নিউজিল্যান্ডে নিহত নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুকের পরিবার ভাল নাই

আরিফ হোসেন কনক, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

নিউজিল্যান্ডে নিহত নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুকের পরিবার ভাল নাই

নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বন্দরের প্রবাসী ওমর ফারুকের মা ও বোনেরা এখনো কেঁদে কেঁদে বুক ভাসান। ভাল নেই সেই পরিবারের সদস্যরা। প্রিয় ভাই ও পুত্রকে হারিয়ে মা ও বোনেরা শোকে পাথর প্রায়। তার উপরে পরিবারের একমাত্র উপার্জিত ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। রাষ্ট্রীয় সহায়তা তো দূরের কথা এখন তাদের কেউ খোঁজ খবর নেয় জানিয়েছেন। এজন্য তাদের আক্ষেপের অন্ত নেই। যদিও নিহত ওমর ফারুকের স্ত্রী ও সন্তান এখন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করলেও তার মা বোন কোন ধরনের সহায়তা পাননি বলে জানান।

১৯ অক্টোবর শনিবার সকালে বন্দরের রাজবাড়ী বালুরমাঠ এলাকায় নিহত ওমর ফারুকের বাড়িতে তার মা ও বোনদের সাথে কথা হলে এ তথ্য জানা যায়।

নিহত ওমর ফারুকের মা রহিমা খাতুন কান্না জনিত কণ্ঠে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমার বাবা নাই আমার কিছু নাই। আমার বাবা যতদিন ছিল আমাকে দেখার সবাই ছিল। এখন আমার বাবা নাই আমাকে কেউ দেখার নাই। আমরা কোন সহায়তা পাইনি। আমরা ভাল আছি, বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি কেউ খবরও নেয়না।

ফারুকের মেঝ বোন রুমি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘নিউজিল্যান্ড সরকার ও বাংলাদেশ সরকার থেকে আমরা কোন ধরনের সহায়তা পাইনি। আমাদের কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। আমার মা অসুস্থ্য অবস্থায় রয়েছে। পরিবারটা কিভাবে চলছে, কেমন আছে কেউ সে খবর নেয়নি। আমার ভাই ফারুক আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। যে মারা যাওয়ার পর আমাদের পরিবারকে দেখাশোনা করার মত আর কেউ নেই। এখন আমাদেরকে পরিবারটি কোন রকমে টেনে টুনে চলছে। এই পরিবারের কান্না কখনো শেষ হবেনা।’’

তিনি আরো বলেন, ২৮ আগস্টের ওমর ফারুকের স্ত্রী সানজিদা জাহান নিহা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। ওমর ফারুকের লাশ দেশে নিয়ে আসার তিনদিন পর সে নিউজিল্যান্ডে চলে যায়। এখন নিহা ও ভাই ফারুকের সন্তান নিউজিল্যান্ডে রয়েছে। তাদেরকে ওই দেশের সরকার সহায়তা করছে বলে জানতে পেরেছি।

এদিকে নিহত ওমরের ছোট বোন রানী আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নিউজিল্যান্ডের সেই মসজিদে নিহত নরসিংদির জাকারিয়ার স্ত্রী রিনা ওই দেশের সহায়তা পেয়ে তার শ্বাশুড়িকে ২৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কোন ধরনের সহায়তা পাইনি। এমনকি আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়া হয়নি। আমার মা কিডনি জড়িত রোগ, ডায়াবেটিক, হাইপ্রেসার সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তার ওষুধ খরচ বাবদ মাসিক ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া সংসারের খরচতো রয়েছে। এই অবস্থায় বাড়ির নিচতলার ৯ হাজার টাকা ভাড়া ও স্বজনদের সহায়তায় আমরা কোন রকমে জীবন যাপন করছি। এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে কারো কাছে হাত পাতারও অবস্থা নেই। কারো সহায়তা নিতে পারছিনা। আর আমাদের আয়ের অন্য কোন উৎসও নেই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শুধুমাত্র নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজ খবর নেয়াটাই কি যথেষ্ট। সেই নিহতের উপর নির্ভরশীল মা-বাব, ভাই বোনদের খোঁজ খবর নেয়ার প্রয়োজন কি ছিলনা। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সরকার শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও তার সন্তানকে সে দেশে সহায়তা করছে। কিন্তু তার মা ও বোন যে রয়েছে, তাদের দায়িত্ব নেয়ার যে আর কেউ নেই সে দিকে কারো নজর নেই।

অন্যদিকে নিহত ফারুকের শ্বশুর বাড়িতে গেলে সেখানে তার শাশুড়ি সাফি বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি নরসিংদি থেকে জানান, তার মেয়ে নিহা ও নাতনী এখন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করছে। ওই দেশের সরকার তাদের দেখাশোনা করছে। নিহা এখন পিআর পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। তবে এছাড়া এককালীন আর্থিক কোন সহায়তা দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গেলে এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর নৃশংস হামলায় নিহত হন বন্দরের রাজবাড়ী এলাকার ওমর ফারুক। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে ওমর ফারুক ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে জীবিকার তাগিদে ২০১৫ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর নিউজিল্যান্ডে। ভাগ্যক্রমে নিউজিল্যান্ডের সিটিজেনশীপও পেয়েছিলেন। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করতেন ওমর ফারুক।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও