টিউমারের পর জলাবদ্ধতায় লিংক রোড

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

টিউমারের পর জলাবদ্ধতায় লিংক রোড

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের (সংযোগ সড়ক) ৮ কিলোমিটার সড়ক এক বছর আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। অথচ বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই সড়কে সৃষ্ট অসংখ্য ‘টিউমার’ পরিণত হয়েছিল যানবাহনের জন্য মরন ফাঁদ। কয়েকদিন আগে সেসকল টিউমারের দায়সারা সংস্কার করা হলেও বর্তমানে বৃষ্টি আসলেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। লিংক রোডের অসংখ্য স্থানেই জমে থাকছে পানি। অথচ পিচের প্রধান শত্রু হচ্ছে পানি।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারের (উড়াল সেতু) কারণে শিল্প ও বাণিজ্যনগরী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম রুট হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের ১৮টি জেলায় যাতায়াতেরও অন্যতম প্রধান সড়ক এই লিংক রোড। শহরের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার।

এই সড়কটি মেরামতে গেল ৫ বছরে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ২০১৮ সালের জুনে ফের শুরু হয় ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার। ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথের অধীনে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

তবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, কাজীপাড়া, ভূইগড়ে সড়কের উভয় পাশে পিচ ফুলে ‘টিউমার’ এর আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরুতেই কাদাপানিতে পিচ ঢালাই ফেলে ব্যাপক অনিয়ম করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সড়কটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে সড়কটিতে অসংখ্য টিউমারের সৃষ্টি হয়েছিল। অথচ সড়কটি সংস্কারের আগে এমনটি ছিলনা। ওইসকল টিউমারের কারণে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও রোগী বাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে পড়তো।

মাঝে মাঝে গাড়ির তলার অংশেও ঘষা লাগতো এসকল টিউমার। দিনের বেলা সেই টিউমার পাশ কাটিয়ে চলতে পারলেও রাতের অন্ধকারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে। মোটরসাইকেল আরোহীরা সাধারণ গতিতেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতো সড়কে চলার সময়। প্রায়শই নানা ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটছিল। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে গত জুন মাসের শেষ দিকে ‘টিউমার’ অপসারণে দায়সারা কার্যক্রম শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং।

এদিকে ফুলে ফেঁপে ওঠা সেসকল টিউমারের আংশিক অপসারণ করা হলেও বৃষ্টি আসলেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের অসংখ্য স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সড়কটির অসংখ্য স্থান এখনো উচু নিচু হওয়ার কারণে এবং সড়কটির দুই পাশে চাষাঢ়া থেকে লিংক রোড পর্যন্ত পানি নিস্কাশনের ড্রেন মাটি দ্বারা ভরাট থাকার কারণে বৃষ্টির পানি আটকে থাকছে সড়কেই। পবিত্র ঈদুল আযহার পরে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এমন চিত্রই দেখা গেছে। অথচ পিচের প্রধান শত্রু হচ্ছে পানি। জলাবদ্ধতার কারণে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নারায়ণগঞ্জবাসী।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও