নারায়ণগঞ্জে আবারো বাক্স হাতে টাকা তোলা সংগঠনের আবির্ভাব (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৯ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

নারায়ণগঞ্জে আবারো বাক্স হাতে টাকা তোলা সংগঠনের আবির্ভাব (ভিডিও)

বছর খানেক আগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্থানীয় পথশিশুদের পাঠদানের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে আবির্ভাব ঘটেছিল ‘প্রথম অক্ষর ফাউন্ডেশন’ নামে তথাকথিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের।

সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নাম করে বাক্স হাতে শহরে ঘুরে ঘুরে টাকা তোলায় ছিল যাদের প্রধান কাজ। এরপর বেশ বয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে এই সংগঠন সহ রাজধানীর ডজনখানেক সংগঠনের ভাউতাবাজি প্রচার করার পর বন্ধ হয়েছিল এসব সংগঠনের সকল কার্যক্রম। তবে সম্প্রতি আবারো বাক্স হাতে নারায়ণগঞ্জ শহরে টাকা তুলতে দেখা গেছে ‘প্রথম অক্ষর ফাউন্ডেশন’ এর ভলান্টিয়ারদের।

১১ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে চাষাঢ়াস্থ সমবায় মার্কেটের সামনে আবারো সেই সংগঠনের নাম লেখা বাক্স ও লিফলেট হাতে দেখা যায় ১৬-১৮ বছর বয়সী চার তরুণী ও এক তরুণকে। তাঁদের পাশ দিয়ে যারা হেঁটে যাচ্ছিল তাদের হাতেই লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে সাহায্যের আবেদন করে সামনে বাক্স এগিয়ে দিতে থাকে। সেই সাথে পথচারীদের সাহায্যের টাকায় পথশিশুদের জীবন পরিবর্তন করে দেশের উন্নয়নে অংশীদার বানানোর সহ নানান নীতি কথা বলতে থাকে।

অথচ এসব ভলান্টিয়ারের কেউই জানে না নারায়ণগঞ্জের কোথায় তাঁদের সংগঠনের স্কুল, কিভাবে পথশিশুদের পড়ায় আর তাদের দ্বারা উত্তোলন করা টাকাই বা কোথায় যায়।

প্রতিবেদকের কাছে দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী তাদের নাম সনিয়া, মুনিয়া আক্তার দিয়া, শিমু, ডালিয়া ও মো. হাসান। তাঁরা সবাই প্রথম অক্ষর ফাউন্ডেশনের সাধারণ সদস্য এবং মাত্র ১মাস ধরে সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছে। সবাই খিলগাঁও থেকে এসেছে।

এদের মধ্যে মুনিয়া আক্তার দিয়া ও মো. হাসান মডেল কলেজের দ্বাদশ শ্রেনিতে ও শিমু খিলগাও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনিতে পড়ে এবং অন্য দুইজন পড়ালেখা করে না বলে জানায়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের কোথায় তাঁদের সংগঠনের স্কুল এ বিষয়ে তো জানেই না এমনকি ঢাকায় কোথায় তাঁদের স্কুল আছে সেই বিষয়েও তাঁদের কোনো ধারণা নেই।

মো. হাসান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমাদের ম্যানেজার আছে তঁরাই বলেছে যে নারায়ণগঞ্জে এসে টাকা তুলতে। তাঁরা আমাদেরকে বলেছে যে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ও শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে আমাদের স্কুল আছে। এর বেশি আমাদের কিছু বলে নাই। আমাদের ম্যানেজার তাই বেশি কিছু জিজ্ঞেস করি নাই।’

তাঁদের যাতায়াত ও খাবার খরচ কোত্থেকে আসে এমন প্রশ্নে মুনিয়া আক্তার দিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানায়, আমরা যেদিন বের হই সেদিন আমাদেরকে ১২৫ টাকা করে দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে যাতায়াত খরচ চালাই এবং দুপুরে খাবার খাই।

তিনি আরো বলেন, সারা দিনে যত টাকা উঠে আমরা সব আমাদের ম্যানেজারের কাছে জমা দেই। তাঁরা সেই টাকা দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় স্কুলের পথশিশুদের মাঝে খাবার ও বই বিতরণ করে।

এসময় প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে হাসান কেরানীগঞ্জ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. রাশেদ রানার কাছে ফোন দিয়ে প্রতিবেদকের কাছে মোবাইল ধরিয়ে দেয়। এসময় রাশেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘চাষাঢ়ায় আাগে আমাদের কার্যক্রম ছিল। কিন্তু এখন বন্ধ আছে। বন্দরে কার্যক্রম শুরু করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।’’

পরবর্তিতে সংগঠন সম্পর্কে কথা বলার জন্য প্রথম অক্ষর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. ইমন চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম অক্ষর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. ইমন চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক নুসরাত জাহান (লিন্ডা), সেচ্ছাসেবী সহ আরো কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে পথচলা শুরু করেছিল সংগঠনটি। যাদের প্রধান লক্ষই নাকি ছিল চাষাঢ়ার পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। আর এসব পথশিশুদের মাঝে বই ও খাবার বিতরণের জন্য প্রথম অক্ষর সংগঠনের নামে টাকা তুলতে থাকে সংগঠনটি।

সপ্তাহ না পেরোতেই অজানা কারণে শহীদ মিনারে পথশিশুদের পড়ানোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় তাদের। তবে বন্ধ থাকে না সংগঠনের নামে টাকা তোলা। পথশিশুদের সাহায্য করার উদ্যোগ নিয়ে এসব অসহায় পথশিশুদেরকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা কৌশলে ঢোকাতে থাকে নিজেদের পকেটে। যে পথশিশুদের জীবন বদলানোর কথা বলে টাকা তোলা হয়েছিল, বদলায়নি তাঁদের জীবন। অথচ সাধারণ মানুষ জানতেও পারছে না যে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে তাঁরা।

অহসায় পথশিশুদের সাহায্যের নামে যারা প্রতিনিয়ত মানুষদেরকে ঠকিয়ে যাচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষ। সকলের প্রত্যাশা সংগঠনগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় এনে যাতে দ্রুত তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও