নারায়ণগঞ্জে ফের ২ শিশু ধর্ষণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

নারায়ণগঞ্জে ফের ২ শিশু ধর্ষণ

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মহামারি কিছুতেই কাটছেনা। একের পর এক পৈশাচিক ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। পুলিশ প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান করলেও এর লাগাম কিছুতেই টেনে ধরা যাচ্ছেনা। শিশু বৃদ্ধা বয়সের কেউ এই নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।

৭ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এর মধ্যে ২ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে যা খুবই চাঞ্চলের সৃষ্টি করেছে। কারণ দুটি ঘটনায় শিশুদের ধর্ষণের ঘটনা ছিল।

১৬ আগস্ট ফতুল্লায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের ফলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধর্ষক সোহেল পালিয়ে যায়। ধর্ষক সোহেল (২৬) ফতুল্লার পাগলা বৈরাগী বাড়ি এলাকার আলমগীরের বাড়ির ভাড়াটিয়া আবুল শরীফের ছেলে।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির বাবা সিএনজি চালক আর মা গৃহীনা। ধর্ষক সোহেল তাদের পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকায় সোহেল শিশুটিকে ভাতিজী বলে ডাকতেন এবং তার ঘরে ডেকে নিয়ে শরীর টিপাতো। শুক্রবার রাত ৮টায় শিশুটিকে সোহেল তার ঘরে ডেকে নেয়। এরপর কৌশলে শরীর টিপার কথা বলে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধর্ষক সোহেল পালিয়ে যায়। এসময় শিশুটির মা সোহেলের ঘরে গিয়ে শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে ৮ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপউদ্দিন জানান, ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় বোরকা পরিহিত অবস্থায় এক ব্যক্তি র‌্যাব-১১ অফিসে এসে এই মর্মে একটি অভিযোগ দেয় যে, তার মেয়ে বর্তমানে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং মসজিদের ইমাম কর্তৃক ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ইমামের অনুসারীরা তার মেয়েকে ও বাবাকে মেরে ফেলার জন্য বার বার হাসপাতালে গিয়ে খুঁজছে। ঘটনা শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব-১১ এর একটি অভিযানিক দল ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যায়। এরপর আভিযানিক দলটি ঘটনার স্থল পরিদর্শন ও ধর্ষককে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বয়স ৮ বছর। সে মাদ্রাসায় ২য় শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। ঘটনার দিন সকালে ভিকটিমের বাবা মেয়ে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে চলে আসে। ফজরের নামাজের পর ধর্ষক শিশুটি তার বাবাকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের বেড রুমে নিয়ে যায়। এরপর হালকা ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের বাবাকে ভোর ৫টার দিকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। ওই সময় দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা কোনো ভাবেই মোমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না। এরমধ্যে সময় ক্ষেপন কারর জন্য ধর্ষক ফজলুর রহমান শিশুটির বাবাকে ফোন করে একটি পান আনতে বলে ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে ফোন করে নিচের গেটে তালা মারতে বলে। ভিকটিমের বাবা ফিরে আসতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় নেয়। এর মাঝে শিশুটির দুই হাত পিছনে বেধে ও মুখে টেপ মেরে নির্মমভাবে পাশবিক নির্যতন করে তার কাম লিপ্সা চরিতার্থ হাসিল করে এবং প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিস্কার করে দেয়। এরপরে শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা মাকে না বলার হুমকি দেয় এবং বললে জবাই করে ফেলবে বলে হুশিয়ার করে। শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়ো করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয়। এর পরে শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সবকিছু খুলে বললে এবং ধীরে ধীরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু করলে ভুক্তভোগী পরিবারটি শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশেপাশের ধর্ষকের কিছু ভক্ত মিলে সেখানেও শিশু ও পরিবারটিকে মারাত্মকভাবে হেনস্থা করে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও