চাষাঢ়া শহীদ মিনার এখন মিনি কক্সবাজারের বীচ!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

চাষাঢ়া শহীদ মিনার এখন মিনি কক্সবাজারের বীচ!

মাতৃভাষার জন্য আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মাণাধীন শহীদ মিনারের পবিত্রতা যেমন নষ্ট করা হচ্ছে তেমনি প্রাঙ্গণে বসতে শুরু করেছে খাবার দোকান। মিনার প্রাঙ্গণ এখন অঘোষিত পার্কে পরিণত হতে চলেছে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফাস্ট ফুডের খাবারের দোকান, ফুসকার দোকান, ঝাল মুড়ির দোকান, চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন রকম দোকান দখল করে নেয়। আর ওইসব দোকান থেকে খাবার নিয়ে শহীদ মিনারের বেদীতে বসে খাবার খান ভ্রমণে আসা শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতী সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আর বেদীতেই ফেলে যান খাবারের সঙ্গে দেওয়া উচ্ছিষ্ট কাগজ ও অন্যান্য। ফলে প্রতিনিয়ত নোংরা হচ্ছে চাষাঢ়া শহীদ মিনার।

২৫ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে সরেজমিনে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। তবে এর পাশে পশ্চিম দক্ষিণ কোনে বসে থাকা পুলিশের টহল টিমকে কোন পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি।

এসময় দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠানের জন্য শহীদ বেদিতে চলছে আয়োজন। তবে এর পিছনেই সারিবদ্ধভাবে যুবক যুবতিরা বসে আছেন। আর সেখানেই বাদামের খোসা, ঝালমুড়ি কাগজ, চায়ের টি-ব্যাগ, ফুসকার পানি, টিসু, কফির কাপ সহ বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে শহীদ মিনারের পাশে বেইলি স্কুলের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে। যা তারা দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে করে আসছে। ফলে শহীদ মিনার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। কিন্তু বেলা ১২টার পর থেকেই নোংরা করা শুরু হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে ভীড় থাকে। কিন্তু বিগত কয়েকদিন স্কুল ছুটি থাকায় শহীদ মিনার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছে না শিক্ষার্থীরা। তবে সিটি করপোরেশনের লোকজন প্রতিদিন ঝাড়– দিলেও ময়লা আবর্জনা থেকেই যায়। সকাল ৮টায় পরিচ্ছনের ঘণ্টা না পার হতেই আবারও নোংরা হয়ে যাচ্ছে।

শহীদ মিনারে আসে আবু তালহা বলেন, শহীদ মিনার এখন মিনি কক্সবাজারে বীচ হয়ে গেছে। বড় বড় ছাতা দিয়ে যেভাবে দোকান নিয়ে বসা হয় তা দূর থেকে দেখলে কক্সবাজারের বীচের মতোই লাগে। আর যেভাবে বেদীতে বসে খাবার খায় এবং নোংরা করে রেখে যায় তাতে পার্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ মিনারের পিছনে বসে ধূমপান সহ অসামাজিক ভাবে বসে থাকা এগুলো পবিত্রতা নষ্ট করে।

তিনি বলেন, স্কুলের কলেজের শিক্ষার্থীরা ড্রেস নিয়ে শহীদ মিনারে বসে আড্ডা দেয় কিন্তু এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা এখানে আসতে পারে কিন্তু তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে এটা আমাদের শহীদ মিনার। এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শহীদ মিনারের পাশে আরো জায়গা আছে তারা সেখানে বসে বই বা পড়ালেখা নিয়ে গল্প করতে পারে কিন্তু কোন অসামাজিক ভাবে বসে থাকা কিংবা ধূমপান করা ঠিক না।

স্বদেশ দাস বলেন, ফুটপাতে এখন হকারদের বসতে দেয় না পুলিশ। যদিও এখনও হকাররা ফুটপাত দখল করে রাখে। তবে যখন পুলিশের টহল শুরু হয় তখন শহীদ মিনারের সামনে থাকা ফুটপাত ছেড়ে দিয়ে সবাই ভেতরে প্রবেশ করে যায়। আর ভেতরে পুলিশ কোন বাধা দেয় না তাই এরাও ব্যবসা করে যায়। তাছাড়া শহীদ মিনারের ভেতরে মোটরসাকইল, ফুসকার দোকান আগে থেকেই বসে। যার জন্য এখন নতুন করে খাবার দোকান বসলে কেউ বাধা দেয় না।

তিনি বলেন, এসব দোকানের ফেলা উচ্ছিষ্ট অংশ শহীদ মিনারের পরিবেশ নষ্ট করছে। কিন্তু দেখার বা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কেউ নেই। এগুলোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও