ছেলেধরা গলাকাটা গুজব বন্ধে মাইকিংয়েও আতঙ্ক কমেনি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

ছেলেধরা গলাকাটা গুজব বন্ধে মাইকিংয়েও আতঙ্ক কমেনি

ছেলেধরা কিংবা গলাকাটা গুজবকে কেন্দ্র করে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। এলাকায় অপরিচিত কিংবা গতিবিধি কারও চোখে সন্দেহজনক মনে হলেই ছেলেধরা আখ্যা দিয়ে দেয়া হচ্ছে গণপিটুনি। স্থানীয়দের মাঝে প্রবল ক্ষোভ জন্মনিয়ে স্রেফ মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই চালানো হয় এসকল নির্মম নির্যাতন। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র সচেতনতামূলক বাণী প্রচার করা হলেও মানুষকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মূলত মানুষের মাঝে জনসচেতনতার অভাব এবং আতঙ্ককে কেন্দ্র করে এসকল ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। মানুষের মাঝে ভয় ছড়িয়ে দিয়েও একশ্রেনীর মানুষ তার উদ্দেশ্য হাসিল করে নিতে পারে। পাশাপাশি অতিউৎসাহী কিছু ব্যাক্তি গণপিটুনিতে মেরে ফেলার লক্ষে নির্যাতন চালিয়ে থাকে। তারা চায় না সন্দেহভাজন ব্যাক্তি পুলিশের হাতে পড়ুক। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রাথমিক ভাবে স্থানীয়দের কেই এগিয়ে এসে থামাতে হবে এবং পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।

গত কয়েকদিনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১ জনকে পিটিয়ে হত্যা ২ জনকে আহত করা হয়েছে। একই ভাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, আড়াইহাজারেও বেশ কয়েকজনকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এদের ভেতর কেউ কেউ সন্দেহজনক মনে হলেও অধিকাংশই মানসিক ভারসাম্যহীন এবং সাধারণ মানুষ।

সবশেষ সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের মেয়েকে দেখতে এসে বাক প্রতিবন্ধী সিরাজের নির্মমভাবে নিহত হবার ঘটনায় নাড়া দিয়েছে অনেককেই। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা দায়ের ও গ্রেফতার অভিযান চালালেও এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকায় এলাকায় চলছে মাইকিং এবং জনসচেতনতা মূলক নির্দেশনা।

শহরের ব্যাবসায়ী জুয়েল আহমেদ বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে নিজ সন্তানের নিরাপত্তা সকলেরই প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে থাকে। তবে একজন ছেলেধরা প্রকৃত অর্থে ধরা পড়লেও তাকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষও অজান্তেই জনরোষানলে নিহত হতে পারে। যারা আজ গণপিটুনিতে অংশ নিচ্ছে তারা নিজেরাও এ থেকে নিরাপদ নয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া বলেন, মূলত ফেইসবুকে কিছু অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মানুষরা গুজবগুলো রটিয়ে থাকে এবং দুঃখজনক ভাবে অধিকাংশই তা সত্য বলে মেনে নেয়। এর মাঝে নেত্রকোনার ঘটনাটি গুজবের আগুনে ঘি ঢেলেছে। তাদের বোঝা উচিৎ সেটির কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি। সবচাইতে লোহমর্ষক ব্যাপারটি হচ্ছে এসকল গুজবে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে দেয়া হয়, গলাকাটা পেলে পুলিশকে খবর না দিয়ে মেরে ফেলুন। এই ধরণের হিংস্র বানী ছড়িয়ে দিয়ে পুরো সমাজকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের পরিদর্শক ও মিডিয়া উইং সাজ্জাদ রোমন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানাতেই আমাদের মাইকিং চলছে। মাইকিং এর ফলে আমরা উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছি মানুষের কাছ থেকে। যারা অতিউৎসাহী হয়ে গণপিটুনিতে ভূমিকা রাখবে তারা যেমন আইনের আওতায় আসবে তেমনে ছেলেধরা সম্পর্কিত গুজব যারা ফেইসবুকে ছড়াবে তাদের কেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও