ঝুঁকি নিয়ে ঈদে ট্রেন যাত্রা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:০৯ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

ঝুঁকি নিয়ে ঈদে ট্রেন যাত্রা

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে রেলযাত্রীদের চাপ সবসময় একটু বেশি থাকে। তবে তা ঈদের সময় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শনিবার ও রোববার ১১ আগস্ট ছিল সবচেয়ে বেশি চাপ। সকাল ৮টা থেকেই যাত্রীদের ¯্রােত দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে। রেলের ভেতরে সিটতো বটেই দাঁড়ানোর কোন জায়গা ছিল না। এসময় তারা ট্রেনের ছাদে পর্যন্ত উঠে বসে। ট্রেন আসার সময়ে স্টেশনে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যে। তবে এই অবস্থা ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কারণে হয়েছে বলে মনে করেন উপস্থিত কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে যাতায়াতের জন্য সড়ক, নৌ এবং ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তিনটি রুটের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হচ্ছে সড়ক পথে। এই পথে সময় এবং অর্থ দুটিই বেশি খরচ হয়। এ ক্ষেত্রে সাশ্রয় হয় রেল পথে। পথটি নিরাপদ বটে। তাই রেলযাত্রী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই তুলনায় রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়েনি। এতে কিছু কিছু সময়ে খুব বেশি চাপ পড়ে ট্রেনে। সেই চাপ সামলাতে আলাদা কোন ব্যবস্থা রাখে না রেল কর্তৃপক্ষ। আর তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীরা নিজ দায়িত্বে ট্রেনের ছাদে পর্যন্ত উঠে যায়।

রিফাত চাকরি করে পোশাক কারখানায়। দুই ঈদেই জামালপুর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে। এবারো তিনি জামালপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা যাচ্ছেন। সকালেই স্টেশনে এসেছে, তার পরও কোন সিট মিলেনি। এমনকি ব্যাগ থাকায় ভেতরেও উঠতে পারেননি ঠেলাঠেলি করে। বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। তার পরও তিনি খুশি ঈদের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায়। রিফাত বলেন, এই ছাদে আমি একা নয় শত শত লোক আছে। আল্লাহ আমাদের সহিসালামতে পৌছে দিবেন, ইনশাল্লাহ। ঈদের সময় পরিবারের সকলকে সঙ্গে পাবো সেই আনন্দের জন্য সামান্য কষ্ট মাথায় নাই। যেতে পারছি সেটাই বড় কথা।

রিফাতের সঙ্গে বসে থাকা আমির আলী বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে যতবারই ট্রেনে যাতায়াত করেছি সিট ভাগ্যে মিলেনি। যাত্রীর তুলনায় সিট কম। কয়জন সিট পাবে। সব সময়েই দাড়িয়ে যেতে হয়। এবার ছাদে উঠে অন্তত বসতে পারলাম, সেটাই সুখের কথা।

দুর্ঘটনার বিষয়ে আমির আলী বলেন, কম সময়ের ব্যাপার, আল্লাহ রক্ষা করবেন।

অপর যাত্রী নোয়াব বলেন, বাড়ি থেকে এসেছি গত ঈদে। এর মধ্যে আড়াই মাস পার হয়ে গেছে। এই ঈদে বাড়ি যাচ্ছি। মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, স্ত্রী সবাই তাকিয়ে আছে। তর সইছে না। ট্রেন পাইছি এইতো বেশি। সহিসালামতে পৌছাতে পারলেই হয়।

ট্রেনে স্থান পাওয়া যাত্রীদের মধ্যে আত্মতৃপ্তি দেখাগেছে। ট্রেনে উঠে বাড়ি যাচ্ছে সবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে এটাই যেন তাদের চাওয়া।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও