শহরে অসচেতনতায় বাড়ছে এডিস মশা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৮ পিএম, ৩ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

শহরে অসচেতনতায় বাড়ছে এডিস মশা

নারায়ণগঞ্জে সরকারি জায়গায় ময়লা ও আবর্জনা সহ জমা থাকা পানিতে এডিশ মশা জন্মানোর শংকা প্রকাশ করছে এলাকাবাসী। এজন্য অবিলম্বে এসব জায়গাগুলো পরিস্কার সহ মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

৩ আগস্ট শনিবার দুপুরে সরেজমিনে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে প্রবেশের প্রধানের ফটকের বাম পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। তবে এর পাশেই লেখা রয়েছে ‘হাসপাতালের অভ্যন্তরে ময়লা ফেলা নিষেধ, নির্দেশক্রমে : কর্তৃপক্ষ।’। এর পরও সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাম পাশে বার মাস ময়লা পড়ে থাকে। ময়লা জমে যখন স্তূপ হয়ে যায় তখনই ময়লা সরিয়ে নেয়। গত বৃহস্পতিবার ময়লা পরিস্কার করছে। কিন্তু আবার ময়লা ফেলা হচ্ছে। এটা যেন ময়লা ফেলার ভাগাড় হয়ে গেছে। হাসপাতাল এমনিতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে কিভাবে প্রবেশের মুখেই দুর্গন্ধ যুক্ত ময়লা ভাগাড় থাকলে কি আর সেটা ভালো লাগে। এখানে আশে পাশে দোকানদার ও হাসপাতালের ময়লা ফেলা হয়। কিন্তু পরিস্কার হয় কখনো সপ্তাহে কিংবা মাসে একবার। তাই নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন চারদিকে ডেঙ্গু প্রভাব দেখা দিয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল চার পাশে দিনের বেলায় মশার যন্ত্রণায় হাটাচলা করা কষ্টকর। হাসপাতালের চার দিকের ময়লা পরিস্কার করার পাশাপাশি ওষুধ প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

এদিকে দরিদ্র ভান্ডার এলাকায় পুলিশের একটি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে কয়েক মাস আগেই। ভবনটি ভেঙে ফেলার পর থেকে বৃষ্টি হলে সেখানে পানি জমে থাকে। মানুষ মল মূত্র ত্যাগ সহ ময়লা আবর্জনা ফেলে নোংরা করে রেখেছে। এ পরিবেশ এডিশ মশা জন্ম নেয়ার আশংকা করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় দোকানদার রমেশ মজুমদার বলেন, ভবনটা ভেঙে ফেলার পর এখানে অনেক ছোট বড় গর্ত হয়েছে যেখানে বৃষ্টি হলে জল জমে থাকে। আর সেই জলে এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। কিন্তু পুলিশ কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি। অবিলম্বে এ গর্তগুলো বালি দিয়ে ভরাট করে ওষুধ ছিটিয়ে দেয়া হোক।

অন্যদিক সরকারি ভবনের পাশাপাশি শহরের আনন্দ হোটেলের পাশে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন ভেঙে ফেলার পর সেখানেও স্বচ্ছ পানি জমে রয়েছে। আর সেই পানিতে এডিশ মশা জন্মানোর শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় দোকানদার হাফেজ উদ্দিন বলেন, আমরা গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্ম নেয়। আর সেই এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়। কিন্তু এখানে দুই মাস আগে ভবন ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু এর পর গতগুলো ভরাট করা হয়নি। ফলে অল্প বৃষ্টি হলে কয়েকদিন পানি জমে থাকে। এখানেও এডিস মশা জন্ম নিতে পারে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর ভয়ে আমরা জায়গার মালিককে বলেছি যাতে গর্তগুলো ভরাট করে ফেলে। যখন ভবন নির্মাণ করবে তখন যেন আবার গর্ত করে নেয়। কিন্তু তারা কিছুইতেই কথা শুনচ্ছে না। প্রশাসন সহ সিটি করপোরেশনের কাছে অনুরোধ এ বিষয়ে ব্যবস্থ গ্রহণ করা হোক।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ করছি। ময়লা ও নোংরা জায়গা গুলো পরিস্কার করছি। এখন সরকারি ও বেসরকারি যেসব জায়গাগুলো আছে তাদেরও নিজ উদ্যোগে পরিস্কার করা উচিত। না হলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। তাই স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিষয়ে কাজ করে যাবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও