বার বার অপারেশনেও নিরাময় হচ্ছেনা লিংক রোডের ‘টিউমার’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৫ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

বার বার অপারেশনেও নিরাময় হচ্ছেনা লিংক রোডের ‘টিউমার’

গত কয়েক মাসের ব্যবধানেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে টিউমারের মতো ফুলে ফেপে ওঠা অসংখ্য মরণ ফাঁদ অপসারণে একাধিকবার সংস্কার কাজ করেছে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। তবে একাধিকবার অপারেশনেও কোন সুফল মেলেনি। অপসারণ হয়নি টিউমারগুলো। বরং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের টিউমার যেন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। রোববারও লিংক রোডের টিউমারগুলো অপসারণে কাজ করতে দেখা গেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে। তবে ক্রমশই যেন অবনতির দিকেই যাচ্ছে এক বছর আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি।

জানা গেছে, উড়াল সেতুর (যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার) কারণে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের অন্যতম রুট হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। শহরের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এই সড়কটি মেরামতে গেল ৫ বছরে অন্তত ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

২০১৮ সালের জুনে শুরু হয় ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার। ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথের অধীনে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের শুরুতেই কাদাপানিতে পিচ ঢালাই ফেলে নিজেদের অনিয়মের কার্যক্রম তুলে ধরে। সেসময় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সংস্কার কাজের টেন্ডার পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এর আগে সড়কটির সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের ওইসময় সংবাদকর্মীদের বলেছিলেন, ‘রাস্তটি ভালো ভাবে করার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নি¤œ মানের কাজ হলে শাস্তি, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’

এদিকে মন্ত্রীর নির্দেশনার পরেও দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করে মন্থর গতিতে সম্পন্ন করে ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ। তবে কাজ শেষ হতে না হতেই গত বছরের সেপ্টেম্বরে পিচ ফুলে ফেপে উঠে সাইনবোর্ডগামী সড়কের আর্মি মার্কেটের সামনের অংশ। সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে নতুন করে সেখানে ঢালাই মেরামত করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সড়কের শেষ রক্ষা হয়নি। সড়কের উভয় পাশে বেশ কয়েকস্থানে ফুলে উঠে সড়কের পিচ। দিনের বেলা সেই পিচ পাশ কাটিয়ে চলতে পারলেও রাতের অন্ধকারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, কাজীপাড়া, ভূইগড়ে সড়কের উভয় পাশে পিচ ফুলে টিউমারের আকার ধারণ করে। রমজান মাস শুরুর পূর্বে সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও আবারো সড়কটির বিভিন্ন অংশে ফুলে ফেঁপে উঠছে ‘টিউমার’। অভিযোগ রয়েছে সড়কটির নির্মাণ কাজে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী, ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে সড়কটিতে অসংখ্য টিউমারের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ সড়কটি সংস্কারের আগে এমনটি ছিলনা।

চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সড়কে চলাচল করা সিএনজি চালিত অটো রিকশা, অটোরিক্সা, টেম্পু, লেগুনা সড়কের এসকল অংশ মুখস্থ রাখায় পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। কিন্ত গণপরিবহন ব্যতিত অন্যান্য যানবাহন এখানে এসে বাধার মুখে পড়ে। বিশেষ করে প্রাইভেটকার কিংবা রোগী বাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে পরে। মাঝে মাঝে গাড়ির তলার অংশেও ঘষা লাগে এসকল টিউমার। মোটরসাইকেল আরোহীরা সাধারণ গতিতেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন সড়কে চলার সময়। ফলে যেকোন মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশী সমস্যা দেখা দেয় রাতের বেলায়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে সড়কটির দুই পাশে চাষাঢ়া থেকে শিবুমার্কেট (সস্তাপুর) পর্যন্ত নির্মিত ড্রেন মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার।

এদিকে গত কয়েক মাস পূর্বে গণমাধ্যমে লিংক রোডে অসংখ্য টিউমার শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পরে টনক নড়ে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের। পরে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ অফিসের উদ্যোগে এসকল ফুলে ফেঁপে ওঠা টিউমার অপসারণে কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ অফিস। গত কয়েক মাসে একাধিকবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের (সংযোগ সড়ক) চাষাঢ়া থেকে শিবুমার্কেট পর্যন্ত এলাকায় সংস্কার কাজ করে সওজ কর্তৃপক্ষ। রোববারও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারী এলাকায় সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ অফিসকে ইটের খোয়া ফেলে ও পিচ ঢেলে সংস্কার কাজ করতে দেখা গেছে। তবে সংস্কার করার কিছু সময় পরেই সেটা যেন পন্ডশ্রমে পরিণত হয়। কারণ রোববার দুপুরের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে শিবুমার্কেট পর্যন্ত কমপক্ষে ২০টি স্পট। বিশেষ করে অপরিকল্পিতভাবে সড়কটির দুই পাশে চাষাঢ়া থেকে শিবুমার্কেট (সস্তাপুর) পর্যন্ত নির্মিত ড্রেন মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। বৃষ্টির পানি নিস্কাশন হতে না পারায় জলাবদ্ধতার কবলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এক বছর আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকৃত সড়কটি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ডমুখী ২ কিলোমিটার পর্যন্ত নিচের ভিত ঠিক না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে সড়কটিতে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও সুফল মেলেনি। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রনালয়ের কাছে একটি প্রকল্প বরাদ্দের জন্য চিঠি দিয়েছি। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এসমস্যা আর থাকবেনা। এছাড়া বেশ কিছু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেন সংস্কারের জন্য আমরা পদক্ষেপ নিব।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও