মীরজুমলা সড়কে ময়লার ভাগাড় স্থায়ী হচ্ছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৫ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

মীরজুমলা সড়কে ময়লার ভাগাড় স্থায়ী হচ্ছে

নারায়ণগঞ্জ শহরের মীরজুমলা সড়কে অবৈধ দখলের সাথে তাল মিলিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ময়লার স্তূপ। সড়কে দোকানিদের অবৈধ দখলদারিত্বের ফলে সড়কের একপাশ অপরিচ্ছন্ন থেকে যাচ্ছে। ওই সড়কের নির্দিষ্ট স্থানে বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলা হলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছেনা। এতে করে ময়লার স্তূপ আরো বৃহৎ আকার ধারণ করছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে; অন্যদিকে বাজারে আসা ক্রেতা ও দোকানিরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

২৭ নভেম্বর বুধবার দুপুরে দিগুবাবুর বাজরের মীর জুমলা সড়ক ঘুরে ময়লার ভাগাড়ের দৃশ্য দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মীরজুমলা সড়কের একপাশ ঘেঁষে অস্থায়ী ও স্থায়ী দোকান বসেছে। সড়কের মাঝামাঝি অবস্থানে অবৈধ দোকানের পাশে ময়লার একটি স্তূপ দেখা যায়। স্তূপটি একেবারে উন্মূক্ত ছিল; যার ফলে সহজেই ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যেকারণে এর পাশেপাশে দিয়ে কোন পথচারী কিংবা ক্রেতাকে সড়ক পারাপার হতে হলে মুখ চেপে পার হতে হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, সদ্য বদলী হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ থাকাকালীন শহরের মীর জুমলা সড়কটির অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে পুরো সড়ক ফাঁকা করা হয়।

এরপর দীর্ঘদিন সড়কটিতে কোনো অবৈধ দোকান, পার্কিং কিংবা ময়লা-আবর্জনা কিছুই ছিল না। তখন নিয়মিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাস্তাটি পরিষ্কার করে দিয়ে যেত বলেও জানিয়েছে বাজারের ব্যবসায়ীরা। তবে সম্প্রতি এসপি হারুনের বদলির পর থেকে পালটে গেছে সড়কের চিত্র। পূর্বের মত আবারো সড়কটি দখলে নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা অপসারণ না করে রাস্তার উপর স্তুূপাকারে রাখতে শুরু করে। আর এভাবেই তৈরী হয়েছে ময়লার বিশাল স্তুূপ।

ক্রেতা সজিব মিয়া বলছেন, দিগু বাবুর বাজারে প্রবেশ করতে হলে এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ময়লার স্তূপের কারণে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হয়। ময়লার দুর্গন্ধের কারণে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে রাস্তা পারাপার হতে হয়। এছাড়া একটু বৃষ্টি হলে এই সড়কে পা রাখা যায়না। এসব দেখার কেউ নেই।

ক্রেতা জোবেদা বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাজারের এই সড়কটি একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু এখন আবারো নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর সড়কের অর্ধেকটা এখন অবৈধ দোকানিদের দখলে চলে গেছে। একটা নিয়মনীতির মধ্যে আসা উচিত।’

দোকানিরা জানায়, টাকার বিনিময়ে আমাদের দোকান বসাতে দেয়া হয়। দৈনিক হিসেবে দোকান প্রতি টাকা আদায় করা হয়। আমরা ফ্রি তে বসিনা। বসতে দেয়া হয় বলেই আমরা দোকানদারি করছি। বসতে না দিয়ে অন্যত্র চলে যাবো।

ময়লার স্তূপ সম্পর্কে দোকানিরা বলেন, সড়কের মুক্ত অবস্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা উচিত নয়। এখানে ডাস্টবিন দেয়া উচিত। কিন্তু কিছু দেয়া নেই বলেই আমরা বাধ্য হয়ে সড়কে ময়লা ফেলছি। নিয়মিত ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হলে এই সমস্যা থাকতো না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তথ্য মতে শুধুমাত্র শহরের রাস্তাঘাট ও বাজার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নাসিকের ৯১২জন পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে। এছাড়া রয়েছে আবর্জনা সরানোর জন্য দুইটি বুলডোজার ও বেশ কয়েকটি ডাম্পট্রাক। এতো কিছু থাকা সত্ত্বেও এই বাজারের ময়লা-আবর্জনা যথাসময়ে অপসারণ হচ্ছেনা।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও