৭ ৫ ৪ খুনের পর আরো একটি নির্মমতার স্বাক্ষী হলো নারায়ণগঞ্জ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩০ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

৭ ৫ ৪ খুনের পর আরো একটি নির্মমতার স্বাক্ষী হলো নারায়ণগঞ্জ

সাত খুন, পাঁচ খুন, চার খুন, শিক্ষক কর্তৃক ২০ ধর্ষণ, কিশোর গ্যাং এর হাতে প্রকাশ্যে খুনের মত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো নারায়ণগঞ্জে ঘটলো নির্মম এক হত্যাকান্ডের ঘটনা। এবার খালাতো ভাইয়ের হাতেই নির্মমভাবে খুন হয়েছে বোন ও তাঁর দুই শিশু কন্যা।

১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার বহুতল ভবনের ৬ তলার বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

নিহতরা হলো সুমন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৬), তাঁর মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)। নাসরিনের বোনের মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে নিহতের খালাতো ভাই ও ছোট বোনের স্বামী আব্বাস।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ হত্যাকান্ডের ঘাতক হলেন আব্বাস। আব্বাসের সাথে তাঁর স্ত্রীর বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে জেদ করে আব্বাসের শ্যালিকার বাসায় স্ত্রী চলে আসে। সে একটি গার্মেন্টে চাকরি করে। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় চলে যায়। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোন বিরোধের জের ধরেই শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। আর আব্বাস তার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেছে।

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে যান সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। গাড়িতে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এলাকা থেকে অপহৃত হন তিনি ও তাঁর পাঁচ সঙ্গী। একই সময়ে অপহৃত হন আরেক গাড়িতে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক। এর দুদিন পর ৩০ এপ্রিল বিকালে শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া শান্তির নগর এলাকা থেকে নজরুল, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। এর পরের দিন ভেশে উঠে অপহৃত অপর ব্যক্তি লিটন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের রায়ে ২৬ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আদালত। তাদের মধ্যে প্রধান চার আসামী সহ ১৫জনের মৃত্যুদন্ড তথা ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বাকি ১১জনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দন্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে আরো ৯জনকে কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত।

নারায়ণগঞ্জে ৫ খুন
২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল খানকা মোড় এলাকায় আশেক আলী ভিলা নামের একটি বাড়ির নিচ তলার ফ্ল্যাটে একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃংশসভাবে শিলপাটার শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে মাহফুজ। মামীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে একাই একে একে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে মাহফুজ আদালতে দোষ স্বীকার করে। নিহতরা হলেন- তাসলিমা আক্তার (৪০) তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), ভাই মোরশেদুল (২৫) এবং তার জা লামিয়া (২৫)। এ ঘটনায় একমাত্র আসামী মাহফুজকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোনারগাঁয়ে ৪ খুন
২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গলা কেটে হত্যা করা হয় তার দ্বিতীয় স্ত্রী শামীমা আক্তার (৪৫), শামীমার ছোট ভাই রানা (২৫), গৃহকর্মী মনি (২০) ও রেখাকে (২২)।

এ ঘটনায় পরের দিন সকালে বাড়ির গাড়ি চালক ও দারোয়ান বাইরে থেকে কারো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার দুদিন আগে রফিকুল সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সফরে গিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় ৪ খুন
২০০২ সালের ১২ মার্চ বর্তমান আড়াইহাজার থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই বারেক, ফুফাতো ভাই বাদল, আওয়ামী লীগের কর্মী ফারুক ও কবীরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে তৎকালীন গোপালদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার কাশু ও তার লোকজন। এঘটনায় ২৩জনকে পুলিশ অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মোট আসামীর মধ্যে ১৯জন উপস্থিত ও ৪ জন পলাতক রয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও