সড়ক দখল করে ইট বালু কংক্রিট ব্যবসা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪১ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সড়ক দখল করে ইট বালু কংক্রিট ব্যবসা

নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় সিটি করপোরেশনের রাস্তা দখল করে ইট, বালু সহ কংক্রিকটের ব্যবসা করা হচ্ছে। ফলে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ যাত্রীরা। তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে গলাচিপা বোয়ালিয়া খালের নতুন রাস্তায় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। রাস্তাটির চৌরাস্তা মোড় থেকে শুরু করে মাসদাইর বাজারের মোড় পর্যন্ত দুই পাশে বিভিন্ন ভাঙ্গারী দোকান দেওয়া হয়েছে। আর তিন রাস্তার মোড়ে দেওয়া হয়েছে ইট বালু সিমেন্ট সহ কংক্রিট বিক্রির দোকান। ফলে দোকানের ইট, বালু ও কংক্রিট সারাক্ষণ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। শুধু দোকানের নয় নির্মাণাধীন বিভিন্ন বাড়ির ইট বালু ও কংক্রিটও রাস্তার পাশে ফুটপাতে ফেলে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আছে বিভিন্ন ভাঙ্গারী দোকানের পুরানো লোহার আসাবাবপত্র সহ মালামাল ফেলে রাখা হয়। ভাঙারীর মালামালগুলো রাস্তায় ফেলে ভেঙে বস্তাবন্দী করার কারণে ময়লা আবর্জনা জমে থাকে। এসব কারণে প্রতিনিয়ত এ রাস্তায় সিটি হচ্ছে যানজট।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বোয়ালিয়া খালের উপর দিয়ে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ড্রেনের কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় রাস্তার কাজ। যা এখনো চলমান রয়েছে। আর রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধণ সহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। যাতে রাস্তায় কেউ ময়লা আবর্জনা না ফেলে, কোন মালামাল না রাখে, অবৈধ স্থাপনা না বসায় সহ বিভিন্ন কিছু। কিন্তু রাস্তার অর্ধের কাজ শেষ হতেই যে যার মতো করে রাস্তা দখল শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের রাস্তার ঠিকাদার বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আছে যারা রাস্তার পাশে দোকান দিয়েছেন। ভাঙারী থেকে শুরু করে ইট বালু সিমেন্টের দোকান। তারাই রাস্তাটা দখল করে রাখেন। এছাড়া এ রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এর আশে পাশে সকলেই ভবন নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে ইট, বালু, রড, সিমেন্ট সহ নির্মাণসামগ্রী বড় বড় ট্রাকে এনে রাস্তায় ফেলা হয়। ট্রাকগুলো আসার কারণে ড্রেনের স্লাবও ভেঙে গেছে। রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এ রাস্তার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী ও মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি কমাতে বিকল্প এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে রাস্তাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড ও ১৪নং ওয়ার্ডের বার্ডার এলাকা হওয়ায় দুই কাউন্সিলরের কেউ তেমন নজরদারী নেই। একজন অন্যজনের উপর দায়িত্ব দিয়ে সরে যেতে চায়। যার কারণে এ সুযোগটা গ্রহণ করছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যারা দোকান দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য দোকান হয়েছে শুধু মাত্র রাস্তা আরসিসি হওয়ায়। কিন্তু বেশির ভাগই ভাঙারীর দোকান। কিন্তু এসব ভাঙারীর মালামাল রাস্তার উপরে ভাঙে, আগুনে পুড়িয়ে ছাই ফেলে রাখে, গাড়ি, রিকশা ভ্যান পার্কিং করে রাখে। কিছু বলতে গেলে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। তাই অনেকই ভয়ে কিছু বলে না। তবে এ বিষয়ে অবিলম্বে মেয়রকে জানানো হবে। তিনি যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার বলেন, এ বিষয়ে মেয়রকে অবহিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও