৫নং ঘাটে পানির নিচ থেকে পল্টুন তোলা হলেও ফেরি চালু হবে না

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

৫নং ঘাটে পানির নিচ থেকে পল্টুন তোলা হলেও ফেরি চালু হবে না

বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির ও স্বপ্নের সার্ভিস হচ্ছে ফেরী সার্ভিস। দুই ধাপে ৫টি ফেরী দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ৫নং ঘাট থেকে ময়মনসিংহ পট্টি হয়ে নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরী চলাচল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ৫নং ঘাটের ফেরীর পল্টুন পানিতে তলিয়ে যায়। তবে সম্প্রতি পল্টুনটি পানির নিচ থেকে তোলা হয়েছে। তবে পল্টুন তোলা হলেও আবারো ফেরী সার্ভিস চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

২৫ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে ৫নং ঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় ডুবে থাকা ফেরীর পল্টুনটি পানির নিচ থেকে তোলা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পানির নিচে ডুবে থাকায় রং উঠে গেছে। এছাড়া পল্টুনে ওঠার সিঁড়িটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বন্দরবাসীকে ফেরীর স্বপ্ন দেখিয়ে রাষ্ট্রের কোটি টাকা লোকশান করা ছাড়া কিছুই মনে করছেন না বন্দরবাসী।

বন্দরের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা মোবারক মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ফেরি। আমরা পেয়েও ছিলাম। কিন্তু সেটা শুধু শান্তনা দেওয়ার জন্য ছিল।

তিনি বলেন, এখানে যে ফেরি ছিল তাঁর একমাত্র প্রমাণ হচ্ছে এই পল্টুন। এখানে যে ফেরি ছিল তা হয়তো কেউ বিশ্বাসই করতো না যদি পল্টুনটি না তোলা হতো। কিন্তু আমরা এমন লোক দেখানো ফেরি চাই নাই।

আবু বক্কর নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার রক্ষণাবেক্ষণ না করায় পল্টুন ডুবে পানির নিচে কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছিল। শুধু এখানে না; নবীগঞ্জ ঘাট ও হাজীগঞ্জ ঘাটেও একই অবস্থা। মাত্র একটি ফেরি চালানো হয়। আর ফেলে রাখতে রাখতে এখন ৫টি ফেরির মধ্যে মাত্র একটি ফেরি ভালো আছে। ২টি ফেরি নাই আর ২টি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর এভাবেই রাষ্ট্রের কোটি টাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের শহর ও বন্দরবাসীর সেতুবন্ধনে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ব্রীজ ও ফেরি সার্ভিসের। দীর্ঘদিনের সেই দাবির প্রেক্ষিতে গত বছরে ১৪ জুন শীতলক্ষ্যা নদী হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে ২টি ফেরি দিয়ে সার্ভিসের উদ্বোধন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। একই বছরের ২১ আগষ্ট ৫নং ঘাট থেকে ময়মনসিংহ পট্টি হয়ে ৫নং ঘাট পর্যন্ত ফেরী সার্ভিসের উদ্বোধন করেন তিনি।

কিন্তু ৫নং ঘাটে ফেরীর সার্ভিসের কয়েক মাসের মধ্যেই অনিয়মিত হতে শুরু করে ফেরি চলাচল। এরপর একটি ফেরি রেখে অন্যগুলো নবীগঞ্জ ঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তিতে ৫নং ঘাটে ফেরি চলাচল একেবারে বন্ধ করে দিয়ে সবগুলো ফেরি নবীগঞ্জ ঘাটে সরিয়ে আনা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পল্টুনটি নদীতে তলিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ফেরির পল্টুন কয়েকদিন আগে নদীর নিচ থেকে তোলা হয়েছে। তবে এখানে আবার ফেরি চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই। যাত্রী কম হওয়ায় এমপি মহোদয় নিজেই বন্ধ করার জন্য বলেছিলেন। তাঁর নির্দেশেই বন্ধ করা হয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও