চাষাঢ়া ফের ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪০ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

চাষাঢ়া ফের ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফের বেড়েছে প্রকাশ্য ছিনতাই। দিনে দুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব ছিনতাই করছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। ছিনতাইয়ের ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ না করলেও প্রতিদিনই ছিনতকাইয়ের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে ঝামেলা এড়াতে থানায় অভিযোগ না করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে।

জানা যায়, সদ্য বিদায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা পলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গত বছরের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেছিলেন। তিনি যোগাদানের পর পরই সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরে চুরি ছিনতাই সহ সকল অপরাধের মাত্রা কমে আসে।

বিশেষ করে গত ঈদুল ফিতরের পূর্ববর্তী সময়ে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় শতাধিক ছিনতাইকারী পুলিশের জালে আটকা পড়ে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার হারুণ অর রশিদের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একাধিক অভিযানে শুধুমাত্র মে মাসেই চাষাঢ়া থেকে ৪০জন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। এর পর থেকে শহরে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। দীর্ঘদিন ধরে শহরে সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পেরেছে।

তবে সম্প্রতি এসপি হারুনের বিদায়ের খবর শোনার পর থেকে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। এসপি হারুনের বিদায়ের পর থেকে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে চাষাঢ়া মোড়, কলেজ রোড় মোড়, মেট্্েরাহল মোড়, ১নং ও ২নং রেল গেইট এলাকা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা। দিনে দুপুরে এসব জায়গা থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই করছে নগদ অর্থ সহ কাছে থাক মূল্যবান জিনিসপত্র।

একাধিক ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চাষাঢ়া রেল গেইট জামে মসজিদের সামনে, কলেজ রোড মোড়ে সহ জনবহুল এলাকাগুলোতে একাধিক সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের দুই থেকে তিন জনের দল ওৎ পেতে থাকে। তুলনামূলক বয়স্ক ও দুর্বল কাউকে রিকশা কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে দেখলে দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাছে থাকা সব দিয়ে দিতে বলে। অন্যথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পায় ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তাঁরা।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, গুরুতর যেসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয়, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। আর যেগুলো গণমাধ্যমে আসে না এমন ছোটখাট ছিনতাইয়ের ঘটনারয় তেমন গুরুত্ব দেয় না। তবে এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত ও আতঙ্কীত হচ্ছেন। অফিস বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে মানুষ অহরহই এ রকম ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু বাড়তি ঝামেরার ভয়ে থানায় যান না তাঁদের অধিকাংশই।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও