মরা গরু সরানোর দায়িত্ব নেয়নি প্রশাসন!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৫ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মরা গরু সরানোর দায়িত্ব নেয়নি প্রশাসন!

নারায়ণগঞ্জের মরা গরু এখনো সরে নাই। সরে নাই গরুর হাটের আবর্জনা আর পশুর বর্জ্যও। প্রায় প্রতিটি হাটেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব কারনে বর্তমানে পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। অথচ এই বিষয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নাই। সবাই চলছে। কারো নজর নাই পরিবেশের উন্নীতকরণে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বর্জ্য সরলেও দুর্গন্ধ থেকেই গেছে।

মরা গরুর পঁচনে ফুলে ফেঁপে উঠছে গরুর দেহ। এখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনায় সড়ক দিয়ে চলাচলে অসুবিধায় পড়েছে পথচারীরা। নাকে রুমাল চেপেও কোন কূলকিনারা হচ্ছে না। বাসার ভেতরেও এই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। দম বন্ধ হওয়ার মত অবস্থা। অথচ দেখার যেন কেউ নাই। জেলাবাসী একেবারেই রয়েছে এই দুর্গন্ধ নিয়ে বিপাকে আর দিব্যি যতায়াত করছেন প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিরা। হাট ইজারা দিবেন, খাজনা তুলবেন এতেই যেন তাদের কর্তব্য শেষ। গরু মরা সরানোর দায়িত্ব না নেয়ায় ঈদের সপ্তাহ পার হলেও লিংক রোডের ময়লার ভাগারে মরা গরু দেহাবশেষ পড়ে আছে।

নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলায় চলতি বছরে ৯৩টি অস্থায়ী কুরবানীর পশুর হাট বসে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় এবছর অস্থায়ী পশুর হাট বসে ২১টি। অপরদিকে সদর উপজেলার আওতাধীন ৭টি ইউনিয়নে অস্থায়ী পশুর হাট বসে ১৭টি।

হাট ভাঙ্গার পর ঈদের দিন বা তার পরবর্তী সময়ে কয়েক হাজার পশু কোরবানী হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর ও এর আশপাশে। এসব কোরবানীকৃত পশুর বর্জ্য, রক্ত ও নাড়িভুঁড়ি সঠিক ভাবে পরিষ্কার না করায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। পশুর বিষ্ঠা ও কোরবানী পরবর্তী বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে এই অস্বস্থিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারনে রোগজীবাণু আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন পরিবেশ নিয়ে যখন সংবাদ প্রকাশ হয় তখন প্রশাসন ঝাপিয়ে পড়ে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যেই সেই। তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই, দম নেয়ারও সময় নেই। এমনই ঘটনা ঘটেছে গত ৮ আগস্ট। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে পড়ে থাকা মরা গরুগুলো অপসারণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

৮ আগস্ট দুপুরে ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় ময়লার ভাগাড় পরিদর্শন করে ওই উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। তিনি সেখানে পড়ে থাকা গরুগুলো মাটি চাপা দিয়ে দেন।

ইউএওন নাহিদা বারিক তার ফেসবুক পোস্টোর মাধ্যমে জানান, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংলগ্ন ময়লার স্তূপে পড়ে রয়েছে ৪টি মরা গরু স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খবর পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যাই। ৪টি অর্ধগলিত মরা গরু পড়ে রয়েছে রাস্তার পাশে। এদের দুর্গন্ধে আশেপাশে বাতাস দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছে এবং সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে তৎক্ষনাৎ মরা গরুগুলো মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’

অথচ গত আট দিন ধরে আরেকটি মরা গরু পড়ে আছে যে সে খবর তিনি রাখেননি বা তাকে দেয়া হয়নি। সেই খবর দেয়ার মত কোন লোক তার প্রশাসনে নেই। সবাই জনগনের গোলাম কিন্তু নিজেদের গোলামী করতে ব্যস্ত সবাই।

এজন্য নাখোশ বাসিন্দারা। তারা চায় তাদের বসবাসের যোগ্য নগরী। যেখানে প্রাণ খুলে শ্বাস নেয়া যাবে। বুক ভরা বাতাস নির্ভিগ্নে বেরিয়ে যাবে। কোন কিছুর জন্য কোন কিছু বসে থাকবে না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও