নারায়ণগঞ্জে ৩ হত্যাকান্ডে ৫ লাশ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

নারায়ণগঞ্জে ৩ হত্যাকান্ডে ৫ লাশ

নারায়ণগঞ্জে লাশের মিছিলে নতুন নতুন সব চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে চলেছে। খুনের ঘটনায় পৈশাচিকতা ও নৃশংসার নিকৃষ্টতম উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। যেকারণে লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেই হত্যাকান্ডের দিকে ইঙ্গিত করা হয়। যেকারণে প্রিয়জনরা নিখোঁজ হলেই স্বজনদের মধ্যে বোবা কান্না দেখা যায়।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ড ও লাশ উদ্ধারের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাহে ৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে।

১৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও দুই মেয়েকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্বাস মিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজের সামনে থেকে তাকে ডিবির একটি টিম আটক করে। তিনিই মূল ঘাতক। একটি চাকু দিয়েই তিনজনকে হত্যা করেছে সে। তার আক্রমন থেকে রক্ষা পায়নি নিজের মেয়েও। তাকেও ছুরিকাঘাত করে জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়।

রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে সংবাদ সম্মেলনে তিন খুনের ঘাতক আব্বাস মিয়াকে হাজির করা হয়। ওই সময়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকান্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরে আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ইতোমধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে সে জানিয়েছে ভায়রা তাকে একদিন চড় মারছে। এ কারণেই জিদ ছিল। প্রায়শই আব্বাসের স্ত্রী ও মেয়ে নাকি ভায়রা ও শ্যালিকার কাছে চলে আসে। এসব কারণেই জিদ করেই হত্যা করেছে। তাছাড়া আব্বাস নিজেও একজন ইয়াবা আসক্ত ব্যক্তি।

এসপি জানান, সে জানায় প্রথমে শ্যালিকাকে গলা কেটে হত্যা করে পরে একে একে শ্যালিকার দুই সন্তানকে হত্যা করে সে। সবার শেষে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকে সামনে পেয়ে তাকেও কুপিয়ে জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায় সে।

নিহতরা হলো সুমন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৬), তাঁর মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)। নাসরিনের বোনের মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর বন্দরে খোকন (৩৫) নামে বালু ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

খোকন কুড়িপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন সালু মাদবরের ছেলে। এ ঘটনায় হত্যাকারী সন্দেহে আল আমিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুড়ি ও ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল সেট এবং নগদ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

আল আমিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিতে সে সহ আরো একজন মিলে খোকনকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই ঘরে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে মারধর করার পর খোকন মারা যায়। পরে লাশ বস্তায় ভরে ঘরে পিছনে খালে ফেলে দেয়। আর আল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খোকনের ছিনিয়ে নেওয়া ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আবু তালেব আকাশ (১২) নামের ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি আত্মহত্যা।

নিহত ছাত্র হলো রপসী গন্ধবপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আবু তালেব ওরফে আকাশ ওই মাদ্রাসার হেফজখানার ছাত্র। নিহতের নানী মোসলেমা বেগম বলেন, আমার নাতিকে মেরে বাথরুমে ঝুলিয়ে রেখে। আমি এর বিচার চাই।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নোমান আহমেদ জানান, বিকেলে মাদ্রসার বাথরুমে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় আকাশকে দেখা যায়। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সেখান থেকে উদ্ধার করে শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও