শ্রমিকেরা যখন বাস ভাঙচুরে ওসি তখন ভিডিও ধারণে (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

শ্রমিকেরা যখন বাস ভাঙচুরে ওসি তখন ভিডিও ধারণে (ভিডিও)

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে ২০ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ছিল যানবাহন চলাচল বন্ধ। সড়ক ও মহাসড়কের মধ্যে এলোপাতাড়ি ভাবে বাস ট্রাক ফেলে রেখে অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে করে ঢাকাগামী সকল যানবাহন আটকে যায় ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায়। সে সঙ্গে আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসও। কিন্তু এ দুটি বাসের চালককে মারধর ও গ্লাস ভাঙতে শ্রমিকেরা যখন হামলা চালায় তখন পুলিশ ছিল নিরব দর্শক ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত। একটি গ্লাস ভাঙচুর করায় চালক যখন বাস থামিয়ে দেয় আর শ্রমিকেরাও শান্ত হয় তখন পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা সেখান থেকে প্রস্থান করেন।

বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় মহাসড়কের মহানগর ফিলিং স্টেশনের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। তবে সকাল থেকেই পুলিশ ছিল নিরব দর্শক। শ্রমিকদের সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিতে কিংবা সরিয়ে দিতে পুলিশের উল্লেখযোগ্য কোন কার্যক্রমও দেখা যায়নি। যদিও শেষ বেলায় ডিএমপি পুলিশের সদস্য শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং শ্রমিকেরা স্বেচ্ছায় অবরোধ তোলে নেয়।

ওইসময় সরেজমিনে দেখা যায়, অবরোধে যখন সকল বাস আটকে ছিল এর মধ্যেই হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকেরা বাস দুটিকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। কিছু শ্রমিক বাসের ভেতরে উঠে চালককে মারধর করতে থাকে। আবার কিছু শ্রমিককে চারদিন থেকে বাসের বডিতে লাথি, ঘুষি, থাপ্পর মারতে থাকে। আবার কিছু শ্রমিক চালকের জানালা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। ঠিক ওই মুহূর্তে পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে না গিয়ে বরং কয়েক গজ দূরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায় ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনকে যার সঙ্গে তার বডিগার্ড ও কনস্টেবলরাও একই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছিল। কিন্তু যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুটি থামিয়ে দেয় তখন সটকে যান ওসি ও তার পুলিশ সদস্যরা। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে থাকা শিক্ষার্থী ও চালক হেলপাররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে তা না করে তারাই কিনা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পুলিশ ভুলেই গিয়েছিল নিরাপত্তা দেওয়া তাদেরই কাজ। আজ কোন ঘটনা ঘটলে সেই ভিডিও বা ছবি দেখে দেখে মামলা দিয়ে তারা ফয়দা নিতে পারতো। কিন্তু যখন এমন কিছু হয়নি তাই সটকে গেছে।’

তারা আরো বলেন, ‘বাস দুটি আটকে ছিল কিন্তু পুলিশের কোন কর্মকর্তাকেই দেখা যায়নি এগিয়ে আসতে। এটা কোন গণপরিবহন নয়। এটা ছিল শিক্ষার্থীদের বাস। তাদের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের বাস ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসার। কিন্তু তারা সেটা করেনি। তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকেই আমরা অবরোধে আটকে পড়ি। তখন থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পুলিশের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখি নাই। পুলিশ একবার এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে তখন শ্রমিকেরা মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ চাইলে শ্রমিকদের বুঝি দ্রুত রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু তারা সেটা করেনি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকেই পরিবহন শ্রমিকেরা ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তখন ব্যক্তিমালিকাধীন সহ বেসরকারি গাড়ি চলাচল করছিল। পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় এলোপাতাড়ি যানবাহন ফেলে রেখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ঢাকামুখী রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে করে শিবু মার্কেট থেকেই এ সড়কের ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন যানবাহন। অতিষ্ট হয়ে যাত্রীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে যেতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নারায়ণগঞ্জমুখী সড়ক ফাঁকা থাকালেও যানবাহন নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, বুধবার সকাল থেকে আমরা সাইনবোর্ড এলাকাতে টহলরত ছিলাম। দিনব্যাপী সেখানে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হয়নি। অবরোধকারীরা যাতে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সেজন্য পুলিশ প্রশাসন বেশ তৎপর ছিল। উর্ধ্বতনদের নির্দেশে আমরা অবরোধ চলাকালে বেশ কিছু ছবি ক্যামেরায় ধারণ করি। ওইসময় হয়তো বা শ্রমিকদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠে হই চৈ করে। পুলিশ তাৎক্ষনিক সেই উত্তেজনা নিরসন করে। কিন্তু বাসে ভাঙচুরের সময় সেটা ভিডিও করার কোন ইচ্ছা ছিল না। হয়তো বা এটা কাকতালীয় ঘটে গেছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও