বক্তব্যে কঠোর পুলিশ, বহাল চাষাঢ়ার সিএনজি অটো স্ট্যান্ড

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২০ পিএম, ৪ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

বক্তব্যে কঠোর পুলিশ, বহাল চাষাঢ়ার সিএনজি অটো স্ট্যান্ড

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কয়েক বার কঠোর হুশিয়ারী দেওয়ার পরেও শহরের চাষাঢ়া থেকে সরছে না অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। ঘুরে ফিরে সেই স্ট্যান্ড, স্ট্যান্ডের জায়গায় রয়েছে। বহাল এবং শক্তিশালী অবস্থায় থাকায় জনমানুষের মনে সন্দেহ জেগেছে।

যেখানে পুলিশ সুপারের আঙ্গুলের ইশারায় বড় বড় রাঘব বোয়ালরা ধরাশায়ী। সেখানে ক্ষুদে সিএনজি স্ট্যান্ডের পরিচালকরা এতটাই শক্তিশালী যে বহাল তবিয়তে থেকে অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। কার এতো দাপট। পেছনের শক্তি হিসেবে কারা রয়েছে। এমন একের পর এক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে চলছে অবৈধ এই স্ট্যান্ডটি।

৪ আগস্ট রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে চাষাঢ়া রেলগেট এলকার একেবারে নিকটে। মহিলা কলেজের গেটের সামনে। আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের পাশ ঘেষে সড়ক দখল করে রেখেছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। প্রায় শতাধিক গাড়ি সড়কের উপর এলোপাতাড়ি রেখে যাত্রী উঠাচ্ছে। চাষাঢ়ার সড়কটি প্রায় অর্ধেক দখলে রয়েছে তাদের। বাকি অর্ধেক দিয়ে যান চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যা চাষাঢ়া গোলচত্বরকেও প্রভাবিত করেছে। এক কথায় এই অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডের কারনে সারা শহর যানজটে পড়ে যায়।

অথচ ১০ জানুয়ারী দুপুরে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিক সম্মেলন করে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ঘোষণা করেন শহীদ মিনারের চারদিকে অবৈধভাবে থাকা হকার, সিএনজি স্ট্যান্ড ও গাড়ি পার্কিংয়ের উচ্ছেদ ও জরিমানার। এর পর শনিবার থেকে কার্যকর হতে শুরু করে প্রশাসনের তৎপরতা। কিন্তু সিএনজি স্ট্যান্ড থাকে বহাল।

উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃক শহরে বৈধ ইজারা দেয়া স্ট্যান্ড রয়েছে মাত্র ৫টি। এগুলো হলো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, নিউ মেট্রো হল সম্মুখস্থ সড়কে বাস, বেবী ও টেম্পু স্ট্যান্ড, মীর জুমলা রোড বেবী স্ট্যান্ড (বাস টার্মিনাল সংলগ্ন), জিমখানা সড়ক বেবীট্যাক্তি স্ট্যান্ড, চাষাঢ়া শহীদ মিনার সংলগ্ন বেবী স্ট্যান্ড। এছাড়া নিতাইগঞ্জ ও থানা পুকুরপাড় সংলগ্ন এস এম মালেহ রোডের ক্ষতিপূরণ ফি আদায়, চারারগোপ রাস্তার ক্ষতিপূরণ ফি আদায়, ১১নং ওয়ার্ডের আইইটি স্কুল মোড় থেকে বরফকল ঘাট মোড় এবং এসিআই মোড় ক্ষতিপূরণ ফি আদায় (এসিআই ফ্যাক্টরীর নিজস্ব গাড়ি ব্যতিত), থানা পুকুরপাড় লোড আনলোড স্ট্যান্ড রয়েছে। তবে শহরে বৈধ তালিকার চেয়ে অবৈধ স্ট্যান্ডের পরিমাণ অনেক বেশী।

এর মধ্যে নিতাইগঞ্জ, জিমখানা, ডায়মন্ড চত্বর এবং ইসদাইর অক্টো অফিসের মোড়ে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেই রয়েছে কমপক্ষে ৮টি অবৈধ স্ট্যান্ড। যার মধ্যে চাষাঢ়ায় খাজা সুপার মার্কেটের সামনে মুক্তারপুরগামী লেগুনা স্ট্যান্ড এবং বিপরীত দিকে সুগন্ধা বেকারীর সামনে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় গামী অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ড। এছাড়াও চাষাঢ়ায় পৌর সুপার মার্কেটের সামনে অবৈধ বেবীট্যাক্তি ও টেম্পু স্ট্যান্ড। এছাড়া চাষাঢ়ায় সোনালী ব্যাংকের সামনে মুক্তারপুর গামী অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ছিল যা সম্প্রতি পুলিশ সুপারের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবের বিপরীতে রয়েছে সাইনবোর্ড গামী একটি অবৈধ লেগুনার স্ট্যান্ড। রাইফেল ক্লাবের পরে আজগর ফিলিং স্টেশনের পাশে রয়েছে অবৈধ একটি সিএনজি ও একটি টেম্পুর স্ট্যান্ড। সরকারী মহিলা কলেজের সামনে বিকল্প সড়কে রয়েছে ফতুল্লা-পাগলাগামী একটি বেবীট্যাক্সির অবৈধ স্ট্যান্ড। এছাড়া ২নং রেলগেট সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে, অগ্রনী ব্যাংকের সামনে, কালিরবাজার এলাকাতেও রয়েছে কয়েকটি বেবীট্যাক্সির অবৈধ স্ট্যান্ড।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন শহরের যেসকল স্থানে বৈধ স্ট্যান্ড ও রাস্তার ক্ষতিপূরণ বাবদ ইজারা দিয়েছে তা থেকে প্রতি বছর সরকার রাজস্ব পাচ্ছে কোটি টাকার উপরে। কিন্তু বৈধ স্ট্যান্ডের চেয়ে অবৈধ স্ট্যান্ডের সংখ্যা বেশী হওয়ায় বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওই সকল অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রন করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। যাদের অনেকেই আবার বিভিন্ন গণপরিবহনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। একেক স্ট্যান্ডে একেক রকমের অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে পরিবহন মালিক ও চালকদের।  ফলে অবৈধ স্ট্যান্ডে চাঁদার টাকায় পকেট ভারী হচ্ছে অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের। যদিও অভিযোগ রয়েছে ওইসকল অবৈধ স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির একটি অংশ যাচ্ছে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের পকেটেও। যে কারণে ওইসকল অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো বছরের পর বছর ধরে বহালই রয়ে যাচ্ছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও