চাষাঢ়া মদের বারে সদস্য ফি ৫০ হাজার!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৫ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

চাষাঢ়া মদের বারে সদস্য ফি ৫০ হাজার!

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় মসজিদের পাশর্^বর্তী প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্ট কাম মদের বারের ৫০ হাজার টাকা সদস্য ফি নির্ধারণ করেছে মালিকপক্ষ। বিনিময়ে ওই সদস্যের মদ সেবনের পারমিট করে দিবে ব্লু পিয়ার কর্তৃপক্ষ। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই সদস্যকে কোন ধরনের হয়রানি করতে না পারে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এভাবেই চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্ট কাম মদের বার বন্ধে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন ডিআইটি মসজিদের খতিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা উলামায়ে পরিষদের সভাপতি আব্দুল আউয়াল। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের তৌহিদি জনতাকে নিয়ে মদের বার উচ্ছেদ করার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

৭ ফেব্রুয়ারী জুমআর নামাজ শেষে ডিআইটি রেল কলোনী জামে মসজিদের সামনে গণ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা উলামায়ে পরিষদের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্ট উদ্বোধনে এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই মদ বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উদ্বোধনের সময়ে মালিক পক্ষ মূলত রেস্টুরেন্ট ব্যবসার কথা জানালেও ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে সেখানে কিছুটা গোপনে মদ ও বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাতে মদ পান শেষে অনেকেউ উল্লাস করতে করতে বের হয়।

এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় মদ পান করার জন্য অনুমোদন রয়েছে সাড়ে ৮শ’ জন মুসলিম ও অমুসলিম ব্যক্তির। এছাড়াও সুইপার রয়েছেন ৫শতাধিক ব্যক্তি। বিদেশী রয়েছেন সাড়ে ৬শ’ জনের মতো। নন মুসলিম ব্যক্তিদের পারমিট বা অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে ব্যাংকে নির্দিষ্ট অংকের টাকার চালান জমা দিতে হয়। সঙ্গে লাগে ডাক্তারের সনদ। যাদের লাইন্সেস রয়েছে তাদের একজন প্রতিমাসে সাড়ে ৭ লিটার মদ ক্রয় করতে পারবেন। এজন্য মদপানকারী ব্যক্তির কাছে থাকা অনুমোদনের কার্ডে ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ রেস্টুরেন্ট কাম বারের প্রচারণার জন্য নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকাতে বিদেশীরা বসবাস করছেন তাদের কাছে লিফলেট পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বারের সদস্য ফি ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেও চালানো হচ্ছে প্রচারণা। ওই বারের সদস্য হলে তাকে যেমন ব্লু পিয়ার কর্তৃপক্ষ মদ সেবনের পারমিট করে দিবে তেমনি সদস্য কার্ড থাকলে তার সঙ্গে অর্থ না থাকলেও কার্ড নম্বর অনুযায়ী তিনি নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ মদ সেবন করতে পারবেন। কারণ দেখা যায় অনেক সময় মদ্যপ ব্যক্তি অতিরিক্ত মদ সেবনের কারণে সেন্সলেস (জ্ঞানহীন) হয়ে পড়েন। সেক্ষেত্রে যাতে টাকা নিয়ে কোন সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বিভিন্ন মহলে সদস্য হওয়ার প্রস্তাবনা দিচ্ছে ব্লু পিয়ার কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা বিভিন্ন এলিট শ্রেনীর বসবাসকারী এলাকায় এজেন্টও নিয়োগ দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শহর ও শহরতলীর অভিজাত এলাকাগুলোতে অনেকটা নিরবেই চলছে এ ধরনের প্রচারণা। পাশাপাশি যেসব এলাকাতে বিদেশীরা বসবাস করে বিশেষ করে ভূইগড়ের রূপায়ন টাউন, বিসিক শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেড, শিবুমার্কেট শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও চলছে নিরবে প্রচারণা।

উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্টটির মালিকপক্ষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিলেও এটি রাজধানীতে অবস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে নিয়েছে মদের বারের লাইসেন্স। কৌশল পরিবর্তন করে গত ২৯ জানুয়ারী উদ্বোধন করা হয়। তখন বলা হয়, এখানে কোন মদের বার চলবে না। মূলত এটা একটি রেস্টুরেন্ট। নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত ৭শ বিদেশীর কথা চিন্তা করেই এটা তৈরি করা হয়েছে। তবে ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে সেখানে কিছুটা গোপনে মদ ও বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাতে মদ পান শেষে অনেকেউ উল্লাস করতে করতে বের হয়।

লাইসেন্স অনুযায়ী এ বারের ওয়্যার হাউজে সর্বোচ্চ ৫ হাজার লিটার মদ, বিয়ার, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় রাখা যাবে। ওয়্যার হাউজের আয়তন ১১৪ বর্গফুট যার মধ্যে দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৭ ফুট ও প্রস্থ্য হবে ৬ দশমিক ১ ফুট। অনুমতি পত্রে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

ওই পত্রে দেখা গেছে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মদের বারের অনুমোদন প্রদান করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এক বছর মেয়াদী এর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের (২০২০) ৩০ জুন। ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের ৯তম তলায় বারটি চলবে লেখা আছে অনুমতি পত্রে। এতে আরো বলা হয়েছে, ৯ম তলায় ৪ হাজার ৩শ স্কয়ার ফুটের বারে ৮০টি আসন রাখা যাবে। বার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ২১ বছরের কম কাউকে পানীয় পরিবেশন করা যাবে না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও