ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ফাঁকা নারায়ণগঞ্জ, নদী পারাপারে দুর্ভোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:২৬ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ফাঁকা নারায়ণগঞ্জ, নদী পারাপারে দুর্ভোগ

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে ফাঁকা হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ। শনিবার দিনগত রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হওয়া রোববার দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী রয়েছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। বৃষ্টিতে নগরীর রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে এমনিতেই শহর ছিল ফাঁকা। তাছাড়া দুদিনের টানা বৃষ্টিতে শহরের রাস্তার পাশে ছোট টঙ দোকানগুলোও বন্ধ দেখা যায়। বন্ধের দিন ও বৃষ্টি হওয়ায় শহরের অন্যতম প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কেরও যানবাহনের চাপ দেখা যায়নি। ফলে রাস্তার ছিল ফাঁকা। হাতে গুনা কয়েকটি রিকশা ও সিএনজি ছাড়া তেমন কোন যানবাহনও দেখা যায়নি। নগরীর ব্যস্ততম ফুটপাতও ছিলও ফাঁকা। খাবারের দোকানগুলো ছাড়া তেমন কোন বড় দোকানও খোলা দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সব থেকে বিপাকে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর এলাকার বাসিন্দারা। ঝড়ের কারণে সকাল থেকেই নৌকা চলাচলে ব্যাহত হয়েছে। এতে করে জরুরী প্রয়োজনে আসা যাত্রীরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেয়াঘাটে অপেক্ষা করেন। তাছাড়া অতিরিক্ত ভাড়ায় অনেকেই নদী পার হয়েছেন। একই অবস্থা শীতলক্ষ্যা নদীর আরো অন্যান্য খেয়াঘাটগুলোতেও।

এদিকে বৃষ্টিতে অন্যতম পাইকারী ও খুচরার দিগুবাবু বাজারও ছিল ফাঁকা। ক্রেতার উপস্থিত কম ও পণ্যের আমদানীও কম হওয়ায় কাঁচসবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে শুক্রবার বিকেল থেকে বন্ধ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌ যান চলাচল এখনও চালু হয়নি। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দু রাত টার্মিনালে অপেক্ষা করলেও রোববার সকলে যানবাহনের গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রা শুরু করেছেন।

সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় অপেক্ষায় থাকা সজিব জানান, সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম নদী পার হওয়ার জন্য। কিন্তু বৃষ্টি ও প্রচ- বাতাস থাকায় কোন নৌকা চলছিল না। কেউ ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে রাজি হয়নি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দুই থেকে চারজনে নৌকা নিয়ে নদী পার হই। এপাড় ওপাড়ে প্রচুর যাত্রী অপেক্ষা থাকাতে দেখা যায়। আর নদীতেও প্রচ- ডেউ ছিল। নদী পার হতে আমাদের অনেক ভয় লেগেছে।

দিগুবাবু বাজারের বিক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, বৃষ্টিতে কোথাও থেকে কাঁচা সবজি আসেনি। যার জন্য সবজির দাম একটু বেশি। তাছাড়া বাজারে ক্রেতাও নেই। সকাল থেকেই বাজার ফাঁকা।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। কিন্তু আল্লাহর কৃপায় তেমন কোন কিছু হয়নি। এখনও পর্যন্ত জেলার কোথাও কোন উপজেলায় কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। জেলার সার্বিক অবস্থা ভালো আছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও