ফুটপাত দখল : নীরব নাসিক ও জেলা পুলিশ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ফুটপাত দখল : নীরব নাসিক ও জেলা পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের গুরুতপূর্ণ বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতের দখল নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে ঘটেছে মেয়রের উপর হামলার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সেই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে এখনো ইঁদুর বিড়াল খেলা চলছে হকারদের সাথে। নাসিক এবং পুলিশ প্রশাসন যেখানে হকারদের উচ্ছেদে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেই সময় এক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ফুটপাতে ইট ফেলে দখল করে রাখা হয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না নাসিক কিংবা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

বৃহস্পতিবার ১০ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায় পথচারীদের চরম ভোগান্তির দৃশ্য। বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত মেডিনোভা হাসপাতাল ও পাট অধিদপ্তরের মূখ্য পরিদর্শক নারায়ণগঞ্জ (উত্তর) এর কার্যালয় ও সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের মাঝে থাকা একটি পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। ভেঙ্গে ফেলা সেই ভবনের ইট ফুটপাতের উপর রেখে ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে। পথচারীরা যাতে একেবারে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারে এ জন্য বাঁশ ও রশি দিয়ে ফুটপাতের চারদিকে বেড়া দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় একমাস ধরে ফুটপাতে ইট ফেলে দখলে রেখেছে তাঁরা। দিনে শহরে ট্রাক প্রবেশ করতে দেয়না বিধায় সারা দিনে পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে ইটগুলো ফুটপাতে এনে রাখা হয়। রাতে ট্রাকের মাধ্যমে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আরো প্রায় এক মাস সময় লাগবে বলে জানান তাঁরা। কর্মরত শ্রমিকরা যদিও দাবি করেন যে তাঁরা সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়েই ফুটপাতে ইট রাখছেন।

জানা গেছে, গত ১৫ জুন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে বিনা নোটিশে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত দখল মুক্ত করতে চাষাঢ়া থেকে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রায় ২ শতাধিক পুলিশের অভিযানে নগরী ফাঁকা হয়ে যায়। ফুটপাতে হকার থাকা তো দূরের কথা একটা অবৈধ স্থাপনাও রাখতে দেয়া হয়নি। এমনকি ফুটপাতের পাশে দোকানের মালামাল ও আসবাবপত্রও সরিয়ে নিতে হয়। একই সঙ্গে অভিযান করা হয় অবৈধ গাড়ি পার্কিংও।

পরের দিন ১৬ জুন সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু সড়ক, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, ১নং রেল গেইট থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এছাড়া আবার যাতে হকাররা বসতে না পারে এ জন্য শহরে নিয়মিত পুলিশের টহল অব্যাহত রাখে।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার বসাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তাঁর সমর্থিতদের উপর হামলা চালানো হয়। এসময় মেয়র আইভী ও তার সমর্থক সহ অর্ধশাতাধিক আহত হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন অনষ্ঠানে মেয়র আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসাকে কেন্দ্র করে কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

হকারদের বিরুদ্ধে যখন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর তখন শহরের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ফুটপাত এক মাস ধরে দখল করে রাখার পরেও কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।

এ প্রসঙ্গে পথচারী সজীব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নগরবাসীর ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দে চলাচলের জন্য মেয়র আইভী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং যে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে কাজ করেছেন তা প্রশংসনীয়। ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে পুলিশ সুপারের ভূমিকাও অনেক। কিন্তু তাঁরা তাঁদের এই অর্জন ধরে রাখতে পারছেন না। এতগুলো গরীব হকাদের উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু একজন ব্যাক্তি এক মাস ধরে ফুটপাত দখল করে রাখছে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা অনেক হতাশাজনক। আমি আশা রাখবো যাতে দ্রুত তাঁর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রুমনের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও