চাষাঢ়ায় প্রেমিক প্রেমিকাকে মারধরে পুলিশ প্রত্যাহার

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৫ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

চাষাঢ়ায় প্রেমিক প্রেমিকাকে মারধরে পুলিশ প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলাম ধর্মের ছেলে ও হিন্দু ধর্মের মেয়ের বিয়ে নিয়ে বসা শালিসে দুইজনকে আটকে মারধরের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আমিনুর রহমান আমানকে সাময়িক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

২ ডিসেম্বর সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে ১ ডিসেম্বর রোববার রাতে চাষাঢ়া চকলেট ফ্যাক্টরীর সামনে পুলিশ ছেলে-মেয়েকে আটক করে রাস্তার উপরেই মারধর করলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে আটকে রাখে। পরবর্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আটকে রাখা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্যাংক কলোনী এলাকা স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গিরের ছেলে রফিক (২১) ও স্থানীয় এক হিন্দু মেয়ের (১৫) মধ্যকার প্রেম ছিল। সম্প্রতি তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাঁরা বিয়ে করতে চায় এবং কোর্ট থেকে নিজেদের ইচ্ছায় অনুমতি নিয়ে আসে। এঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি দুই পরিবারকে একত্রিত করে এবং তাদের মতামত জানতে চায়। এসময় দুই পরিবারের সদস্যরাই রাজি হয়।

রোববার রাত ৯টায় সদর মডেল থানার এস আই আমিনুর রহমান আমানের নেতৃত্বে ৩জন সাদা পোশাকের কনস্টেবল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ছেলে-মেয়েকে খুঁজতে থাকে এবং কারা তাঁদের বিয়ে দিতে চায় তাঁদেরকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে পঞ্চায়েত কমিটি বলে যে আমরা বিয়ে দেই নাই ওরাই কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে। পরবর্তিতে পুলিশের সদস্যরা ছেলে মেয়ে দুইজনের হাত পেছনে দিয়ে হাতকড়া লাগিয়ে রাস্তার উপর মারতে মারতে নিয়ে যেতে থাকে। রাস্তার উপর ছেলে মেয়েকে মারতে দেখে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদেরকে আটকে একটি দোকানের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তিতে দোকানের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলে। পরে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল গিয়ে আটকে রাখা পুলিশ সদস্যদেরকে ছাড়িয়ে যায়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও