নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নাই

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নাই

সারা দেশের মত নারায়াণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি সিভিল সার্জন। এ পর্যন্ত জেলার ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে। ৫ জনের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৪ জনের মৃত্যু হয় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। সরকারী হিসেবে ৫ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও বেসরকারী হিসেবে তা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হওয়ায় বেশিরভাগ রোগী ঢাকায় হাসপাতালগুলোতে চলে যায়। ফলে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। শহরের দুইটি হাসপাতালের হিসাবে জুলাই মাসের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ৯৪জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৬জন ভর্তি আছেন দুই সরকারী হাসপাতালে।

এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন যমুনা টিভির স্টাফ করেসপনডেন্ট আমির হুসাইন স্মিথ ও সমকালের জেলা প্রতিনিধি এম এ খান মিঠু। ১৭ আগস্ট দুইজনের ডেঙ্গু রোগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

সর্বশেষ ঈদের দিন রাতে ১১ বছরের শিশু অভিজিৎ সাহার মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। অভিজিত সাহা শহরের আমলাপাড়ার মন্টু সাহা ও পদ্মা সাহা দম্পতির ছেলে। অভিজিৎ চাষাঢ়ায় ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাউন্টেন একাডেমীর পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এর আগে ৯ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তিন বছরের শিশু মেহরিমা। ২৮ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ফতুল্লার বক্তাবলীর ছমিরনগর এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে শান্ত। ২৫ জুলাই মহাখালি এলাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মিন্টু’র। ১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ ইসলাম হার্ট সেন্টারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় নারায়ণগঞ্জ কন্ঠমালা আবৃত্তি সংগঠনের আবৃত্তি শিল্পী শাওন কবির (৩২)।

এই ডেঙ্গু নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২ দশমিক ৮ ভাগ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য প্রকাশ হয়। অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ২ ভাগ রোগীর তথ্যই থেকে যায় অপ্রকাশিত। ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড পপুলেশন হেলথ, রিসার্চ স্কুল অব পপুলেশন হেলথ এ গবেষণা পরিচালনা করে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের ফ্লোর, বারান্দাসহ বিভিন্ন খালি জায়গায় রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অথচ নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমছে।

এ বিষয়ে ফারুক নামের এক রোগী জানান, নারায়ণগঞ্জের হাসপাতাল গুলোতে সিরিয়াস ডেঙ্গু রোগী রাখে না। আসা মাত্র সে সব রোগীদের ঢাকা নিয়ে যেতে রেফার করে। তাদের সক্ষমতা নাই বলে রোগীদের বিদায় করে দেয় ইমার্জেন্সি থেকে। একথা বললে কেউ জেনে শুনে রোগী রাখবে এখানে। তাই এখানে রোগীর সংখ্যা কম।

অপর এক রোগী নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক। তিনি বলেন, হাসপাতাল গুলোর যেই অবস্থা। রোগীদের এখানে ভর্তি করা নিরাপদ মনে করা সম্ভব নয়। চারদিকে জঙ্গল, ময়লা-আবর্জনা। কেউ সাহস করে না এখানে রোগী রাখার। রোগী আসেই কম। যারা জানে হাসপাতালের অবস্থা তারা এখানে আনেই না। রোগী নিয়ে সোজা চলে যায় ঢাকার হাসপাতাল গুলোতে।

তিনি বলেন, ঢাকার পাশে হওয়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এখানেও রয়েছে। তাই এই হাসপাতালের খুব ভাল প্রস্তুতি রাখা দরকার। অন্তত ঢাকার হাসপাতাল গুলোর বারান্দায় না থেকে এখানে বেডে রেখে চিকিৎসা দেয়া উচিত। সেরকম ব্যবস্থা এই হাসপাতালের নেয়া উচিত। একটি ওয়ার্ড আলাদা করে প্রস্তুত রাখা দরকার। অন্তত জেলার রোগী গুলো যাতে ঢাকা ভির না করে এখানে রেখে চিকিৎসা করাতে পারে।

রাজনৈতিক কর্মী আসাদ বলেন, ডেঙ্গুর বিষয়ে রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সারা দেশে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকম-লীর বেঠক শেষে কাদের ভাই বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

জনসচেতনতার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সারা দেশে রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত তিন দিন (৩১ জুলাই, ২ ও ৩ আগস্ট) কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে।

শুধু তাই নয়। অন্যান্য সামাজিক সংগঠন গুলোও জনসচেতনতা চালিয়েছে। অথচ নারায়ণগঞ্জের হাসপাতাল গুলো গুরুতর রুগী দেখলেই ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। তারা দায়িত্ব নিতে চায় না। অথচ বলে রোগী কম রোগী কম। ঢাহা মিথ্যা কথা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আসাদ্দুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে কমে গেলেই স্বস্তির কোন কারণ নেই। যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আবারও জমে থাকা জলে এডিস মশার লাভাগুলো জন্মনিতে পারে। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাড়ি ও আশে পাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তা না হলে এডিস মশা বাড়বে এবং সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়বে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও