শ্যালিকা পরে দুই সন্তানকে হত্যা করে আব্বাস : আদালতে স্বীকারোক্তি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩০ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

শ্যালিকা পরে দুই সন্তানকে হত্যা করে আব্বাস : আদালতে স্বীকারোক্তি

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই মেয়েকে নৃশংস হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেছেন ঘাতক আব্বাস মিয়া (৪০)। এতে তিনি স্বীকার করেছেন ক্ষোভের কারণেই তিনি এ হত্যাকান্ডটি ঘটান। ধারালো একটি ছোড়া দিয়ে প্রথমে মা ও পরে দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করে। দেখে ফেলায় নিজ মেয়েকেও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত জখম করে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়।

২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে আব্বাসের দেওয়া ওই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ছয় তলার ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

সকালে হত্যাকান্ডের পর বিকেলেই সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম। রাতেই ওই হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহত গৃহবধূ নাসরিন বেগমের স্বামী সুমন মিয়া বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে সংবাদ সম্মেলনে তিন খুনের ঘাতক আব্বাস মিয়াকে হাজির করা হয়। ওই সময়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, আব্বাস জানিয়েছে শ্যালক তাকে একদিন চড় মারছে। এ কারণেই জিদ ছিল। প্রায়শই আব্বাসের স্ত্রী ও মেয়ে নাকি শ্যালক ও শ্যালিকার বাসয় চলে যেত। তাই সে মনে মনে ঠিক করে এ বাড়ির অস্তিত্বই রাখবেনা যাতে করে আর এ বাড়িতে না আসতে পারে তার পরিবার।

এসপি জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থান শনাক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউসের পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টারের পর্দা ঘেরা টেবিলের নিচ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জানায় প্রথমে শ্যালিকাকে গলা কেটে হত্যা করে পরে একে একে শ্যালিকার দুই সন্তানকে হত্যা করে সে। সবার শেষে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকে সামনে পেয়ে তাকেও কুপিয়ে জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায় সে।

মামলায় বাদী সুমন উল্লেখ করেন, তার স্ত্রীর বড় বোন ইয়াসমিনের সাথে স্বামী আব্বাসের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। বিভিন্ন সময় এই কলহের কারণে তার স্ত্রী নাসরিন বড় বোন ইয়াসমিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় আব্বাসের সাথে মনোমালিন্য হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আব্বাস ও তার স্ত্রী ইয়াসমিনের ঝগড়া হয়ে। পরে সুমনের শ্যালক তথা নাসরিনের ভাই হাসান বড় বোনের স্বামী আব্বাসকে মারধর করে। পরদিন সকালে হাসান তার বড় বোন ইয়াসমিন ও তার মেয়ে সুমাইয়া সহ সুমনের বাসায় বোন নাসরিনের কাছে চলে আসে। ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় সুমন কর্মস্থল সিদ্ধিরগঞ্জস্থ জোনাকী পেট্রোল পাম্প থেকে মিজমিজি সিআইখোলাস্থ আনোয়ার মালিকানাধীন ৬তলা ভবনের ভাড়া বাসায় এসে স্ত্রী ও সন্তানদের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ এবং তার স্ত্রীর বড় বোনের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় খাটের উপর জীবিত দেখতে পায়। পরে ঘটনাটি তার শ্যালক হাসানকে ফোন করে জানালে কর্মস্থল থেকে তার শ্যালক হাসান ও স্ত্রীর বড় বোন বাসায় আসে এবং হাসান জরুরী ভিত্তিতে সুমাইয়াকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজিজুল হক জানান, আদালতে স্বীকারোক্তিতে আব্বাস জানান ক্ষোভের পূঞ্জীভূত থেকেই হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ধারালো ছোড়া নিয়ে ফ্ল্যাটে যায়। প্রথমে সুমনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার নাজমীন (২৮) ও তার দুই কন্যা সন্তান নুসরাত জাহান নিঝু (৮) ও খাদিজা আক্তার সায়মার (২) গলা কেটে হত্যা করে। এসময় চিৎকার চেচামেচি করলে আব্বাস তার নিজের মেয়ে প্রতিবন্ধি সুমাইয়াকেও (১৫) ছোড়া দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই মো. কামাল হোসেন জানান, ট্রিপল হত্যা মামলার আসামী আব্বাস দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। পরে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও