অভিনব কৌশল ইয়াবা পাচার,৮ হাজার পিছ সহ গ্রেপ্তার ৩

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৯ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

অভিনব কৌশল ইয়াবা পাচার,৮ হাজার পিছ সহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ৮ হাজার পিছ ইয়াবাসহ ৩ ইয়াবা পাচারকারী আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান র‌্যাব ১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

আটককৃতরা হলো খাইরুল আমিন (২২), ফারজানা আক্তার সুমি (৩৪) ও আনোয়ারা (৩৫)। ২৭ নভেম্বর দিনব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ডিএমপির ঢাকার সায়েদাবাদ ও নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকা আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপনসূত্রে জানা যায় কক্সবাজারের একজন ইয়াবা পাচারকারী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে অভিনব কৌশলে বাসযোগে ইয়াবা পাচার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ নভেম্বর এক ইয়াবা পাচারকারী একই কৌশলে কক্সবাজার থেকে বাসযোগে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসছিল।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাফি ফিলিং স্টেশনের সামনে পাকা রাস্তার উপর চেকপোষ্ট স্থাপন করে। চেকপোষ্টে গাড়ী থামিয়ে তল্লাসীকালে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী প্রেসিডেন্ট ট্রাভেলস সিøপিং কোচ থেকে নেমে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দিগ্ধ হিসেবে খাইরুল আমিনকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খাইরুল আমিন কথা ও আচরণে অসংলগ্নতা ও অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পেলেও ইয়াবা পাচারের বিষয়ে সে অস্বীকার করে।

নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে খাইরুল আমিন স্বীকার করে যে উক্ত বাসে তার সিটের কেবিনের পাশের গ্লাস সংলগ্ন বাসের ফ্রেমের সঙ্গে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো চুম্বক দ্বারা ইয়াবা ট্যাবলেট আটকানো আছে। তার দেয়া তথ্য মতে অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির সায়েদাবাদ এলাকা থেকে উক্ত বাসে তার সিটের কেবিনের বাম পাশের গ্লাস সংলগ্ন বাসের ফ্রেমের সঙ্গে চুম্বক দিয়ে আটকানো ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৩ টি পোটলা পাওয়া যায়। পোটলাগুলো খুললে ৩০টি পলিপ্যাকে রক্ষিত ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে খাইরুল আমিন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে দুপুর ৩টায় নারায়ণগঞ্জের দক্ষিন সানারপাড় এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ফারজানা আক্তার সুমিকে আটক করা হয় ও তার বাসা থেকে ১২শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং ৪টায় পূর্ব সানারপাড় এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারাকে আটক করা হয় ও তার বাসা থেকে ৮শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সর্বমোট ৩টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, খাইরুল আমিনের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এলাকায়। সে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বাসযোগে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিনব পন্থায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার ও সরবরাহ করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ২০১৫ সালে একটি হত্যা মামলা এবং ডিএমপির মতিঝিল থানায় ২০১৬ সালে মাদক আইনে একটি মামলা রয়েছে। প্রায় তিন বছর জেলে থাকার পর বছর খানেক পূর্বে জামিনে এসেছে।

পৃথক অভিযানে আটককৃত আসামি ফারজানা আক্তার সুমির স্বামী জাবেদের বাড়ি চট্টগ্রাম শহরে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। ফারজানার স্বামী প্রায় ৩বছর ধরে উক্ত মামলায় জেল হাজতে আছে। সুমিও উক্ত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলার পলাতক আসামি।

আটক অপর আসামি আনোয়ারার স্বামী এনামুল হক জিয়ার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। তারাও স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চিহ্নিত মাদক পাচারকারী। তাদের নামেও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। আটককৃত আনোয়ারার স্বামী এনামুল হক জিয়াও বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো স্বীকার করে যে, তারা পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা করে আসছে। তাদের একমাত্র পেশা ছিল মাদক ব্যবসা।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও