তিন মন্ত্রণালয়ে আটকা চাষাঢ়া ফাঁড়ি ও ডাকবাংলোর দেয়াল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৮ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

তিন মন্ত্রণালয়ে আটকা চাষাঢ়া ফাঁড়ি ও ডাকবাংলোর দেয়াল

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ের যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে তিন মন্ত্রণালয়ে দিক তাকিয়ে রয়েছে নগর ও ফতুল্লাবাসী। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের চাষাঢ়া মোড় থেকে জামতলা সড়ক পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটে কবলে পড়ে নগর ও ফতুল্লাবাসী। ৫ মিনিটের রাস্তা হয়ে পড়ে ঘণ্টার অধিক। এই যানজটমুক্ত করতে করতে নারায়ণগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নগর ও ফতুল্লাবাসী।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের যানজট একটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শহরের ভিতরের ফুটপাতে অবৈধ দখলদার হকার মুক্ত করে জনসাধারণ চলাচলে স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে নাসিক ও জেলা পুলিশ। তার অন্যদিক প্রধান সড়ক সরু হয়ে যাওয়া জনসাধারণ ভয়াবহ যানজটে কবলে পড়ে দিনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলছে। বিপাকে পড়ছে, কর্মজীবী মানুষ ও আগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, আর কিছু দিন পর এই চাষাঢ়া হেঁটে চলাও মহা বিপদে পড়বে নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাষাঢ়া মহিলার সামনে থেকে রাস্তা সরু হয়ে পড়েছে। এর কারণ, প্রধান সড়কের পাশে মাটি ও বালু দিয়ে করা রাস্তা, তার উপরে রয়ে থাকে অনেক রিক্সা, বেবি টেম্পু ও অটো রিক্সা। পাশে থাকে ফুটপাতে হকার ও কাদা মাটির রাস্তা। এ সময় প্রধান সড়ক সরু হয়ে পড়লে এলোমেলোভাবে যানবাহন চলাচল শুরু করে। এর কিছু দূর তোলারাম কলেজের মোড়ে সিগন্যাল থাকে সেখানে রাস্তা দুই দিক যানবাহন অতিক্রম কালে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।

এর কারণ হিসেবে চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ি ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দেয়াল। এই দেয়ালগুলো ভেঙ্গে কিছু পিছনে দিক নেয়া হলে সড়কটি বড় হতে পারে। তার সাথে যদি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে জনসাধারণ চলাচলে উত্তর দিকে মত ফুটপাত করে দেয়া হয় তাহলে এই যানজট কবল থেকে মুক্ত পাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এবং নগরবাসী। কিন্তু এই দেয়াল এখন পথে কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের দেয়াল এখন তিনটি মন্ত্রণালয়ে দিক তাকিয়ে রয়েছে। সেগুলো হলেও হল ভূমি, স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই প্রতিষ্ঠানের দেয়াল সরিয়ে নিয়ে পিছনে দিক করা উদ্যোগ নিবে কে?

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর জায়গা মালিক হলো ভূমি মন্ত্রণালয়। ডাকবাংলোর মালিক হলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ হলো এই ডাকবাংলোর নিয়ন্ত্রণকারী। দেয়াল বিষয়ে কোন কিছু করার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’র কিছু করার নেই। তারা জনসাধারণের সুবিধার্থে দেয়াল সরিয়ে নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি আদান প্রদান করতে পারে। কিন্তু এই করার জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে। জেলার জনপ্রতিনিধিদের যদি এগিয়ে আসে তাহলে, দেয়াল সরিয়ে নেয়া সম্ভব।

এই কর্মকর্তা একটি যুক্তি দিয়ে বলেন, ডাকবাংলোর সামনে থেকে অক্টো অফিসের গর্ভমেন্ট গার্লস স্কুল পর্যন্ত যে সড়ক নির্মাণ করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সেই সড়কের মূল জায়গা মালিক কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকা অবস্থা নারায়ণগঞ্জবাসীর আন্দোলনে ফাঁকে এই সড়কটি নির্মাণ করে নাসিক। সেই সড়কটি কিন্তু এখন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ৫ম তলায় নেয়া হয়েছে চাষাঢ়া ফাঁড়ি। শিবু মার্কেটে স্থানান্তর করা হয়েছে হাজীগঞ্জ ফাঁড়ি। এই দুই ফাঁড়ি ভেঙ্গে এখন বহুল ভবনে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে চাষাঢ়া দেয়াল ভেঙ্গে যাওয়া সেই দেয়াল পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে। এই ফাঁড়ি জায়গাও রয়েছে ভূমি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি দায়িত্বে রয়েছে সওজ। তাদের থেকে এই রাস্তা বহু আগে আমরা চেয়েছিলাম কিন্তু আমলাতন্ত্র জটিলতায় সম্ভব হয়নি। এই সড়কটি দুই পাশে নাসিকের ২টি ওয়ার্ড পড়েছে। চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ি ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দেয়াল যদি ভেঙ্গে পিছনে নিয়ে যায় তাহলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের নিরাপদ চলাচলের জন্য ফুটপাত করে দিবে। বায়তুল আমান ভবন, চেইঞ্জেস স্কুল, কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল সামনে ও জামতলা দিক কিছু ফুটপাত করা হয়েছে। এই দেয়ালগুলো সরিয়ে নেয়া হলে, চাষাঢ়া শান্তনা মার্কেট থেকে তোলারাম কলেজ মোড় পর্যন্ত আধুনিক ফুটপাত করতে পারে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি ইতোমধ্যে জনসাধারণের চলাচলে প্রধান প্রধান সড়কে যে কোন স্থান দিয়ে ফুটপাত করার নির্দেশ দিয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও