নাসিকের বিরুদ্ধে রেলওয়ের ২ মামলা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নাসিকের বিরুদ্ধে রেলওয়ের ২ মামলা

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৭০ বছরের পুরানো স্টাফ কোয়ার্টার ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে প্রায় ১৬ একর জায়গা দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে। এসব কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই গত ৫ অক্টোবর ৩২টি বাসা ও বাড়ী ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবী, দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী কোন সরকারী সম্পত্তি অন্য কোন সরকারী বা বেসরকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত অনুমতি সাপেক্ষেই কেবল লিজ বা দখলভোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এ জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এমনকি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দখলে বাধা দিতে গেলে তাদের উপর এক্সাভেটর (ভেকু) তুলে দিয়ে চাপা দেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইতোমধ্যে এব্যাপারে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

মামলার এজাহারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট কোয়ার্টারগুলোও ভাঙ্গার পায়তারা করছে বলে আশংকা করা হয়। দখলকারী বহিরাগতরা নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কর্মী বলে রেল কর্মকর্তা দাবী করছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দাবী, জায়গাটি বরাদ্দ চেয়ে করা আবেদনের সাড়া না পেয়ে জনস্বার্থে এই জায়গাটি দখল করা হয়েছে। কিন্তু রেলের সরকারী জায়গা জনস্বার্থে দখল করার কোন এখতিয়ার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের কোন জবাব পাওয়া যায়নি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে।

জানা গেছে, নগরীর পুরাতন জিমখানা রোডে রেলওয়ে কলোনীর এ স্থানটিতে অর্ধশত বছরের বেশী সময় ধরে রেল কর্মচারীগণ বসবাস করতেন। গত ৫ অক্টোবর দুপুরে কলোনী ভাঙতে এসকেভেটরসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছাড়াও প্রায় ৫০ থেকে ৬০জন বহিরাগতরা অবস্থান নেন। সেখানে ৩২টি বাসা ও বাড়ীতে থাকা লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় ভাঙচুর ও দখল কার্যক্রম। এসময় বসবাসকারীরা তাদের জিনিসপত্রও ঘর থেকে বের করতে পারেননি। এমনকি রক্ষা পায়নি সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের বই-পুস্তকও। এক কাপড়েই বের হতে হয়েছে সেখানে থাকা প্রায় অর্ধশত পরিবারকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে রেলের বড় কর্তারা সেখানে গিয়ে ভাংচুরে বাধা দিয়েছেন কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের নিয়ে আসা লোকজনের সাথে তারা পেরে উঠেনি।

রেল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে নাসিকের সার্ভেয়ার কালাম মোল্লা, আইন কর্মকর্তা জিএম সাত্তার, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০জনকে।

মামলায় বলা হয়, অবৈধভাবে দখলের সময় রেলওয়ের জিআরপি পুলিশ, রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহনীর (আরএনবি) লোকজন ও রেলের বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তা কর্মচারীগণ বাধা প্রদান করলেও বহিরাগত স্থানীয় লোকজনের কারণে তারা টিকতে পারেনি।

ঘটনাস্থলে থাকা বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আমরা এই অবৈধ দখলে বাধা দিতে গেলে আমাদের কর্মচারীদের উপর এক্সাভেটর (ভেকু) তুলে দেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এক সরকারী প্রতিষ্ঠান বিনা নোটিশে অন্য সরকারী প্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজের ইচ্ছেমত দখল করে নিতে পারে এমন কোন আইন আছে বলে আমার জানা নেই। এই পুরো জমি ও কোয়ার্টারের মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেখানে সরকারের আরেকটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের গায়ের জোরে দখল করে নিবে সেটা কোন সভ্য প্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারেনা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বারবার এ স্থানটি খেলার মাঠ হিসেবে পাওয়ার জন্য বরাদ্দ দিতে দরখাস্ত দেয়ার পরও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কোন প্রকার সাড়া না পাওয়ায় জনস্বার্থে এ জমিটি দখল করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আমরা আইনীভাবে এর মোকাবেলা করবো। এ জমিটিতে একটি খেলার মাঠ করা হবে। এছাড়া উক্ত স্থানের কোন প্রকার রাজস্ব সরকার পেতো না। এসব কোয়ার্টারে নেশাখোরদের আড্ডা হতো ও নিয়মিত নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। বাসার কোন ভাড়াই সরকার পেতো না। যা আমরা অনেক তদন্ত করে দেখেছি।

তবে এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এ এস এম সালাহ উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন আবেদন করলে জমি দেয়া হবে কি না তা ভেবে দেখবে রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জোরপূর্বক আমাদের রেলওয়ের ৩২ টি কোয়ার্টার ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে দখল করে নিবে, কোন সেবাদানকারী সংস্থার এরকম দস্যুপনা কোনক্রমেই সহ্য করা যায় না।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, সংস্থা দুটিই সরকারী প্রতিষ্ঠান। আর নিশ্চয়ই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নোটিশ ছাড়া এসব স্থান ভাঙ্গতে পারে না। তবে বিষয়টি ভালভাবে যাচাই করতে (পরিদর্শক তদন্ত) গোলাম মোস্তফাকে ভাল করে খোঁজ নিতে ও কেনো এমন হলো তা বের করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকে এর মধ্যেই কিভাবে বা কোন আইনে এসব কোয়ার্টার ভাঙ্গা হয়েছে তা জানতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করতে বলা হয়েছে। তবে পূজার কারণে কিছুটা দেরী হচ্ছে। তবে উভয়ই সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক রেলওয়ের নিজস্ব জমি ও অবৈধভাবে কোয়ার্টার দখলের বিষয়টি সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নয়। এমনকি কি কারণে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাও ভালভাবে জানি না। এখন আমি আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় আছি। তবে ঢাকায় এসে সব জেনে বলতে পারবো ও এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও