ক্যাসিনোর পর নারায়ণগঞ্জে জুয়া আতংক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

ক্যাসিনোর পর নারায়ণগঞ্জে জুয়া আতংক

রাজধানীতে ক্লাবের নামে গড়ে ওঠা ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরগুলোতে র‌্যাব পুলিশের হানার পরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। এসকল ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরে জড়িয়ে পড়েছিল নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা যাদের বিনিয়োগ ওই সকল ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরে ছিল। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত সহসভাপতি জিকে শামীমকে বিপুল পরিমাণ টাকা, অস্ত্র, বিদেশী মুদ্রাসহ আটক করেছে র‌্যাব। রাজধানীতে একের পর এক ক্যাসিনোগুলোতে চলছে র‌্যাব পুলিশের হানা। যে কারণে রাজধানীতে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরগুলোতে র‌্যাব পুলিশের হানার পরে নারায়ণগঞ্জেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। কারণ বিগত দিনেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ক্লাবগুলোতে অভিযান চালিয়ে জুয়ারীদের আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতা খালেদকে ধরতে অভিযান নামে র‌্যাব। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন।

“প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।”

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসা এবং ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে একযোগে অভিযান শুরু করেন র‌্যাব সদস্যরা। শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদ ফকিরাপুলের ওই ক্লাবের সভাপতি।

কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ওই ক্লাবে মদ আর জুয়ার বিপুল আয়োজন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ২৪ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়। আর গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় ৫৮৫টি ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং অবৈধ অস্ত্র পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের পাশাপাশি ওই এলাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর আহমেদ টাওয়ারে গড়ে তোলা একটি ক্যাসিনোতে র‌্যাবের অভিযান চলে।

এসব অভিযানে মোট ১৮২ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারোয়ার আলম জানান।

মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, আগের দিনের অভিযান নিয়ে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় খালেদকে আসামি করা হয়েছে। অন্যটি ওয়ান্ডারার্সের তিন কর্মচারীসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জিকে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জিকে বিল্ডার্স থেকে শামীমকে আটক করা হয়। অভিযানে শামীমের কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ ১ কোটি ৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রেট) জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে।এছাড়াও ৭টি শর্টগান, বিদেশি মূদ্রা ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন।

এদিকে রাজধানীতে গড়ে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলা হতো। বড় ক্যাসিনো থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ এবং ছোটগুলো থেকে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এসব টাকা স্থানীয় থানা পুলিশ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। টাকার একটি ভাগ হুন্ডির মাধ্যমে পৌঁছে যায় দেশের বাইরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছেও। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এদিকে বিকেল থেকে ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অভিযান শুরুর কথা জানান। ক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজকে আটক করার গুঞ্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে র‌্যাব কর্মকর্তা আশিক বলেন, “আমরা তাকে ক্লাবে পেয়েছি। এখান থেকে তাকে র‌্যাব-২ সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন মেজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্লাব সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান হবে।” কী অভিযোগে এই অভিযান জানতে চাইলে আশিক বিল্লাহ বলেন “আমাদের কাছে ইনফরমেশন রয়েছে। এখানে অবৈধ কিছু জিনিসপত্র রয়েছে। ইনফরমেশন রয়েছে- এখানে ক্যাসিনো রয়েছে।” কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বায়রার সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরগুলোতেও র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালাবে বলে জানা গেছে।

রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা, ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। এসব জুয়ার বোর্ড, ক্যাসিনো পরিচালনার ক্ষেত্রে যত প্রভাবশালীরাই জড়িত থাকুক না কেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর হবে। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জুয়ার বোর্ড ও ক্যাসিনোর তালিকা করা শুরু হয়েছে। র‌্যাব যেমন অভিযান শুরু করেছে তেমনি পুলিশের ভূমিকাও একই রকম।

এদিকে দেড় বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের একাধিক ক্লাবসহ বিভিন্ন স্পটে হানা দিয়ে অসংখ্য জুয়ারীকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া সিটি ক্লাব, ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাবসহ কয়েকটি অভিজাত ক্লাবে হানাও দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশ প্রশাসন। তবে প্রশাসন দফায় দফায় অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছেনা জুয়ার আড্ডা। বরং প্রশাসনের অভিযানের পর পরই আবারো বসছে জুয়ার আড্ডা। এছাড়া বেশ কিছু জুয়ার আড্ডায় জুয়া খেলা ছাড়াও অবাধে মাদক সেবনও চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই সকল জুয়ার আড্ডা পরিচালনাকারীরা সমাজে ভাল মানুষের মুখোশ পড়ে প্রশাসনের অসাধু কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজের মাধ্যমে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে ওইসকল জুয়ার আড্ডা পরিচালনাকারীরা বার বারই রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরেই। জুয়া চক্রের খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে অনেক পরিবার। তবে রাজধানী ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরগুলোতে র‌্যাব পুলিশের হানার খবরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জেও। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের এসকল জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন অপকর্মে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

চলতি বছরের ১০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা এলাকায় একটি জুয়ার আসরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে সেই জমজমাট জুয়ার আসর থেকে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি।

এর আগে ৮ মার্চ সন্ধ্যায় সুতা ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের টানবাজারস্থ কার্যালয়ে অবস্থিত ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাব থেকে ১২ জুয়ারিকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এসময় কার্যালয়ের ৫ম তলায় অবস্থিত হোটেলের ৩ কর্মচারীকেও আটক করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরির্দশক রুপম ও সহকারী উপ-পরির্দশক সামসুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটক করে। আটককৃতরা হলো, আয়কর অফিসের চাকুরীজীবি মেহেদী হাসান ও রহমতউল্লাহ, ডাচ বাংলা ব্যাংকের চাকুরীজীবি শুভ সাহা, আটা ময়দা ব্যবসায়ী মোঃ শামীম, হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান, সুতা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন, সাঈদ, আব্দুর রহমান, খবির ও সুমন, ইট বালু ব্যবসায়ী লিটন, ড্রাইভার আবুল হোসেন, ক্লাবের বাবুর্চি আনোয়ার, কিচেনের কর্মচারী জয়, ক্লাবের স্টাফ রানা। এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী সদর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো.সামসুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইয়ার্ন মার্চেন্টের অভিযান চালিয়ে ১৫জনকে আটক করি যাদের মধ্যে কয়েকজন ষ্টাফও রয়েছেন। কোন টাকা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই টাকা ও প্লেইং কার্ড পেয়েছি তবে টাকার পরিমানটা না গুনে বলতে পারবোনা। ওই ঘটনায় এএসআই সামসুজ্জামান বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

৫ মার্চ মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারীদের হাত থেকে রেহাই পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ও নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ওসির কাছে অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ঋষিপাড়া এলাকাবাসী। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান বাঙালী, মো: মোস্তফা, কাশীনাথ বাবু, মো: নঈম উদ্দিন, মো: সফুর, সূর্য দাস, সুমন মোল্লা ও শ্যামল দাস সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অভিযোগে বলা হয়, মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হয়ে ফের এলাকায় মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। তারা প্রকাশ্য ইয়াবা, গাজা, বিক্রি করছে। একই সাথে রাতে জুয়ার আসর অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে পঞ্চায়েত কমিটি বাধা দিলে তাদেরকে বহিরাগতদের দিয়ে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী রাতে ডিবি পুলিশের ব্লক রেইড পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে  নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নং ঘাট এলাকা, কালিরবাজার, বঙ্গবন্ধু সড়কের আশে পাশের এলাকায় এবং সাইনবোর্ড এলাকায় বিভিন্ন জুয়ার আসর হতে ৪০জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ হতে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সাইনবোর্ড এলাকার শাপলা আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে অসামাজিক কার্যকালাপের জন্য ৩ জন নারী সহ মোট ১০ জন পুরুষ আটক করা হয়। ৪০ জুয়ারী গ্রেফতারের ঘটনায় ডিবির এস আই আলমগীর কবির বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতে শুনানী শেষে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে অর্থদন্ড করে জামিন প্রদান করা হয়। মামলায় জুয়া বোর্ডের প্রধান শাহজাহান সহ অজ্ঞাত ১০-১৫জনকে আসামী করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১০ মার্চ সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের (বিবি রোড) কালিরবাজার এলাকায় অবস্থিত আমান ভবনে সিটি ক্লাবের জুয়ার স্পটে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় জুয়াড়িরা পালিয়ে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া তাস জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে ডিস ব্যবসায়ী শামীম ওরফে পিজা শামীম। তার বাড়ি চাষাঢ়া এলাকাতে। এছাড়া তিনি ওই বন্ধুর পরিচয়ে একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতেও ছিলেন। জেলার তৎকালীন এনডিসি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, অভিযানকালে অনেকগুলো তাসকার্ড পাওয়া গেছে এবং এখানে জুয়া খেলা হয় বলে আমাদের কাছে সংবাদ ছিল। পরবর্তী এ ধরনের কোন কিছু পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, অভিযানের সংবাদ পেয়ে সকলেই পালিয়ে গেছে। দুজন ম্যানেজারকে পাওয়া গিয়েছিল তাদের সতর্ক করা হয়েছে। কোন ধরনের অপকর্ম অন্যায় যেন এখানে না হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর রাতে কালিরবাজার সিটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ২১ জুয়ারীকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার স্বর্নপট্টিতে জুয়া খেলাসহ অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেন স্বর্ণপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীরা। স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, স্বর্ণপট্টি এলাকায় কতিপয় ব্যাক্তি একাধিক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জুয়ার আসর বসিয়েছে। ওইসকল জুয়ার আসরে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ নানা ধরনের অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করছে। এছাড়া গভীর রাতে মদ পান করে হৈ চৈ করে এলাকার শান্তি নষ্ট করছে। বাঁধা দিতে গেলে বিশেষ পেশার পরিচয় এমনকি এমপি রাজনৈতিক নেতাদের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে ও ভয়ভীতিসহ হুমকী দিচ্ছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও