স্বস্তিতে ছিল নগরবাসী, হতাশায় হকাররা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৯ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

স্বস্তিতে ছিল নগরবাসী, হতাশায় হকাররা

‘দুই মাস হইছে ফুটপাতে বইতে দেয় না। জমানো টাকা যা ছিল সব ঘর ভাড়া আর খাইতেই শেষ। ছেলে মেয়ের ঈদের জামা কিন্না দেওন লাগব। ঈদের সেমাই, চিনি কিনা লাগব। এই দিকে মাসও শেষ। কয়দিন পর বাড়িওয়ালা ভাড়া চাইতে আইব। এহন আপনেই কন ঈদে আমাগো আনন্দ লাগব নাকি আরো বেশি কষ্টের হইব।’

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার এসপি হারুণ অর রশিদের অ্যাকশনে প্রায় ২মাস ধরে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে পারছে না হকাররা। ফুটপাতে বসতে না পেরে আকুতির সুরে প্রতিবেদকের সাথে একথা বলছিলেন ফুটপাতে একসময় নিয়মিত ব্যবসা করা হকার মো. রিপন হোসেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে টুকরিতে কতরে ছেলেদের জন্য জিন্স প্যান্ট বিক্রি করতেন তিনি। যা আয় হতো তা দিয়ে ৯বছরের ছেলে রাহাত, ৪ বছরের মেয়ে রিয়া ও স্ত্রীকে নিয়ে ফতুল্লায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। ছেলের পড়ালেখার খরচ ও সংসারের খরচ চালিয়ে দিন বেশ চলতে থাকে। কিন্তু গত দেড় মাস ধরে ফুটপাতে বসতে পারছেন না। যে কারণে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার মত আরো অসংখ্য হকারের।

১২ আগস্ট পালিত হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎস পবিত্র ইদুল আযহা। ইতোমধ্যেই ঈদের কেনাকাটা অনেকে সেরে ফেলেছেন। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোরবানি দেওয়ার জন্য গরু বা খাশি কেনারা জন্য। অর্থনৈতিক ভাবে যারা আরো স্বচ্ছল তাঁরা হয়তো পরিকল্পনা করছেন উট কিংবা দুম্বা কেনার জন্য। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারা ঈদে ঘর ভাড়া কিভাবে দিবে সেই চিন্তাতেই দিন পার করছেন।

ঈদের কথা বলতেই চোখ দিয়ে পানি চলে আসে হকার মো. রিপন হোসেনের। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, আমাদেরও সংসার আছে ছেলে মেয় আছে। গরিব বইলা কি ছেলে মেয়ের সখ আল্লাদ থাকে না। ছোট মেয়েটা দুইদিন আগেও কইছে নতুন জামা কিন্না দিতে। মাইয়ারে কেমনে বলি মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দিতেই সব শেষ হইব। ওইটুকু মেয়েকি এইসব বুঝে।

তিনি আরো বলেন, ঈদে সবাই ব্যস্ত কেনাকাটা করতে আর আমরা এইখানে চোরের মত জীবন পার করতাছি। পুলিশ আইলে বস্তা উঠায়া দৌড় দিতে হয়। মনে হয় কিছু চুরি করছি। নিজেরে আসামী মনে হয়। কিন্তু কি করুক বলেন। সংসারতো চালাইতে হইব। তাই লুকায়া লুকায় চোরের মত এইখানে বসি। পুলিশ আইলে আবার দৌড় দেই।

শুধু রিপন হোসেন নয় তার মত আরো অসংখ্য হকারের জীবন এমন দুর্বিসহ অবস্থায় কাটছে। তাদের একজন হচ্ছে হকার আনোয়ার হোসেন। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, আমাদেরও ভালো লাগে না চোরের মত থাকতে। নিজের দেশে থাকি। কোনো অপরাধ করি নাই তার পরেও পেটের দায়ে বাধ্য হইয়া এই কাজ করতে হইতাছে। পুলিশ আসলে আগে থেকে সবাই একে অন্যরে জানায়া দেই। যখন পুলিশ কাছে আসে তখন বস্তা নিয়া দৌড় দিয়া গলিতে ঢুকি। আর এই ভাবেই দিন কাটতাছে আমাদের।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাছে অনুরোধ আমাদের কথা একটু চিন্তা করেন। আমাদের পরিবারের কথা একটু চিন্তা করেন। ঈদে আমরাও যাতে আনন্দেরর সাথে বাঁচতে পারি সেই দিক বিবেচনা কইরা আমাদেরকে একটু বসার সময় দিয়েন। আমরা যাতে আমাদের ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কিন্না দিতে পারি সেই ব্যবস্থা করেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও