নারায়ণগঞ্জ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণী পাচার বাড়ছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৫ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

নারায়ণগঞ্জ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণী পাচার বাড়ছে

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)। এসময় তাদের কাছে আটক ২ তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ৩৯টি পাসপোর্ট, ৬৬টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ১৮টি বিমান টিকেটের ফটোকপি, ৩৬টি ভিসার ফটোরকপি, ১টি সিপিইউ ও ১৯টি মোবাইল জব্দ করা হয়।

সবশেষ ২৭ জানুয়ারী দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আলেপ উদ্দিন জানান, ২৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও মুগদা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার সহ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো, ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ এলাকার মো. শাহবুদ্দিন (৩৭), তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট নোয়াখালী শ্যামবাগ এলাকার হৃদয় আহম্মেদ কুদ্দুস (৩৫), চাঁদপুর হাজীগঞ্জ এলাকার মো. মামুন (২৪), মাদারীপুর কালকিনি এলাকার মো. স্বপন হোসেন (২০), চট্টগ্রাম মীরসরাই এলাকার মো. শিপন (২২), মুন্সীগঞ্জ লৌহজং এলাকার রিজভী হোসেন অপু (২৭), পটুয়াখালী বাউফল এলাকার মো. মুসা জীবন (২৮) ও চাঁদপুর মতলব এলাকার শিল্পী আক্তার (২৭)।

আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে মধ্যপাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন ড্যান্সবারের মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। শাহাবুদ্দিন তার নিয়োগকৃত বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী নারীদের সংগ্রহ করে। এসব নারীদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন ড্যান্সবারে পাচার করত। আটককৃতরা তারই নিয়োগ কৃত নারী সংগ্রহকারী এজেন্ট। তারা ২ বছরে এক হাজারেরও বেশী তরুণীকে মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করেছে।

উদ্ধারকৃত তরুণীদের বরাত দিয়ে আলেপ উদ্দিন জানান, ‘এ চক্রের সদস্যরা বিদেশে পৌছানো মাত্র নারীদের হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখত। বিদেশে থাকা অবস্থায় কোন নারীকে হোটেল বা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেয়া হত না। ড্যান্স বারে ড্যান্সের পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপে বাধ্য করা হতো। প্রাথমিক অবস্থায় নারীরা এ সকল অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হত। এতে কেউ অন্তঃস্বত্ত্বা হলেও তাদের চিকিৎসা দেয়া হতো না।’

তিনি বলেন, এসব চক্রের মূলহোতাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত গত বছরের ২৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো এলাকা থেকে ৪ তরুণী উদ্ধার সহ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। যারা ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও