হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছেই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছেই

শীতলক্ষ্যা নদীর দু’পাড়ের বাসিন্দাদের নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম একটি ঘাট হচ্ছে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাট। দিন রাত প্রায় ২৪ ঘন্টায় এই ঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের বাসিন্দারা যাতায়াত করে থাকেন। তবে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রীর জন্য ঘাটে নেই কোন স্থায়ী পল্টুন। বাঁশ ও কাঠের তৈরি সরু জেটি দিয়ে চলছে যাত্রী পারাপার। কিন্তু বাঁশ ও কাঠের তৈরি এই জেটি বেশিদিন টিকে না। কয়েক দিন পর পরই নতুন করে জেটি নির্মাণ করতে হচ্ছে।

আর এই নতুন জেটি নির্মাণের আগে ভাঙাচোরা জেটির জন্য যাত্রীদেরকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অব্যবস্থাপনা আর অবহেলায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে থাকে বাঁশের তৈরী জেটি। দিনের বেলায় কোন রকমে কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে জেটি পারাপার হতে পারলেও রাতের বেলায় খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। মধ্য বয়সীদের তেমন একটা ঝুঁকি না থাকলেও অসুস্থ ও বয়স্কদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেটি পারাপা হতে হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধায় হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সরেজমিনের গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। জায়গায় জায়গায় বড় বড় ফাঁকা হয়ে গেছে। সেই সাথে জেটি একদিকে পুরোপুরি কাঁত হয়ে গেছে। ফলে জেটিতে পা দিতেই পা প্রচন্ডভাবে স্লিপ কাটার সম্ভাবনা থেকে যায়। তরুণ বয়সীরা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেও বৃদ্ধ বয়সীরা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। গত তিন দিন আগে ট্রলারের মাঝিদের মুখে নতুন জেটি নির্মাণের কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন জেটি নির্মাণ কিংবা সংস্কারও করা হয়নি।

ঘাটের মাঝিদের মাধ্যমে জানা যায় বর্তমানে ঘাটের কোনো ইজারাদার নেই। ঘাটের কোনো সমস্যা হলে মাঝিরাই তার সমাধান করে। ঘাটের কোনো কাজের জন্য টাকা তোলা হলেও কাজ করা হয় খুব সামান্য। এ নিয়ে মাঝিদের মাধ্যেও রয়েছে দ্বন্দ্ব। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে থাকেন। আর ভোগান্তি পোহাতে হয় শীতলক্ষ্যা নদীর দু’পাড়ের বাসিন্দাদের।

জেটি পারাপারে দুর্ভোগের কথা জিজ্ঞেস করে গত শুক্রবার ট্রলারে মাঝি জানিয়েছিল, সেদিন রাতে নতুন জেটি নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তিন পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এখনও জেটি নির্মাণ করা হয়নি। ভাঙাচোরা ও একদিকে পুরোপুরি কাত হয়ে যাওয়া জেটি দিয়েও যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। যাত্রীরা মাঝে মাঝে দুর্ভোগের কথা বলে থাকলে তাদেরকে সান্তনার বাণী শুনিয়ে থাকেন।

দুর্ভোগ প্রসঙ্গে বন্দরের বাসিন্দা কলেজ ছাত্র ফয়সাল বলেন, কয়েক দিন আগে রাতে পার হতে গিয়ে জেটিতে পা পিছলে পড়ে যাই। হাতে প্রচন্ড আঘাত পাই। পড়ে যাওয়ার সময় আমাকে ধরতে গিয়ে আমার বন্ধু রনিও আঘাত পায়। প্রতিনিয়তই এমন হচ্ছে। কিন্তু জেটির সংস্কার হচ্ছে না। ঘাটে দায়িত্বে যারা থাকে তাদের অবশ্যই উচিৎ বাঁশের জেটি বাদ দিয়ে নতুন জেটি নির্মাণ করা।

নুর মোহাম্মদ নামে এক যাত্রী জানান, নদী পার হতে আসা মানুষজন পানিতে পড়তে পড়তে তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। এটা ঠিক করবো কবে কে জানে? দিনের বেলায় কোন রকমে কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে জেটি পারাপার হলেও রাতের বেলায় আরো ভয়াবহ চিত্র দেখা দেয়। কারণ রাতের বেলাতে অন্ধকারের মধ্যে এই ভাঙাচোড়া ও বেহাল দশার জেটিটি দিয়ে অনেক কষ্টে পারাপার হতে হয়। এখানে তো বাতি নাই।

এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে কচুরিপানা। জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা এসব কচুরিপানা আটকে যাচ্ছে ঘাটে আর তাতেই ঝুঁকিতে পড়ছে নৌকা, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও