প্রেমের মধ্যে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

প্রেমের মধ্যে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনা নতুন কিছু নয়। যেকারণে প্রেম নামক শব্দটি এখন সমাজের চোখে বেশ দৃষ্টিকটু হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে নানা ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের মত ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। দিনে দিনে এর প্রবণতা বেড়ে চলেছে।

১৪ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাহে মোট ২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

১৫ নভেম্বর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৮ বছরের যুবতীকে ধর্ষনের ঘটনায় লম্পট উজ্জলকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে বন্দর ফাঁড়ি পুলিশ। শুক্রবার রাতে বন্দর রাজবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা বাদী হয়ে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। ধৃত লম্পট উজ্জল বন্দর রাজবাড়িস্থ জনৈক মিনু বেগমের বাড়ি ভাড়াটিয়া ও উক্ত এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মাস পূর্বে বন্দর থানার আদমপুর চৌরাস্তা এলাকার ১৮ বছরের যুবতী মেয়ে জিম করার জন্য বন্দর গার্লস স্কুলের সামনে দাওয়ান জিমে আসে। সে সূত্র ধরে ওই যুবতীর সাথে জিম মালিক বন্দর রাজবাড়ি এলাকার ফারুক মিয়ার লম্পট ছেলে উজ্জলের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে লম্পট উজ্জল বিয়ের করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৩ নভেম্বর সকালে মোবাইল ফোনে উল্লেখিত যুবতীকে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে। পরে ওই দিন দুপুরে ভাড়াটিয়া বাড়িতে যুবতীকে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতা বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এ ঘটনায় ধর্ষিতা যুবতী গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই রাতেই লম্পট উজ্জলকে গ্রেপ্তার করে।

১৫ নভেম্বর রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকায় পোষাক কারখানার শ্রমিক (২৮) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় দুই লম্পটকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া এলাকার ইমানউল্লার ছেলে ইমরান মিয়া ও একই এলাকার মৃত রমজান মোল্লার ছেলে সবুজ মোল্লা।

পোষাক কারখানার শ্রমিকের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে নারী শ্রমিক ফজরের নামাজ শেষে কারখানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে গোলাকান্দাইল হাটের পাশে খোরশেদ মিয়ার রিকসা গ্যারেজের সামনে পৌছালে ইমরান ও সবুজ তাকে ভয় দেখিয়ে বেরিবাঁধের কলাবাগানের ভেতর নিয়ে যায়। পরে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা স্থানীয় এলাকাবাসীকে জানিয়ে বিচার না পেয়ে ধর্ষিতা ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশের শরণাপন্ন হয়। পরে ফাঁড়ি পুলিশের দুটি টিম অভিযান চালিয়ে ইমরান ও সবুজকে গ্রেফতার করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রেমের আড়ালে অনেক সময় দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে কোন কারণে মতের অমিল হলেই ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেয়া হয়। যেকারণে প্রেমের সম্পর্কগুলোকে বর্তমানে নোংরা দৃষ্টিতে দেখা হয়। এরুপ ঘটনার জন্য মূলত উভয় পক্ষকে দায়ী করা হয়। তবে এর মধ্যেও প্রেমের ফাঁদের ফেলে ধর্ষণের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। তাই উভয় ক্ষেত্রে আরো সচেতন হওয়া উচিত। এছাড়াও এক দল নরপশু নানা ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও