অবশেষে চাষাঢ়ায় মদের বার বন্ধ ঘোষণা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৩ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

অবশেষে চাষাঢ়ায় মদের বার বন্ধ ঘোষণা

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকাতে প্যারাডাইজ ভবনে আলোচিত মদের বারটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১২ ফেব্রুয়ারী বুধবার অধিদপ্তরের ডিজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্ত দেন। দুপুরে পরিদর্শনের পর সন্ধ্যায় আর বন্ধের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, শহরের ভাষা সৈনিক সড়ক যেটা বালুরমাট হিসেবে পরিচিত সেখানে রয়েছে প্যারাইজ ক্যাবলস গ্রুপের মালিকানাধীন বহুতল ভবন। এ ভবনের ৮, ৯ ও ১০ এ তিনটি ফ্লোর ৪০ লাখ টাকা অ্যাডভান্সে ভাড়া নিয়ে ‘ব্লু পেয়ার’ নামক একটি সুসজ্জিত বারের ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন করেন এর মালিক গাজী মুক্তার। প্যারাডাইজের পক্ষে ভাড়া দিয়েছেন মোবারক হোসেন।

গত ২৯ জানুয়ারি ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের নামে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে মালিক পক্ষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মদের বার নিয়ে মিথ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে রেস্টুরেন্টটির প্রধান নির্বাহী গাজী মোক্তার হোসেন বলেছিলেন, বারের বিষয়টি মিথ্যা প্রচারণা। এটি একটি রেস্টুরেন্ট। বার করার চিন্তাভাবনা তাদের নেই। সাংবাদিকদের ফাঁকি দেওয়ার কিছু নাই। একটি ভালো মানের রেস্টুরেন্ট করেছি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য। এখানে অনেক বিদেশী ক্রেতা থাকেন। তাদের জন্য বিশ্বমানের খাবার থাকবে এই রেস্টুরেন্টে।

তবে ফেব্রুয়ারীর শুরু হতেই আনুষ্ঠানিকভাবেই মদ বিয়ার বিক্রি শুরু হয়। এ নিয়ে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি আলেম ওলামারাও এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ৭ ফেব্রুয়ারী জুমআর নামাজ শেষে ডিআইটি রেল কলোনী জামে মসজিদের সামনে গণ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল ৭ দিনের সময় বেধে দিয়েছিলেন। বন্ধ না হওয়ায় ঘোষণা অনুযায়ী আগামী শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারীর কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছিল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় মদ পান করার জন্য অনুমোদন রয়েছে সাড়ে ৮শ’ জন মুসলিম ও অমুসলিম ব্যক্তির। এছাড়াও সুইপার রয়েছেন ৫শতাধিক ব্যক্তি। বিদেশী রয়েছেন সাড়ে ৬শ’ জনের মতো। নন মুসলিম ব্যক্তিদের পারমিট বা অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে ব্যাংকে নির্দিষ্ট অংকের টাকার চালান জমা দিতে হয়। সঙ্গে লাগে ডাক্তারের সনদ। যাদের লাইন্সেস রয়েছে তাদের একজন প্রতিমাসে সাড়ে ৭ লিটার মদ ক্রয় করতে পারবেন। এজন্য মদপানকারী ব্যক্তির কাছে থাকা অনুমোদনের কার্ডে ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ রেস্টুরেন্ট কাম বারের প্রচারণার জন্য নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকাতে বিদেশীরা বসবাস করছেন তাদের কাছে লিফলেট পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এছাড়াও বারের সদস্য ফি ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেও চালানো হচ্ছে প্রচারণা। ওই বারের সদস্য হলে তাকে যেমন ব্লু পিয়ার কর্তৃপক্ষ মদ সেবনের পারমিট করে দিবে তেমনি সদস্য কার্ড থাকলে তার সঙ্গে অর্থ না থাকলেও কার্ড নম্বর অনুযায়ী তিনি নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ মদ সেবন করতে পারবেন। কারণ দেখা যায় অনেক সময় মদ্যপ ব্যক্তি অতিরিক্ত মদ সেবনের কারণে সেন্সলেস (জ্ঞানহীন) হয়ে পড়েন। সেক্ষেত্রে যাতে টাকা নিয়ে কোন সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বিভিন্ন মহলে সদস্য হওয়ার প্রস্তাবনা দিচ্ছে ব্লু পিয়ার কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা বিভিন্ন এলিট শ্রেনীর বসবাসকারী এলাকায় এজেন্টও নিয়োগ দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শহর ও শহরতলীর অভিজাত এলাকাগুলোতে অনেকটা নিরবেই চলছে এ ধরনের প্রচারণা। পাশাপাশি যেসব এলাকাতে বিদেশীরা বসবাস করে বিশেষ করে ভূইগড়ের রূপায়ন টাউন, বিসিক শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেড, শিবুমার্কেট শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও চলছে নিরবে প্রচারণা।

লাইসেন্স অনুযায়ী এ বারের ওয়্যার হাউজে সর্বোচ্চ ৫ হাজার লিটার মদ, বিয়ার, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় রাখা যাবে। ওয়্যার হাউজের আয়তন ১১৪ বর্গফুট যার মধ্যে দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৭ ফুট ও প্রস্থ্য হবে ৬ দশমিক ১ ফুট। অনুমতি পত্রে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

ওই পত্রে দেখা গেছে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মদের বারের অনুমোদন প্রদান করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এক বছর মেয়াদী এর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের (২০২০) ৩০ জুন। ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের ৯তম তলায় বারটি চলবে লেখা আছে অনুমতি পত্রে। এতে আরো বলা হয়েছে, ৯ম তলায় ৪ হাজার ৩শ স্কয়ার ফুটের বারে ৮০টি আসন রাখা যাবে। বার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ২১ বছরের কম কাউকে পানীয় পরিবেশন করা যাবে না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও