শহরে ‘নো পার্কিং’ মানছেন না কেউ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৫ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৯ বুধবার

শহরে ‘নো পার্কিং’ মানছেন না কেউ

দুই সপ্তাহ বন্ধ না থাকতেই আবারও অবৈধ পার্কিং করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে। তবে এসব পার্কিংয়ের সব থেকে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো যেসব স্থানে স্পষ্ট বাংলা শব্দে লেখা রয়েছে ‘নো পার্কিং কিংবা পার্কিং নিষেধ’ সাইনবোর্ড রয়েছে সেসব স্থানেই আরো বেশি করে রাখা হচ্ছে। আর সেই বিষয়ে কোন পদক্ষেপই দেখা যাচ্ছে না। ফলে পথচারী ও যানবাহনেও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।

জানা গেছে ২৫ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ফুটপাথ হকার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। একই সঙ্গে সেদিন অবৈধ ও যততত্র গাড়ি পার্কিং বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যায় পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু সড়কের অবৈধ পার্কিং করা হলেই জরিমানা কিংবা মামলা দেয়া হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মোটারসাইকেল কাত করে ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়েছে। টানা দুই সপ্তাহ ছিল এ ধরনের অভিযান। তাতে অবৈধ পার্কিং দেখা যায়নি নগরজুড়ে। কিন্তু ইতোমধ্যেই আবারও সেই দখল ও পার্কিং শুরু হয়েছে।

১৭ জুলাই বুধবার বিকেলে শহরের ঘুরে দেখা গেছে, চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় ছিল যত্রতত্র গাড়ি পাকিং। ফলে পথচারীদের ও যানবাহনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অবৈধ পার্কিং করা ছিল মার্ক টাওয়ারের সামনে, সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে সমবায় মার্কেটের সামনে, পপুলার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের সামনে, সায়েম প্লাজার সামনে, বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে, করতোয়া ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের সামনে সহ ২ নং রেল গেট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশেই একই অবস্থা। কিন্তু এদিন কোন পুলিশের অভিযান কিংবা টহল টিমও দেখা যায়নি।

মার্ক টাওয়ারের সামনে দোকানদার শফিক জানান, পুলিশ কদিন কঠোর থাকায় কেউ ফুটপাতের উপরে কিংবা রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করেনি। মানুষ ভালো ভাবে হাটতে পেরেছিল। কিন্তু যেই পুলিশ অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে তাই আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ পার্কিং।

পথচারী ইকবাল হোসেন বলেন, পুলিশকে এসব পার্কিং রোধে কঠোর হতে হবে। শুধু জরিমানা কিংবা মামলা করলেই চলবে না। প্রয়োজনে এসব গাড়ির মালিকদের গাড়ির লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ এক সড়কের শহর। ফলে সড়কের উভয় পাশেই রয়েছে বহুতল ভবন। আর ভবনগুলোর নিচ তলা থেকে ৪ তলা পর্যন্ত করা হয়েছে মার্কেট। আর ৪ তলার উপরে হয়েছে বাসা সহ বিভিন্ন অফিস। কিন্তু এসব ভবনের নিচে কোথাও নেই পাকিংয়ের ব্যবস্থা। হাতেগুনা কয়েকটি ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা থাকলেও সেগুলো তালা দিয়ে রাখা হয়। আবার কিছু ভবনের নিচে পার্কিয়ের পরিবর্তে গোডাউন ভাড়া দেয়া হয়েছে। ফলে মার্কেটগুলোতে ক্রেতারা আসলে বাধ্য হয়ে রাস্তা গাড়ি পাকিং করতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমান বলেন, ফুটপাথ হকারমুক্ত রাখতে যেমন পুলিশ কাজ করছে তেমনি অবৈধ পার্কিং রোধেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত অভিযান করছে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সুযোগটা নিয়েছে ওইসব গাড়ির চালক ও মালিকেরা। তবে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, শুধু গাড়ি চালক ও মালিকদের দোষ নয়। এখানে বহুতল ভবন মালিক ও মার্কেটগুলোও দোষ রয়েছে। তারা কেন ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখেনি। যার জন্য অনেক সময় গাড়ি রাস্তা পার্কিং করতে বাধ্য হয়। এসবের জন্য আমাদের পক্ষেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তাই অবিলম্বে গাড়ি পাকিংয়ের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া দোকান মালিকদের নোটিশ দেওয়া উচিত তারা যেন গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এজন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও