কাদাপানিতে আটকে ছিল ওয়াজিদ, বাঁচার চেষ্টা ছিল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৩২ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

কাদাপানিতে আটকে ছিল ওয়াজিদ, বাঁচার চেষ্টা ছিল

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় নির্মাণাধীন চারতলা একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় নিখোঁজ স্কুলছাত্র ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদের (১২) মৃতদেহ প্রায় সাড়ে ৪৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ভবনের নিচ তলায় একটি দেয়ালে চাপাপড়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুপুর ২টায় তাকে শনাক্ত করা হয়েছিল। ওই সময়ে সেখানে প্রচুর কাদাপানি থাকায় উদ্ধার করা যায়নি। পরে সেগুলো সরিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ওয়াজিদ ধসে যাওয়া বাড়িটি থেকে কাছেই আব্দুল রুবেল ও মা কাকলী বেগমের সন্তান। সে একই এলাকার ব্যাপারীপাড়ার সানরাইজ স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

রোববার (৩ নভেম্বর) বিকেলে মুন্সীবাড়ি এলাকার এইচ এম ম্যানশন ভবনটি ধসে পড়ে। ওই সময়ে সোহায়ের নামের তারই খালাতো ভাই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু ঘটে। লাশ সেদিনই উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন জানান, ভোর ৬টা থেকে আমাদের ২টি ইউনিট, ৬জন ডুবুরী ও ১৬জন স্বেচ্ছাসেবক নিখোঁজ ওয়াজিদকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। দুপুর সোয়া ২টায় তল্লাশী চালালে সনাক্ত করা হয় যে বারান্দায় দেয়াল চাপা পড়ে আছে ওয়াজিদ। পরে দেয়াল কেটে বিকেল ৪টায় ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ভবনটি মূলত খালের উপর কোন আইন কানুন না মেনে করা হয়েছিল। ফলে ভবনটি হেলে খালের উপর পড়ে যায়। এতে ভবনটির বেশ কয়েকটি রুম পানি ও কাদার মধ্যে তলিয়ে যায়। যার জন্য গত দুইদিনে ভবনটির ২য়, ৩য় ও নিচতলার রুমগুলোতে খোঁজ করতে পারলেও বারান্দায় যাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা উদ্ধার অভিযানের এক পর্যায়ে দেয়াল ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যায়ে নিচের দিকের দেয়ালের নিচে চাপা পড়া ওয়াজিদের পায়ের সন্ধান পাই।

আবদুল্লাহ আরেফিন আরো জানান, শিশুটির মাথা একদিকে ছিল আর পা এলোমেলো ছিল। এতে বুঝা যায় সে যখন চাপা পড়ে তখন সে পা দিয়ে বের হবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল কিন্তু সে সফল হয়নি। একটি স্লাব ও দেয়ালের মাঝে সে চাপা পড়েছিল। তার চেহারা একেবারেই পরিবর্তন হয়ে ঝলসে গেছে।

ওয়াজিদের বাবা রুবেল জানান, তার সন্তান ভবনটির নীচতলায় সোনিয়া নামে এক মহিলা আরবী পড়ান। তার এখানে আরবী পড়তে এসে ভেতরে আটকে পড়েছিল। প্রথম থেকেই ফায়ার সার্ভিসকে আমরা বলেছি যেন ভেতরে অক্সিজেন দেন, নিচে চাপা পড়েছে কিনা দেখেন। আমার সন্তান এখানেই আছে তারা আমাদের কথা শোনেনি। আজকে দুদিন পর আমার সন্তানকে তারা মৃত উদ্ধার করলো।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটি মূলত একটি ডোবার উপর নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানকার মানুষরাও এ ব্যাপারে অনেকবার নিষেধ করেছিলেন। ভবনটি কোন সয়েল টেস্ট কিংবা রাজউকের অনুমতি ছাড়াই নাকি পাইলিং ছাড়া নির্মান করা হয়েছিল। ছিলনা কোন ফাউন্ডেশনও। ভবনটি তিন তলা পর্যন্ত করার পরও লোড নিতে পারছিল কিন্তু সম্প্রতি ভবনটির চারতলার ছাদ ঢালাই দেয়া হয়। আর এ লোড নিতে না পেরে রোববার ধসে পড়ে ভবনটি।

৩ নভেম্বর বিকেলে ভবন ধসে পড়ে মো. সোহায়ের (১০) নামের ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্র নিহত হয়। নিহত সোহায়ের উত্তর গোয়ালবন্দ এলাকার মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে। সে সেখানকার সানরাইজ মডেল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনায় আহতরা হলো বাড়ির মালিক বাবু মিয়ার স্ত্রী রুনা বেগম (৩৫), ভাড়াটিয়া সোনিয়া আক্তার (২৫), ওই বাড়ির মালিকের আত্মীয় মো. ইউসুফ (২৫), অনিক মির্জা (২৩), স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না (১০)।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটি মূলত একটি ডোবার উপর নির্মান করা হয়েছিল। সেখানকার মানুষরাও এ ব্যাপারে অনেকবার নিষেধ করেছিলেন। ভবনটি কোন সয়েল টেস্ট কিংবা রাজউকের অনুমতি ছাড়াই নাকি পাইলিং ছাড়া নির্মান করা হয়েছিল। ছিলনা কোন ফাউন্ডেশনও। ভবনটি তিন তলা পর্যন্ত করার পরও লোড নিতে পারছিল কিন্তু সম্প্রতি ভবনটির চারতলার ছাদ ঢালাই দেয়া হয়। আর এ লোড নিতে না পেরে রোববার ধসে পড়ে ভবনটি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও