দখলকারীরা জায়গা পেলেও সিটি করপোরেশন পাচ্ছে না : আইভী

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

দখলকারীরা জায়গা পেলেও সিটি করপোরেশন পাচ্ছে না : আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব আয় দিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার আমাদের টাকা দিয়েছে, তবে সেটা হিসেব করলে খুবই কম। আমাদের নিজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য যে খালি জায়গাগুলো ছিল, অন্যের দখলে যে জায়গাগুলি সেগুলো দখল করেছি। এসব জায়গাগুলো উদ্ধার করে ১ তলা ২ তলা মার্কেট করে উপড়ের তলাগুলোতে ফ্ল্যাট করে ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি। আমরা জায়গা কিন্তু বিক্রি করি নাই। নিয়মকানুন মেনেই মানুষ ফ্ল্যাট কিনেছে। এভাবে আমি জমিও রক্ষা করেছি, আয়ও বাড়িয়েছি। যেভাবে আয় বাড়ানো সম্ভব, সেভাবেই আয় বাড়িয়েছি। নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর সহ যেখানে সিটি কর্পোরেশনের পরিত্যক্ত ও ছোট ছোট জায়গা রয়েছে সেগুলোতে মার্কেট করেছি।

৯ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য প্রদান এবং কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাগরিক সুবিধা প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, আমরা নাগরিক সুবিধাও বাড়িয়েছি। খেলার মাঠ সংরক্ষণ করেছি, খালগুলো উদ্ধার করে সেগুলোকে সংরক্ষণ করেছি। নাগরিকবাসীর হাঁটার জায়গা ঘুরার জায়গার ব্যবস্থা করেছি। তার বাইরে নারায়ণগঞ্জ এরিয়ার ভিতরে রেলওয়ে কিংবা রোড অ্যান্ড হাইওয়ের যে সকল জায়গা রয়েছে সেগুলো কোন না কোনভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্যে কোন অংশেই কম ছিল না। নদীর পাশ ঘেঁষে যত জায়গা রয়েছে সবগুলো দখলে কারো না কারো দখলে রয়েছে। তারা কিন্তু সহজেই জায়গা পেয়ে যায়। আমরা কিন্তু স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও খেলার মাঠের জন্য, স্কুলের জন্য, ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য ও বাস স্ট্যান্ডের জন্য এই জায়গাগুলো চাইলেও পাই না। ফলে নাগরিক সুবিধা যতটুকু দেয়ার দরকার ততটুকু দিতে পারছি না। পরিবেশ কিভাবে দূষণ করে যাচ্ছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সক্ষমতা খুবই সীমিত। ৭ বছর হয়ে গেছে সিটি কর্পোরেশন হয়েছে, কিন্তু সেই আগের জনবল নিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। সেই পুরানো স্টাফদের নিয়েই আমাদের সেবা দিতে হচ্ছে। কাউন্সিলররা নিজেরা পরিশ্রম করে নিজেদের লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছে। আমাদের দক্ষতার প্রশ্ন পরে, আগে আমাদের সবকিছু দেয়া হোক, তারপর যদি আমরা না পারি তাহলে আমাদের দক্ষতা ও অদক্ষতা প্রমার্ণিত হবে। তবে খুশির খবর হচ্ছে, বিগত ৪ থেকে ৫ বছর যাবত আমরা যে প্রজেক্টগুলো দিচ্ছি সেগুলো একটার পর একটা পাশ হচ্ছে। ফলে আমরা ব্যাপক আকারে কাজ করতে পারছি। পাশাপাশি আমাদের সাথে জাইকা কাজ করছে, আমাদের সাথে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কাজ করছে এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক কাজ করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হচ্ছে। স্থানীয় সরকারকে স্বাধীনতা দেয়া উচিত।

পরিবেশ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে আমরা খুবই সচেতন। নারায়ণগঞ্জের একটি বিশাল সমস্যা হচ্ছে হকার উচ্ছেদ করা। হকাররা প্রচুর পরিমাণে পলিথিন ফেলে রাখে। তাই আমরা এই পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানী উৎপাদনের ব্যবস্থা করছি। পলিথিন পোড়ানোর পর যে ধোয়া হয় সেটাকেও কিভাবে দূষণমুক্ত করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। পানিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো ডাইং এবং বিভিন্ন কারখানার বর্জ সরাসরি পানিতে পড়া বন্ধ করা। এটা করবে পরিবেশ। সবকিছু প্রধানমন্ত্রী করে দিয়ে যাবে না। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ড্রেনগুলোর বর্জ্যও নদীতে গিয়ে পড়ে। এজন্য আমরা অনেকগুলো ড্রেনের পানি একত্রে করে সেটা শোধন করার পর নদীতে যাবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল ওয়াজেদ, সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম, নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, আয়শা আক্তার দিনা, মিনোয়ারা বেগম, শিউলী নওশাদ, শাওন অংকন, হোসনে আরা বেগম, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, ১০ নং কাউন্সিলর ইফতেখারুল আলম খোকন, ১৪ নং কাউন্সিলর মোঃ শফিউদ্দিন প্রধান, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৮ নং কাউন্সিলর কবির হোসেন, ২০ নং কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ২২ নং কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূইয়া, নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে কাজ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার দরকার। আমরা মেয়রের কথা শুনলান। উনি যে প্রচার বিমুখতার কথা তুলে ধরেছেন, সে গুলো আমাদের জানার দরকার। বিশেষ করে মাস্টারপ্ল্যান কমপ্লিকেশনের একটি সমাধানে যাওয়া উচিত। আশা করি আমর এসকল সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হবো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারের এরআইইউপিসি কর্মসূচির আওতায় দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের উন্নয়ন তহবিল (ইউএনডিপি) একটি অনুসন্ধানী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো: সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের মতামত এবং কর্পোরেশনের জন্য সরকার প্রদত্ত কাঠানো, আইন-কানুন, বাজেট ও বিরজমান রাজনৈতিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এবং কিভাবে এই নগর সরকারগুলো দারিদ্র হ্রাসকরণে অভীষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে তা পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা। প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা বিষয়ক গবেষণাধর্মী এই প্রতিবেদন সিটি কর্পোরেশনকে দারিদ্র নিরসন মূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়ত করবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও