নারায়ণগঞ্জে ৭ দিনে ৩ ধর্ষণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৯ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জে ৭ দিনে ৩ ধর্ষণ

নারায়ণগঞ্জে শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউ রেহাই পাচ্ছেনা। দেহলোভী পশুদের হাতে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দিনে দিনে এর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এসব ঘটনায় একদিকে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে; অন্যদিকে ধর্ষিতার পরিবার ধুকে ধুকে নিঃশ্বেস হয়ে যাচ্ছে।

১৬ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাহে ৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

১৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গার্মেন্টকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম অপু (৪০) নামে ডেন্টাল ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকা থেকে ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ১৭ বছর বয়সী গার্মেন্টকর্মী মেয়েকে নিয়ে তার মা দাতের চিকিৎসা করাতে পঞ্চবটি এলাকায় রফিকুল ইসলাম অপুর কাছে যায়। সেখানে গার্মেন্টকর্মীকে দেখে পছন্দ করে অপু। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সে গার্মেন্টকর্মীর বাসায়ও যায়। এতে ১৭ আগস্ট দুপুরে গার্মেন্টকর্মীকে ফোনে অপু তার চেম্বারে ডেকে আনেন। এসময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে অপু।

১৯ আগস্ট সোনারগাঁয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকার পরিত্যক্ত কাশবনে নৃত্য শিল্পীকে ৫জন মিলে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজহারের বাদী উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন নৃত্য শিল্পী। তার একটি নৃত্যের দল রয়েছে। বিভিন্ন্ স্থানে চুক্তিতে বিনিময়ে বিয়ে, সুন্নতে খাতনা, গায়ে হলুদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য করে থাকেন। সোনারগাঁয়ের সুচারগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল্লাহর ছেলে মাহমুদুল হাসান হিমেল ধর্ষিত নৃত্য শিল্পী, তার স্বামী হুমায়ুন কবির, নৃত্য সহযোগী আশামনি, মামুনকে ৬ হাজার টাকার মজুরির ভিত্তিতে তাকে প্রোগ্রাম করার জন্য দড়িকান্দি এলাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত হিমেল তাকে প্রোগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে বলে। প্রস্তুত হওয়ার জন্য নৃত্য শিল্পীর স্বামী হুমায়ুন কবির, আশামনি ও অন্যন্যদের কনকর্ড কারখানার পরিত্যক্ত আনসার ব্যারাকে বসিয়ে রেখে হিমেলের বাড়িতে ড্রেস পরিবর্তনের কথা বলে নৃত্য শিল্পী ও তার সহযোগী শিল্পী মামুনকে কাঁশবনের ভেতরে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎ পেতে থাকা কালিগঞ্জ গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে শফিকুর ইসলাম রনি, ইলিয়াসদী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সজিব, শাহজাহান মিয়ার ছেলে সানজিদ, বন্দর উপজেলার পিছকামতাল গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে সিয়াম সহযোগী শিল্পী মামুনকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে আটক করে নৃত্য শিল্পীকে ৫জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

১৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পাগলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের ফলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষক সোহেল পালিয়ে যায়। ধর্ষক সোহেল (২৬) ফতুল্লার পাগলার আবুল শরীফের ছেলে।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির বাবা সিএনজি চালিত অটো রিকশা চালক ও মা গৃহিনী। ধর্ষক সোহেল তাদের পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকায় সোহেল শিশুটিকে ভাতিজী বলে ডাকতেন এবং তার ঘরে ডেকে নিয়ে শরীর ম্যাসেজ করাতো। শুক্রবার রাত ৮টায় শিশুটিকে সোহেল তার ঘরে ডেকে নেয়। এরপর কৌশলে শরীর ম্যাসেজের কথা বলে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষক সোহেল পালিয়ে যায়। শিশুটির মা সোহেলের ঘরে গিয়ে শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও