চাচার আশীর্বাদে নারায়ণগঞ্জে উড়ন্ত টাকা ধরেছে ভাতিজা রেজাউল

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৪ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

চাচার আশীর্বাদে নারায়ণগঞ্জে উড়ন্ত টাকা ধরেছে ভাতিজা রেজাউল

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের (সাময়িক বহিস্কৃত) প্রধান সহকারী রেজাউল করিমের ভাগ্যের চাকা ঘুরে তার চাচা শহীদুল্লাহর মাধ্যমে। ২০০১ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন মো. শহীদুল্লাহ। তিনিই রেজাউল করিমকে ২০০১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ দেন।

অনুসন্ধানে জানাযায়, চাঁদপুর জেলার মতলব থানার চরলক্ষীপুর গ্রামের একই বাড়ির চাচা ভাতিজা মো. শহীদুল্লাহ ও রেজাউল করিম। আত্মীয় সম্পর্কে তৎকালীন সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্নাতক পাশের জাল সনদপত্র দিয়ে রেজাউল করিম সরকারী চাকরি হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয় মুন্সিগঞ্জে যোগদানের ২৪ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ অক্টোবর রেজাউল করিম বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে যোগদান করেন। কারন নারায়ণগঞ্জে টাকা উড়ে। রেজাউলের চাচা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ছিলেন। সেই হিসেবে রেজাউল করিম নারায়ণগঞ্জের উড়ন্ত টাকা ধরে আজ কোটিপতি।

জেলা পরিষদের একটি সূত্র জানান, ১৮ বছরের চাকরিতে রেজাউল করিম দুটি গাড়ি ও বহুতল একাধীক বাড়ির মালিক হয় কি ভাবে। দুদক এ সন্ধান হয়তো জানেন না। যদি জানতেন তাহলে দুর্নীতির দায়ে তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করতেন।

উল্লেখ্য, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। রেজাউল করিম গত বছরের ৮ই জানুয়ারি উচ্চ আদালতে গেলে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণ দেবনাথের বেঞ্চ তাকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়ে মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে জামিনের আবেদন করলে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শওকত আলী চৌধুরী তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই তথ্য জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের দুদকের আইনজীবী মো. আশরাফ-উল-ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ রেজাউল করিম দুর্নীতির মাধ্যমে জেলা পরিষদ থেকে হাতিয়ে নেয়া কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রথম স্ত্রীর পর আরেক বিয়ে করেন। আর তার দ্বিতীয় স্ত্রী বিলাশ বহুল জীবন যাপন করতেন। সেই স্ত্রীকে ঢাকার রায়েরবাগে একটি বহুতল বাড়ি কিনে দেয়। একই সঙ্গে অর্ধকোটি টাকা দিয়ে একটি পাজারু গাড়ি কিনে দেন। সেই গাড়ি দিয়ে তার স্ত্রী বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াতেন। গত কয়েক বছর আগে কুয়াকাটা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সে নিহত হয়। ওই সময় গাড়িতে থাকা দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে আল আমিন গুরুতর আহত হয় এবং গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, দুর্নীতির মাধ্যমে রেজাউল করিম ফতুল্লার দেলপাড়া পেয়ারাবাগান এলাকায় ১টি ৫তলা বাড়ি, ১টি ৩লা বাড়ি, ১টি ২তলা বাড়ি, ঢাকার রায়েরবাগে দ্বিতীয় স্ত্রীর বসবাস করা ১টি ৫তলা বাড়ি কিনেছেন। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার চরলক্ষীপুর গ্রামে কিনেছেন অঢেল কৃষি জমি। তার নিজেরও রয়েছে একটি প্রিমিও প্রাইভেটকার। তবে জানাযায়, রেজাউল করিমের অধিকাংশ সম্পদ ছেলে মেয়ে ও মেয়ের জামাতা সহ আত্মীয় স্বজনের নামে করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ দূর্নীতির টাকা রেজাউল করিম পেয়ারাবাগান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাতব্বরিও করতেন। এলাকার অনেক ব্যক্তিদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার পিছু পিছু ঘুরাতেন। এলাকার বিচার শালিশও করতেন। এবিষয়ে জানতে রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও