খালাতো দুই ভাইয়ের পাশাপাশি দাফন

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৫ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

খালাতো দুই ভাইয়ের পাশাপাশি দাফন

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় নির্মাণাধীন চারতলা একটি ভবন ধসে নিহত দুইজন স্কুল ছাত্র ছিলেন আপন খালাতো ভাই। ৩ নভেম্বর ঘটনার পরেই রোজিয়া বেগমের বাবা হারা একমাত্র সন্তান মো. সোহায়ের (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। ২দিন পর ৫ নভেম্বর তাঁর ছোট বোন কাকলী বেগমের প্রথম সন্তান ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদ (১১) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ছয় মাসের ছোট বড়। দুই ভাইকে কোরআন শিক্ষা পড়ানোর জন্য পাঠানো হতো অপর বোন রুনার বাসায়।

নিহত ওয়াজিদের চাচা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাদ আছর বাবুরাইল মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে কাশিপুর ঈদগাহ কবরস্থানে একই ঘটনায় নিহত খালাতো ভাই মো. সোহায়েরর পাশেই দাফন করা হয়।

দুই ভাইয়ের পাশাপাশি দাফনের বিষয়ে তিনি বলেন, দুটা ভাই একই স্কুলে ও একই শ্রেনিতে পড়ালেখা করতো। সব সময় এক সঙ্গে থাকতো। একই সঙ্গে খেলাধুলা করতো। ঘটনার দিন বিকেলে দুই ভাই এক সঙ্গে আরবি পড়তে এসেছিল।

জানা গেছে, প্রতিদিনের মত গত ৩ নভেম্বর দুই ভাই নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ৪তলা বিশিষ্ট খালার বাসায় গিয়ে পড়তে শুরু করে। ৪টার দিকে খালা রুনা বাইরে থেকে দেখতে পান যে ভবনে ধসে পড়ছে। সাথে সাথে চিৎকার করে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু কেউ বের হতে পারেনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে রুনা বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘দুইজন আমার ঘরে কোরআন শরীফ পড়তেছিল। আমি বাইরে আসছিলাম। বাইরে থেকে দেখি বিল্ডিংয়ে সিঁড়ির কাছে ফাঁকা হয়ে গেছে। আমি চিৎকার দিয়া বলি, ‘সোহায়ের, ওয়াজিদ তাঁড়াতাড়ি বাইরে আয়।’ আমার চিৎকারে ওয়াজিদ বাইরে আসে কিন্তু সোহায়ের বারান্দায় আসে। বিল্ডিং হেলতে শুরু করলে ওয়াজিদ কোরআন শরীফ আনতে আবার ভিতরে দৌড় দেয়। তখন আমিও ভিতরে দৌড় দিলে সিঁড়িতে এক পা দেওয়ার সাথে সাথে বিল্ডিং ভাইঙ্গা পরে। আমার গলা পর্যন্ত পানিতে ডুইবা গেছিল। বাইরে থেইকা আমারে টাইনা উঠাইছে। কিন্তু ওগো আর কোন খোঁজ আমি পাই নাই।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও