন্য পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও উচ্চ আদালত থেকে ২৬জন অবৈধ স্থাপনার মালিক স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছে। এ ২৬ জনের জন্য ২২ লাখ লোকের সমস্যা হচ্ছে। আমরা এসব কিছুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএনডি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এর মেয়াদ শেষে হবে আগামী জুন ২০২০ সালে। এর মধ্যে কাজ শুরু হওয়া পর এখনও পর্যন্ত ৩৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত যেকাজ হয়েছে তাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। আমরা সেইভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও এ কাজের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার যে ব্যয় ধরা হয়েছে সেটাও বাড়বে।’

তিনি আরো জানান, ডিএনডি প্রকল্পের অধীনে ৯৪ কিলোমিটার খালের মধ্যে ১৭ কিলোমিটার খাল পরিস্কার পরও স্থানীয় এলাকাবাসী সেখানে আবারও ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলেছে। এর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আরো সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এ উন্নয়ন মানুষের উপকারে আসবে না।

তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণ প্রকল্পের কাজ আধুনিক ভাবে করা হচ্ছে। ফলে আমরা যে পিলারগুলা বাসিয়েছি। সেগুলো ভবিষ্যতে উঠিয়ে ফেললেও আমরা তার সহজেই খুঁজে পাবো। তবে শ্যামপুরের দিকে জমি অধিগ্রহণের জন্য ম্যাপের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এজন্য কাজে সময় লাগছে।

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অসহযোগিতাকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর ৬ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় বিভিন্ন সংগঠনের উপস্থিতিতে সিদ্ধন্ত হয় ডিএনডির প্রকল্পের জন্য সবাই সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত হলেও তিতাস কোম্পানি শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত তেমন কোন সহযোগিতা করছেন না। বরং তাদের লাইন সরিয়ে না নেওয়ায় কাজে ধীর গতি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিমরাইলে ২০০ কিউসিকের ৬টি ও আদমজীতে ৭টি পানি নিষ্কাশন পাম্প বসানো হবে। এছাড়াও ফতুল্লা, শ্যামপুর ও পাগলা এলাকায় ১০ কিউসেকের ২৪টি পাম্প বসানো হবে। আর এসব পাম্পগুলোর স্থাপনার কাজ ইতোমধ্যে শেষে হয়েছে। আগামী ডিম্বেরের আগেই সব কাজ শেষ হবে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমরা এক কাজ বার বার করতে হচ্ছে। যেমন ১৭ কিলোমিটার খাল পরিস্কার করে এসেছি কিন্তু বাসিন্দারা সেখানে ময়লা ফেলে আবার ভরাট করে ফেলেছে। তাই এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে বুঝাতে হবে। না হলে জলাবদ্ধতা কখনো শেষ হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও