অটোরিকশা নিয়ে স্থায়ী সমাধান না করেই জব্দ আর জরিমানা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৯ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

অটোরিকশা নিয়ে স্থায়ী সমাধান না করেই জব্দ আর জরিমানা

নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজটের জন্য বড় অংশে দায়ী অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক তা অস্বীকার করার উপায় নেই। যে কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এর প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বহু আগে।

এতদিন শহরে অটোরিকশার প্রবেশ তেমন না থাকলেও সম্প্রতি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও এর অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এসব অবৈধ যান চলাচলে লাগাম টানতে বারবার অভিযান চালিয়ে আটক আর জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ কর্তৃপক্ষ।

ফলে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না শহরে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের প্রবেশ। এতে যেমন যানজটের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তেমনি জরিমানা গুনতে গুনতে নিঃস্ব হতে হচ্ছে অটোরিকশা চালকদের।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র পক্ষ থেকেও এর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। দফায় দফায় অভিযানে পর্যন্ত প্রায় শতাধিক অটোরিকশা আটকও করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত আটক করে আটকে রেখে জরিমানার মাধ্যমে আবারে ছেড়ে দেয়ার মধ্যেই শেষ হচ্ছে অভিযান কার্যক্রম। ফলে একদিক দিয়ে অভিযান চালালে আরেক দিক দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে তারা। আর এভাবে দিনভর অবাধ বিচরণ অব্যাহত থাকছে তাদের।

অপরদিকে চলাচলে সহজ ও দ্রুতগতির হওয়ায় পায়ে চালানো রিকশার থেকে অটোরিকশার দিকেই বেশি ঝুকছে চালকেরা।

সরেজমিনে শহরের বউবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি রিকশার গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায় গ্যারেজগুলোতে পায়ে চালানো বৈধ রিকশার চেয়ে ব্যাটারী চালিত অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা বেশি। দিনদিন পায়ের রিকশার চেয়ে এর চাহিদা আরো বাড়ছে বলে জানান গ্যারেজ মালিকেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্যারেজের মালিক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, পায়ে চালানো রিকশা শুধু শহরে ঢুকতে পারে না এই একটাই সমস্যা। এছাড়া আর সমস্যা নাই। কিন্তু অটো রিকশার মধ্যে কয়েকগুণ ভালো দিক আছে। চালকের কোন কষ্ট নাই, বেশি মানুষ ও মালামাল নিতে পারে, চলে দ্রুত, আবার পায়ের রিকশার থেকে ভাড়াও কম। যে কারণে আগে যারা রিকশা চালাতো এখন তাঁরাও অটো নিতে চায়। কিছু মানুষ আছে যারা অটো রিকশা কন্ট্রোল করতে পারে না শুধু তাঁরাই রিকশা চালায়।

তিনি আরো বলেন, ‘‘পায়ে চালানো রিকশা ভাড়া দিতে হয় ১৬০টাকা আর একটা অটোরিকশার ভাড়া ৩০০টাকা। তাই গ্যারেজে যে রিকশা ছিল সবগুলোতেই ব্যাটারি লাগিয়ে অটো রিকশা বানাইছি। কারণ এইটার ভাড়া আসে বেশি আবার চাহিদাও বেশি। শুধু আমি না আশে পাশে যে কয়টা গ্যারেজ আছে সবাই এই কাজ করছে।’

অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এই রিকশা যখন বের হইছে তখন খুব কম ছিল। তাই শহরে না গেলেও চলতো। এখন এত বাড়ছে যে আমরা ভাড়া পাই না। যে কারণে শহরে ঢুকতে বাধ্য হই। একবার ঢুকতে পারলে জোরে টান দিলে আর পুলিশ ঠেকাইতে পারে না। আবার অনেক জায়গায় পুলিশ থাকেও না। আবার মাঝে মাঝে পুলিশ ধরলেও জরিমানা নিয়া আবার ছাইড়া দেয়। এইভাবেই চলতে থাকে।’

অটোরিকশার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বারবার আটক আর জরিমানা করে অটোরিকশার প্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব না বলে মতামত দিয়েছেন নগরবাসী।

আরিফ হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, শহরে এখন পায়ে চলা রিকশার থেকে কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। এর সংখ্যা দিনদিন আরো বাড়ছে এবং চালকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। চালকদেরকে এই পেশা থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং বিকল্প পেশায় প্রতি উৎসাহি করতে হবে। অন্যথায় জব্দ আর জরিমানার খেলা চলতেই থাকবে। শহরে এর প্রবেশও ঠেকানো সম্ভব হবে না যানজটও মুক্ত হবে না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও