স্টার জলসা দেখে অনেক নারী বয়ফ্রেন্ড তৈরি করে সপে দিচ্ছে : মিতালী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫৯ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯ শনিবার

স্টার জলসা দেখে অনেক নারী বয়ফ্রেন্ড তৈরি করে সপে দিচ্ছে : মিতালী

নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার সচিব কামরুজ্জামান মিতালী বলেন, আমি শুধুমাত্র ধর্ষকদের দোষারোপ করব না, যারা ধর্ষিতা তাদেরও দোষারোপ করবো। সবাই ধর্ষিতা না। কেউ হয়তো চাকরির জন্য বাইরে যাচ্ছে ফেরার সময় রাত হয়ে যাচ্ছে আর তখন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এখানে ধর্ষিতার দোষ নেই। এখানে ধর্ষকের দোষ। কারণ এসব ধর্ষকের মানসিক সমস্যা আছে। একজন গরিব মহিলা অন্যের বাসায় কাজ করতে যাচ্ছে বাচ্চাকে রেখে। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে পাশের বাসায় থাকা লোক। হতে পারে সে রিকশা চালক অথবা সিএনজি চালক, হতে পারে সে মাদক সেবী। তারা সুযোগটি নিয়ে নিচ্ছে। এই মহিলাকেও কর্মের জন্য ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। আর কিছু কিছু মেয়ে আছে তারা সারাদিন ঘরে বসে স্টার জলসা দেখছে। আর এসব টিভি চ্যানেলগুলো দেখে নিজের লাইফটাকে ওদের সাথে মিলিয়ে এমন কিছু বয়ফ্রেন্ড তারা তৈরী করে যাদের কাছে নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় দান করে। মহিলা সংস্থার কাছে আসা বিচারগুলো যখন দেখি তখন অবাক হয়ে যাই। এরা নিজেরাই নিজেদেরকে নষ্ট করে ফেলছে। তখন না যাচ্ছে আইনের কাছে না আমরা তাদের আইনের কাছে পাঠাতে পারছি। তখন তাদের লোক লজ্জা, সমাজ কি বলবে, মানুষ কি বলবে এই সব ভেবে বাবা-মা এসে ধামাচাপা দেয়। পারিবারিক ভাবে তারা এটার সমাধান করার চেষ্টা করে। এতে কি হচ্ছে, ধর্ষকের আরো সাহস বাড়ছে। সে এক নারীকে রেখে আবার আরেকটা নারীর সঙ্গে প্রেম করছে। একই ভাবে সেই নারীকেও ধর্ষণ করছে। এটা এমন ভাবে বাড়ছে যে দিনদিন মহামারি আকার ধারণ করছে।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়গুলোর যে কমিটি হচ্ছে তাতে একজন মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষক থাকলে তার কমিটির সভাপতি থাকছে আন্ডার মেট্রিক (এসএসসি পাসের নিচে)। এসব সভাপতি একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষার কি সুব্যবস্থা করবে?। এসব লোকদের দ্বারাই মেয়েরা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তাই এখানে পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষিতদের কমিটিতে রাখতে হবে।

১৩ জুলাই শনিবার বেলা ১১ টায় নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটনেট কর্তৃক আয়োজিত ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বৃদ্ধি, প্রতিকার ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। চাষাঢ়া প্রেসিডেন্ট রোড এলাকার নিউজ নারায়ণগঞ্জ অফিসে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোরের এডিটর ইন চিফ শাহজাহান শামীমের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুমন রেজা, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, সময়ের নারায়ণগঞ্জের সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েল, আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি ও নিউজ নারায়ণগঞ্জের হেড অব নিউজ শরীফ সুমন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি আনোয়ার বলেছেন, ইদানিং নারী শিশু ধর্ষনের হার অত্যাধিক বেড়ে গেছে। এই ধর্ষনের সাথে স্কুল শিক্ষক মাদ্রাসা শিক্ষক সহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ জড়িত। এমনকি প্রশাসনের কেউ কেউ এই অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, যেই মাদ্রাসায় দ্বীন আলেম শিক্ষার জন্য বাচ্চাদের প্রেরণ করা হয় সেই মাদ্রাসার শিক্ষকরাই এই অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে বলতে পারি আমাদের কাছ থেকে সুস্থ বিনোদন সরে গেছে। সিনেমা নাটকে শিক্ষনীয় বিষয়ের চাইতে যৌন উত্তেজনা তৈরি করা হয়। বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে যৌন আবেদন মূলক অনুষ্ঠান দেখানো হয় আর মানুষ তার প্রতি বেশী আকৃষ্ট হচ্ছে। একইভাবে পরিবারের সন্তানদের যথাযথ নৈতিক শিক্ষা ও সাবধানতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া কমে গেছে। ফলে ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে ভালো সাইটের পরিবর্তে খারাপ সাইটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা যেসকল ছাত্রীদের ধর্ষণ করে সেগুলোর অধিকাংশই কোচিং বা ব্যাচ এ সংঘটিত হয়ে থাকে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোচিং এ পাঠিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করে। এই সকল কোচিং এ সরকার ও প্রশাসনের যাতে নজর থাকে সেই প্রত্যাশা কামনা করছি। একই সাথে আমাদের দায়িত্ব পরিবারের সাথে সময় দেয়া। নিজেরা বিভিন্ন কাজে কর্মে বেশি ব্যস্ত থাকায় আমরা সময় কম দেই পরিবারকে আর সেই সুযোগে আমাদের সন্তানেরা বিপথে যাচ্ছে অথবা কোন প্রলোভনে পা দিচ্ছে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করা।

স্কুলগুলোতে যৌন নির্যাতন বন্ধ করার জন্য তিনি বলেন, স্কুলগুলোকে প্রশাসনের নজরদারিতে আনা উচিত। একই সাথে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাস্ত রাখার জন্য খেলাধুলার উপর জোর প্রদান করা এবং সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদের উচিৎ ছাত্রছাত্রীকে কোচিং ক্লাসে ব্যাস্ত না রেখে সন্তান কি পড়াশোনা করছে সেদিকে লক্ষ রাখা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনা বন্ধের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কঠোর হতে হবে। শিক্ষক অপকর্ম করলে ম্যানেজিং কমিটি তাকে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করবে। যেই পেশায় যেই থাকুক তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। মসজিদ মাদ্রাসা কিংবা মন্দিরের ঘটনায় কাকে দোষ দেয়া যাবে? এইসব বিষয়ে আমাদেরকেই সচেতন ও খোঁজ খবর রাখতে হবে। মহিলা সংস্থা, কিংবা মহিলা পরিষদ এদের সচেষ্ট হতে হবে। নিজেদের সন্তানদের সাথে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে। সন্তানের সাথে কোন শিক্ষক ভালো বা খারাপ ব্যবহার করেছে সেসব খোঁজ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের জেনে রাখা উচিত অপরাধীদের কোন জাত নেই। এরকম অক্সফোর্ড স্কুল একটি নয়। এমন অসংখ্য স্কুল আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে। খোঁজ নিতে হবে প্রতিনিয়ত। আমাদের জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে মেসেজ পৌছে দিতে হবে যাতে তারা নির্ভয়ে যাতে তথ্য দিতে পারে। শুধুমাত্র মেয়েরাই নয় ছেলেরাও ভিক্টিম হচ্ছে। সুতরাং উভয়কেই সচেতন রাখতে হবে। প্রয়োজনে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতেও অভিযান চালানো হবে। কোনভাবেই যেন আমাদের সন্তানেরা বিপথে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেছেন, ধর্ষণরোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা মহামারী আকার ধারণ করেছে। আর এটা রোধের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একেক সময় একেক নিয়ম করা হচ্ছে। এই কনফিউজড দূর করতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বায়োডাটা থাকতে হবে। অনেক সময় প্রশাসনও জানে না কোন জায়গায় কোন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

হাসান ফেরদৌস জুয়েল আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য লোক নিয়োগ করা হচ্ছে সেদিকে নজর রাখতে হবে। একজন শুধুমাত্র কুরআন মুখস্ত করলেই মাদ্রাসা শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। শিক্ষক হওয়ার জন্য তাকে ইসলামের অন্যান স্তম্ভগুলোর সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতে হবে। সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মতান্ত্রিকতা ও জবাবদিহীতার মধ্যে আনা জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলা বাড়াতে হবে। এই খেলাধুলার জন্য সরকার স্কুলগুলোতে অনেক টাকা খরচ করে যাচ্ছে, কিন্তু কোন খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে না। এই প্রক্রিয়া থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আর শিশু ধর্ষিত হওয়ার কারণ হচ্ছে, শিশুটির কাছে ধর্ষক সহজেই যেতে পারে। শিশুটি বুঝতে পারে না তার সাথে কি হতে যাচ্ছে। ফলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটছে। স্কুলে ধর্ষণ বন্ধ করতেই হবে। স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা মানে একটি সমাজকে ধ্বংস করা। অপরাধীদের দ্রুত সাজা দিতে হবে এবং গণমাধ্যম কর্মীদেরকে সেই সাজার বিষয়টি বেশি করে প্রচার করতে হবে। যাতে করে অপরাধীরা দ্বিতীয়বার অপরাধ করতে গেলে ভয় পায়।

জুয়েল বলেন, বিকৃত মানসিকতা পরিহার করতে হবে। অনেক সময়ে এই বিকৃত মানসিকতা ফেসবুক ইউটিউব দেখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। পর্ণো সাইট বন্ধ করতে হবে। বিকৃত মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। বিচার চাইতে গেলে ধর্ষিতাকে আদালতে দাঁড়িয়ে বলতে হয় আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আর এই জবানবন্দীর মাধ্যমে সে দ্বিতীয়বার ধর্ষিত হয়ে থাকে। যদি কেউ বিচার না পেয়ে থাকে তাহলে আমাদের লিগ্যাল এইড রয়েছে। লিগ্যাল এইড সঠিক বিচার পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কাজ করে।

নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমন রেজা বলেছেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কিন্তু রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব না। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। কিন্তু তাদের উপর কোন নজরদারি করা হচ্ছে না। ফলে এসকল প্রতিষ্ঠানের ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। অক্সফোর্ড স্কুল কিন্তু একদিনেই হয়ে যায় নাই। আর তাই এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি জোরদার করতে হবে।

রুমন রেজা বলেন, কলেজ সময়ে কোচিং বন্ধ করতে হবে। অনেক কোচিংগুলোতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়ে থাকে। শিক্ষকরাও তাদের ব্যবসায়িক দিক দিয়ে চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের কিছু বলছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা যার যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। কোচিংগুলোতে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া উচিত। আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল ব্যবহারের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। বর্তমানে নেতিবাচকটাই বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মোবাইল ফোনের ইতিবাচক ব্যবহারের বিষয়ে সভা সেমিনারের আয়োজন করতে হবে। আমরা ছেলে মেয়েদেরও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারছি না। ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণ রোধ করা সম্ভব।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নূর উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসে  শিশু ধর্ষণ হয়েছে ২৫৮ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২১ জনকে। তাদের বিগত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৭১ জন ধর্ষণ হয়েছে এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩৫ জনকে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১ বছরে ৫৭১জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে ও তাদের ধর্ষণের পর শতাধিক হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তর থেকে গত ৫ বছরের একটি পরিসংখ্যান হল ৩ হাজার ২শ ২৮ জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে এবং সবগুলোর মামলা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ ৫ মাসে শিশু ধর্ষণের মামলা নেয়া হয়েছে ৩শ ২৯ টি। ২০১৮ সালের চেয়ে এ বছর ধর্ষণের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনটি পরিসংখ্যানেই বেড়েছে। এভাবে সারা দেশের ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।

তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড স্কুল ও ফতুল্লার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃত ১২টি শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে যা খুবই ন্যাক্কারজনক। ওই মাদরাসার শিক্ষক আল আমিন ধর্ষণের ঘটনায়র স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন, ‘তার উপর শয়তান ভর করে শয়তার তাকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়েছে।’ সে তো নিজেই একজন শয়তান। বর্তমানে অনেক শিক্ষক আছে যারা রাজনীতিক ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধ করেও মুক্ত হয়ে যায়। এই প্রবণতা যতদিন বন্ধ করা সম্ভব হবেনা ততদিন এরুপ ঘটনা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবেনা।

শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন দেয়ার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করলেই কোমলমতি শিশুরা টিভি সিরিয়াল দেখে দেখে পরকীয়া সহ নানা ধরনের চরিত্র লক্ষ্য করছে। যেকারণে সেসব চরিত্র তাদের মনে দাগ কাটে। তাই এ ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

কোচিং সেন্টার, মহিলা মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মুক্ত পরিবেশ পরিচালনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কাশীপুরে মহিলা মাদরাসা আছে। এটা এমন একটা গলির ভিতর দিয়ে যেতে হয় যেকারণে বাইরে থেকে ভেতরের অবস্থান বোঝা যায়না। ফতুল্লার মাদরাসার শিক্ষক আল আমিন যে মাদরাসায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে সে মাদরাসাটিও একই অবস্থা। যদি মুক্ত পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হতো তবে এরুপ ঘটনা ঘটনার কোন সুযোগ থাকবেনা। তাছাড়া পুরুষ মাদরাসায়ও অপকর্ম হয়। পুরুষ মাদরাসায় বলাৎকারের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একাকী শিক্ষা প্রতিষ্ঠনগুলোতে পাঠাবেন না। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের। আর কোচিং সেন্টারে মেয়ে শিক্ষার্থীরা আগে পরে গেলে নানা রকম অঘটনের শিকার হয়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হোন।

শিক্ষক ধর্ষকের শাস্তির বিষয়ে বলেন, শিক্ষক অপরাধীদের ক্ষেত্রে আইনের শাস্তি বৃদ্ধি করা দরকার। কারণ একজন সাধারণ মানুষ না জেনে অনেক ধরণের অপরাধ করে। কিন্তু শিক্ষকরা সব কিছু জেনে শুনে অপরাধ করে থাকে। তাই তাদের বেশি শাস্তির বিধান করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতনতার জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ধর্ষণের ক্ষেত্রে কোন স্বাক্ষী বা প্রমাণ থাকেনা। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের জন্যই নয় গার্মেন্ট সহ পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা দরকার।

সময়ের নারায়ণগঞ্জের সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েল বলেছেন, আমাদের দেশে ২০১৮ ও ১৯ সালের মতো এতো জঘন্য ঘটনা আর কখনো শুনি নাই। এজন্য আমরা খুব হতাশ। কোন প্রকার কার্পন্যতা ছাড়াই যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের সাংবাদিকদের সঠিত তথ্য তুলে ধরতে হবে। এখনকার পুলিশ প্রশাসন সতিই অনেক শক্তিশালী। তাই তাদের কাছে আহবান এসব ক্ষেত্রে যেন প্রশাসন আরো তীক্ষ্ম দৃষ্টি দেয়। আইনের ফাঁক দিয়ে যেন অপরাধীরা বের হয়ে না যেতে পারে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও আদালতের সমন্বয়ে যদি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় তাহলে একটা সময় এটা বন্ধ হয়ে যাবে। যদি আমাদের চোখ কান খোলা রাখি তাহলে অন্যায় বেশিদিন চলতে পারবে না।

তিনি বলেন, আলেমদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে যখন আমার এ বিষয়ে কথা হয় তখন তারা এ দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বলেন এ মাদ্রসা আমার না। এক্ষেত্রে আলেম সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের গণআন্দোলনগুলোতে সঙ্গে থাকতে হবে। সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করা যায় তাহলে এসব কখনো থাকবে না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও